Ajker Patrika

ধারদেনা করে সোলার সেচপাম্প, তিন মাসে চুরি ছয় প্লেট

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৩৯
ধারদেনা করে সোলার সেচপাম্প, তিন মাসে চুরি ছয় প্লেট
বারবার সোলার প্যানেলের প্লেট চুরি হওয়ায় ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষি। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষক মো. কামাল উদ্দিনের সোলার প্যানেলের তিনটি প্লেট চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ভবানীপুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এর তিন মাস আগেও একই স্থান থেকে তাঁর সোলার প্যানেলের আরও তিনটি প্লেট চুরি হয় বলে জানা গেছে। বারবার চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখন ধানের ভরা মৌসুম। ধানের শিষ বের হয়েছে। এ সময়ে সেচ দিতে না পারলে ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোলার প্যানেলের প্লেট চুরির ঘটনায় শুধু মালিক নন, সেচের ওপর নির্ভরশীল অন্য কৃষকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, গতকাল বুধবার সকালে মাঠে গিয়ে তিনি সোলার প্যানেলের তিনটি প্লেট চুরি হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান। তিন মাস আগেও একই জায়গা থেকে তিনটি প্লেট চুরি হয়েছিল। এভাবে বারবার চুরি হলে তিনি কীভাবে আবাদ করবেন, আর অন্য কৃষকদের জমিতে কীভাবে সেচ দেবেন—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

কামাল উদ্দিন আরও বলেন, প্রতিটি সোলার প্যানেলের প্লেটের দাম ২০ হাজার টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে তাঁর ছয়টি প্লেট চুরি হয়েছে। এতে তাঁর ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচও রয়েছে। ধারদেনা করে সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন জানিয়ে তিনি কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।

ধানচাষি মো. পাতুয়ালী বলেন, বুধবার সকালে তাঁর ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠে গিয়ে সোলার প্যানেলের প্লেট চুরির কারণে সেচ বন্ধ দেখতে পান। দ্রুত প্লেটের ব্যবস্থা না হলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। ইতিমধ্যে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে আমরা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব। উপজেলা কৃষি বিভাগ সব সময় চাষিদের পাশে আছে। এ ধরনের সংকটে আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত