Ajker Patrika

ডিলার নির্ধারিত সময়ে সারের গুদাম না খোলায় কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
ডিলার নির্ধারিত সময়ে সারের গুদাম না খোলায় কৃষি কর্মকর্তাকে মারধর
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের বিরুদ্ধে। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের কাছে ডিলারের গুদামের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নাম মামুন অর রশিদ। তিনি এক মাস আগে ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ব্লক সুপারভাইজারের (বিএস) দায়িত্ব পান। হামলায় মামুন মাথা, নাক ও পিঠে আঘাত পেয়েছেন।

জানা গেছে, পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। দৌড়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই কৃষি কর্মকর্তা। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হামলার শিকার কৃষি কর্মকর্তা মামুন বলেন, ‘ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা মেসার্স অলিল মোল্লা নামে সার ডিলারের গুদামে আজ সকাল থেকে ১২০ বস্তা সার বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ডিলার নির্ধারিত সময়ে গুদাম খোলেননি। সকাল থেকে কৃষকেরা গুদামের সামনে ভিড় করতে থাকেন। আমি ডিলারকে বারবার ফোন করলেও তিনি গুদাম খোলেননি। এর মধ্যে অপেক্ষায় থাকা কৃষকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বেলা ১২টার দিকে কিছু কৃষক আকস্মিক আমাকে ডিলার ভেবে তেড়ে আসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা করে পেটান।’

মামুন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও আমাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সহায়তায় তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে গুদাম না খোলায় কৃষকেরা ব্লক সুপারভাইজারের ওপর হামলা করেছে। ইউনিয়নে সারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ কৃষক সারের জন্য আসছেন, তা সন্দেহজনক। ভিড়ে অন্য পক্ষ প্রবেশ করে উসকানি দিচ্ছে কি না দেখা দরকার।’

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরীন বলেন, ‘ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে অনুলিপি দেওয়া হবে। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন। কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলাকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘শত শত মানুষ ছিল। পুলিশ ছিল তিনজন। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ থেকে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে মেসার্স অলিল মোল্লার মালিক অলিল মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত