শিবালয়ে জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রশ্ন করায় দুই সাংবাদিককে হেনস্তা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ২৫ কেজির পরিবর্তে কয়েকজন জেলেকে ২২ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার তেওতা ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।
হেনস্তার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন মাই টিভির শিবালয় প্রতিনিধি লিটন আহম্মেদ ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের শিবালয় প্রতিনিধি ইমরান নাজির।
সাংবাদিক লিটন আহম্মেদ বলেন, কয়েকজন উপকারভোগী নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাওয়ার অভিযোগ করলে তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে কয়েকজনের চাল ওজন করে ২২ কেজি পাওয়া যায়।
চাল কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেখতে চান বলে অভিযোগ করেন লিটন আহম্মেদ। পরে উপস্থিত ইউপি সদস্য ও কর্মচারীদের দিয়ে সাংবাদিকদের ভিডিও করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
লিটন আহম্মেদের ভাষ্য, ‘এ ঘটনায় সাংবাদিকেরা অসৌজন্য আচরণের শিকার হয়েছেন।’
আলোকদিয়া গ্রামের উপকারভোগী ইউনুছ আলী মোল্লা ও গান্ধাইর গ্রামের শামিন হালদারও ২৫ কেজির পরিবর্তে ২২ কেজি চাল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। উপকারভোগীদের দাবি, চাল কম পাওয়ার বিষয়টি বিতরণকারীদের জানানো হলেও সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে তেওতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো জেলে কম চাল পেয়ে থাকলে তাঁকে ডেকে বাকি চাল দেওয়া হবে।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাথী রানী নিয়োগী জানান, তেওতা ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৬০০ জেলের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ট্যাগ কর্মকর্তা বিশেষ কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সাথী রানী নিয়োগীর ভাষ্য, ‘চাল কম দেওয়ার সুযোগ নেই।’
এদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণে উদ্বেগ জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করা উচিত। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার বলেন, ‘চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









