Ajker Patrika

‘ভোটার হলে ধানের শীষে ভোট দিতাম’, বিদ্যালয়ে শিশুদের শপথ পড়ালেন ছাত্রদল নেতা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ০৮
‘ভোটার হলে ধানের শীষে ভোট দিতাম’, বিদ্যালয়ে শিশুদের শপথ পড়ালেন ছাত্রদল নেতা
প্রাইমারি স্কুলে শিশুদের শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রদল নেতা। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পূর্ব ধলডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিশুদের ‘ধানের শীষ’ এবং বিএনপির স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পক্ষে শপথ পাঠ করানোর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা এই শপথ পাঠ করান। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্কুল প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্কুলটিতে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটান।

ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুলমাঠে শিশুদের সারবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ছাত্রদল নেতা মোকাদ্দেস শিশুদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন। এ সময় শিক্ষকেরাও সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মোকাদ্দেস শিশুদেরকে সম্মিলিত স্বরে পাঠ করাচ্ছেন ‘আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’; ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’; ‘আমরা যদি বড় হতাম, রানা ভাইকে (বিএনপি প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা) ভোট দিতাম।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার রায় বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমি শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বিলি করাচ্ছিলাম। এ সময় উপজেলা এবং ওয়ার্ড ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা নিয়ে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিছু কথা বলার পর তারা হঠাৎ শিক্ষার্থীদের বলতে বলেন, “আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষের ভোট দিতাম; আমরা যদি ভোটার হতাম, রানা ভাইকে ভোট দিতাম।” এমন শপথ পাঠ করাতে আমি আপত্তি জানালে তাঁরা আমাকে হুমকি দেন।’ প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি সরকারি চাকরিজীবী। উপজেলা থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরত্বের স্কুলের গিয়ে চাকরি করি। এলাকাটি বিএনপি অধ্যুষিত। আমি তাঁদের সঙ্গে অযথা ঝামেলায় জড়াতে চাইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি বিব্রত। নির্বাচনী আইন আমার জানা ছিল না। অজ্ঞতার বসে এবং অনিচ্ছকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি সংগঠনের কাছেও ক্ষমা চেয়েছি।’

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘ঘটনাটি ওই ছাত্রদল নেতার একান্ত ব্যক্তিগত ভুল। এটা সাংগঠনিক কাজ নয়। তিনি ইতিমধ্যে লিখিতভাবে তাঁর ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর দায় তিনি নিজে গ্রহণ করে ক্ষমা চেয়েছেন।’

বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির কাছে লিখিতভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত