Ajker Patrika

‘পারিবারিক অশান্তির’ কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে স্কুল-মাদ্রাসার ৩ কিশোরী

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৪৩
‘পারিবারিক অশান্তির’ কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে স্কুল-মাদ্রাসার ৩ কিশোরী

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে একই দিনে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী। তাদের দুজন স্থানীয় বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ও একজন মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। একই দিনে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার পরিবারগুলোর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়তে থাকে গ্রামেও। একপর্যায়ে পরিবারের সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ২ দিনের চেষ্টায় কক্সবাজারে আবাসিক হোটেল থেকে তাদের সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধার কিশোরীরা জানায়—পারিবারিক অশান্তি, কঠোর অনুশাসন, মানসিক নির্যাতন ও স্বাধীনতার অভাব বোধ থেকে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আজ রোববার মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মেনহাজুল আলম।

এসপি জানান, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ১৪ অক্টোবর সকালে তারা তিনজনই আলাদা বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ১৫ অক্টোবর শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, নিখোঁজ এক ছাত্রীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে রাঙামাটির ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের পরিচয় হয়।

সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগর থানা-পুলিশের একটি দল রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিন ছাত্রী চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করছে। এরপর শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ছাত্রীরা নিজেদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে ঢাকার মিরপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ওই হোটেলে তিন দিনের জন্য ২০ হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। হোটেলকক্ষ ভাড়া নিতে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক তাদের সহযোগিতা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া কিশোরীরা জানায়, বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বে পারিবারিক অশান্তি, কঠোর অনুশাসন, মানসিক নির্যাতন ও স্বাধীনতার অভাব বোধ থেকে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আকর্ষণ থেকে সম্ভাব্য বিপদের কথা না ভেবেই তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে যায়। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিবেশী দেশে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল তাদের।

পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কিশোরীদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত