Ajker Patrika

সারের দাবিতে কর্মকর্তার ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কৃষকদের

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৪৮
সারের দাবিতে কর্মকর্তার ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কৃষকদের
ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের শহীদ মোড়ের একটি ডিলার পয়েন্টের সামনে সারের দাবিতে আগুন জ্বেলে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অজ্ঞাত আসামি থাকায় হয়রানি ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের শহীদ মোড়ের একটি ডিলার পয়েন্টে সারের দাবিতে কয়েক শ কৃষক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কৃষকদের অভিযোগ ছিল—চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হচ্ছিল না এবং অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রভাবশালী ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বেশি সার দেওয়া হচ্ছিল। বারবার ঘুরেও সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একপর্যায়ে বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের অবরুদ্ধ করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীকালে তাঁরা কাছের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এ ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন।

ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন কৃষক জানান, সেদিন সবাইকে ১০ কেজি করে সার দেওয়ার কথা বলা হলেও ডিলারের মাধ্যমে অনেকে টাকা দিয়ে কয়েক বস্তা করে সার নিয়েছেন। সাধারণ কৃষকদের কেউ কেউ চার-পাঁচবার ঘুরেও সার পাননি। এতে ক্ষোভ বাড়ে এবং একপর্যায়ে ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ও বিএসের ওপর হামলার উসকানি দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কুলাইতে না পাইরা কৃষি অফিসার আর বিএসকে অন্য মানুষের বাড়ির ঘরের ভিতর ঢুইকা দরজা দিয়ে জীবন রক্ষা করছে। না হইলে বিরাট সমস্যা হইতো। নিচে ছয়-সাতশো মানুষ ছিল। পরে ইউএনও সাহেব আইসা মাইকে কইল, “তোমরা এখন খুচরাভাবে সার পাবা—দুই জনে এক বস্তা।” কিন্তু সেদিনই টাকা ওয়ালা গৃহস্থরা টাকা দিয়ে একেকজন পাঁচ-সাত বস্তা করে সার পাইছে।’

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘এখন মামলা হইছে। গ্রামের কৃষকেরা ঘরে থাকতে পারতেছে না। গ্রেপ্তারের ভয়ে রাইতে পালায় থাকতেছে।’

গুনাইয়েরকুটি গ্রামের এক কৃষক বলেন, ‘দুইজনকে ধইরা নিয়া গেছে। প্রতি রাইতে পুলিশ আসতেছে। আমরা সারা দিন রইদে কাজ করি। রাইতে বাড়িতে ঘুমাইতে পারি না। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে রাত কাটাই।’

আরেক কৃষক রমজান আলী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ছিলাম। কৃষি অফিসার আর বিএসকে সহযোগিতা করছি। যারা দোষ করছে, তাদের ধরলে ধরুক। কিন্তু অজ্ঞাত আসামি নিয়ে এখন সবার ভয়। পুলিশ কখন কাকে ধরে, তার ঠিক নাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মামলার বাদী আব্দুল জব্বার মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা ও কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

কৃষকদের হয়রানি ও আতঙ্কের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই। সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত