কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৩ স্বজনের দাফন নারায়ণগঞ্জে

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন নারায়ণগঞ্জে সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে ফতুল্লার পোস্ট অফিসসংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে জানাজা শেষে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহত তিনজন হলেন নাফিজ তেহামি (২৪), তাঁর বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩) এবং ফারিয়ার সাত বছর বয়সী ছেলে মো. ফাইজান নূর।
নাফিজ তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-২ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। দাদার কবরের পাশেই তাঁদের সমাহিত করা হয়েছে।
ফারিয়া ও নাফিজ তেহামির বাবা জিহাদুল কবির অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। আর ফাইজান নূরের বাবা আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত।

স্বজনেরা জানান, পরিবারের সদস্যদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁরা শোকে পাথর হয়ে গেছেন। তাঁদের ভাষ্য, এক দুর্ঘটনায় পরিবারের একটি প্রজন্ম শেষ হয়ে গেল। নাফিজকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল। সেই স্বপ্ন এখন শুধুই স্মৃতি।
পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন করুণ পরিণতি এড়ানো সম্ভব হতো।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গেছে, তাঁরা মোট ১০ জন কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরেক খালাতো বোন মেহজাবিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দাফন করা হয়েছে। অন্য দুই খালাতো বোন ইসরাত জাহান ও লায়লা জাহান নাবিলাকে দাফন করা হয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।









