Ajker Patrika

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: বখাটেদের ভয়ে নারী শিক্ষার্থীরা

  • ক্যাম্পাসসহ স্থানীয় বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় হয়রানির শিকার ছাত্রীরা।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসেও যাতায়াতের সময় বখাটেরা উত্ত্যক্ত করে।
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: বখাটেদের ভয়ে নারী শিক্ষার্থীরা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ক্যাম্পাসের নির্জন সড়ক, স্থানীয় বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তারা সুযোগ পেলেই নারী শিক্ষার্থীদের সামনে করে অশালীন অঙ্গভঙ্গি, দেন শিস, ঘটে শ্লীলতাহানিরও ঘটনা। তবে ভয়, আত্মসম্মান এবং অভিযুক্তদের পরিচয় না জানার কারণে অনেকেই অভিযোগ করতে পারছেন না। এতে নিজ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারী শিক্ষার্থীরা।

এমন ঘটছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢিলেঢালা হওয়ায় বখাটেদের বিচরণ বাড়ছে ক্যাম্পাসে। তবে এই দায় নিতে চাইছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা বলছে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়ে জানতে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের গুগল ফরম দেয়। এমন গুগল ফরমে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন শেখপাড়া, শান্তিডাঙ্গা, আনন্দনগর, থানা গেটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মেসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শিক্ষার্থী থাকেন। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনে তাদের শেখপাড়া বাজারে যেতে হয়। কিন্তু যাওয়া-আসার পথে বখাটেরা সুযোগ পেলেই উত্ত্যক্ত করে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তাঁরা।

যা বলছেন ছাত্রীরা: অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘শেখপাড়ায় বাজার করতে গেলে এক ব্যক্তি দোকানে বসে আমাকে লক্ষ্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি আমার শরীরে হাত দেন। আমি রাগী চোখে তাকালে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।’

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরেই সন্ধ্যার দিকে বহিরাগত কয়েকজনের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছি। একদিন মাগরিবের আজানের সময় কয়েকজন বখাটে আমার পেছন পেছন এসে শিস দিচ্ছিল এবং “আপু, আপু” বলে ডাকছিল। তখন আশপাশে কাউকে পাচ্ছিলামও না। ভয়ে দৌড়ে চলে আসি।’

আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ‘বেলা ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে মেসের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি আমাকে জাপটে ধরেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। আমার চিৎকার শুনে মেসের ম্যানেজার এগিয়ে এলে ওই ব্যক্তি আমাকে হুমকি দিয়ে চলে যান।’ একই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রীকে পথেঘাটে উত্ত্যক্ত করে আসছেন বলে জানান তিনি।

সংকট যে কারণে: বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে থাকেন। ফলে প্রতিদিনই তাঁদের বাসে করে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে হয়। এ যাতায়াতের জন্য অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাসের পাশাপাশি বিভিন্ন গণপরিবহন ব্যবহার করেন। এসব পরিবহনে যাতায়াতের সময়ও নারী শিক্ষার্থীরা প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে শরীরে হাত দেওয়া, গা ঘেঁষে বসার চেষ্টা, অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে বখাটেরা।

ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘শহরে যাওয়ার সময় গড়াই-রূপসা বাসে বখাটেদের হেনস্তার শিকার হতে হয়। অনেক সতর্ক থাকার পরও প্রায়ই ঘটে এমন ঘটনা।’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কমিউনিটি সেন্টার থেকে থানা গেট পর্যন্ত সড়কটিও বেশ নির্জন। ফলে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন নারী শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ওই স্থানে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, দুপুরে হোস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ভ্যানযাত্রী এক তরুণ তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন এবং পাশে বসার ইশারা করেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুজ্জামান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধকল্পে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত