শাহজাহান সাজু

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের সারদারঞ্জন রায়ের হাত ধরে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ক্রিকেট চালু হয়। তিনি ১৮৫৮ সালের ২৬ মে তৎকালীন খুকুরপাড়া গ্রামের বিখ্যাত রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই গ্রামেই গঠিত হয়েছিল উপমহাদেশের সর্বপ্রথম ক্রিকেট টিম।
ক্রিকেট দিয়ে বিখ্যাত হলেও সারদারঞ্জন রায় কীভাবে ক্রিকেট শিখেছেন সেই ইতিহাস স্পষ্ট নয়। ঢাকা কলেজে ভর্তির পর থেকে তিনি ক্রিকেটের পরিপূর্ণ চর্চা শুরু করেন। তাঁর ভাইদের মধ্যে কুলদারঞ্জন, প্রমদারঞ্জন রায়ও ক্রিকেট খেলতেন। প্রমদারঞ্জন রায় তখন 'সায়েন্টিফিক বোলার’ হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন।
সারদারঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে ১৮৮০ সালের দিকে ঢাকা কলেজ ক্লাব গড়ে ওঠে। এরপর ঢাকায় ক্রিকেটের প্রচলন বাড়তে থাকে। অবিভক্ত বাংলায় প্রথম ক্রিকেট ক্লাব হিসেবে সেটি খ্যাতি অর্জন করে। ১৮৮৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সি ক্লাবের সঙ্গে এক খেলায় ঢাকা কলেজ জয়লাভ করে। এরপর একের পর এক এই ক্লাবটি সাফল্য লাভ করতে থাকে।
অপরদিকে তখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষদের সংগ্রাম চলছিল। তখন তিনি জাতীয়তাবাদি চেতনা উজ্জীবিত করতে আরও শক্তিশালী ক্রিকেট দল তৈরি করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ স্বদেশী দল ব্রিটিশদের কয়েকবার পরাজিত করে নির্যাতিত মানুষদের সংগ্রামী করে তুলতে সাহায্য করে। শুধু যে বিদেশি দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়েছেন তিনি এমন নয়, যেখানে অন্যায় দেখেছেন, সেখানেই সোচ্চার হয়েছেন।
ক্রিকেটকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন জীবনের সবকিছুতে। ক্রিকেট খেলার সামগ্রী উৎপাদন করে জীবন নির্বাহের মতো একটা কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এ প্রতিষ্ঠান ক্রিকেট খেলার সরঞ্জামাদি সহজপ্রাপ্যতায় যেমন উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল, তেমনি খ্যাতিও পেয়েছিল অনেক। ১৮৯৫ সালে ‘এস রায় অ্যান্ড কোম্পানি’ বাংলার প্রথম ক্রিকেট সামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। সারদারঞ্জন পেশায় ছিলেন শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ। ক্রিকেট ছিল তাঁর নেশা।
কলকাতায় যখন পূর্ববাংলার খেলোয়াড়দের প্রতি অবহেলা বৃদ্ধি পায় তখন কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত পূর্ব বাংলার মানুষজন মিলে তাঁদের প্রতি অবহেলার প্রতিবাদে ১৯২০ সালে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি।
ব্রিটিশরা ক্রিকেটকে সীমাবদ্ধ রেখেছিল অভিজাতদের মধ্যে। সেখান থেকে বের করে ক্রিকেটকে সাধারণ মানুষের খেলা করে তোলেন সারদারঞ্জন রায় চৌধুরী। ক্রিকেট কোচ হিসেবেও সারদারঞ্জন ছিলেন অনন্য। তৎকালীন সময়ে সারদারঞ্জনকে ইংল্যান্ডের ড. ডব্লু ডি গ্রেসের সঙ্গে তুলনা করা হতো। এই তুলনা আরেক কারণে যুক্তিযুক্ত ছিল। ড. গ্রেসকে যেমন বলা হতো ইংল্যান্ডের ‘জনক’ তেমনি অধ্যক্ষ সারদারঞ্জনের এক পরিচয় ছিল বাংলার ক্রিকেটের ’জনক’ রূপে।
সারদারঞ্জন রায়ের নানা পদ্ধতি সেই সময় তরুণদের ক্রিকেটে অনুরাগ ও উৎসাহকে বাড়িয়ে তুলেছিল। এই মহান ক্রিকেটার নিজের সীমাবদ্ধতার মাঝেও ক্রিকেট খেলার বিকাশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।
ইএসপিএন, টেন স্পোর্টসের ক্রিকেট গবেষক ড. বড়িয়া মজুমদারের মতে, ভারতে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করে পার্সিরা, মুম্বাইয়ে। কিন্তু ক্রিকেটকে তাঁরা সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল অভিজাত মানুষদের মধ্যে। সারদারঞ্জন রায়ই প্রথম মানুষ, যিনি ক্রিকেটকে গণমানুষের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। ক্রিকেটের জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই করেছেন দুই হাত খুলে। তাই তাঁকে উপমহাদেশের ক্রিকেটের অগ্রদূত তো বটেই উপমহাদেশের ক্রিকেটের জনক বললেও ভুল কিছু হবে না।
উপমহাদেশে ক্রিকেটের জনক সারদারঞ্জন রায় চৌধুরী ১ নভেম্বর ১৯২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের সারদারঞ্জন রায়ের হাত ধরে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ক্রিকেট চালু হয়। তিনি ১৮৫৮ সালের ২৬ মে তৎকালীন খুকুরপাড়া গ্রামের বিখ্যাত রায় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই গ্রামেই গঠিত হয়েছিল উপমহাদেশের সর্বপ্রথম ক্রিকেট টিম।
ক্রিকেট দিয়ে বিখ্যাত হলেও সারদারঞ্জন রায় কীভাবে ক্রিকেট শিখেছেন সেই ইতিহাস স্পষ্ট নয়। ঢাকা কলেজে ভর্তির পর থেকে তিনি ক্রিকেটের পরিপূর্ণ চর্চা শুরু করেন। তাঁর ভাইদের মধ্যে কুলদারঞ্জন, প্রমদারঞ্জন রায়ও ক্রিকেট খেলতেন। প্রমদারঞ্জন রায় তখন 'সায়েন্টিফিক বোলার’ হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন।
সারদারঞ্জন রায়ের নেতৃত্বে ১৮৮০ সালের দিকে ঢাকা কলেজ ক্লাব গড়ে ওঠে। এরপর ঢাকায় ক্রিকেটের প্রচলন বাড়তে থাকে। অবিভক্ত বাংলায় প্রথম ক্রিকেট ক্লাব হিসেবে সেটি খ্যাতি অর্জন করে। ১৮৮৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সি ক্লাবের সঙ্গে এক খেলায় ঢাকা কলেজ জয়লাভ করে। এরপর একের পর এক এই ক্লাবটি সাফল্য লাভ করতে থাকে।
অপরদিকে তখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষদের সংগ্রাম চলছিল। তখন তিনি জাতীয়তাবাদি চেতনা উজ্জীবিত করতে আরও শক্তিশালী ক্রিকেট দল তৈরি করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ স্বদেশী দল ব্রিটিশদের কয়েকবার পরাজিত করে নির্যাতিত মানুষদের সংগ্রামী করে তুলতে সাহায্য করে। শুধু যে বিদেশি দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়েছেন তিনি এমন নয়, যেখানে অন্যায় দেখেছেন, সেখানেই সোচ্চার হয়েছেন।
ক্রিকেটকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন জীবনের সবকিছুতে। ক্রিকেট খেলার সামগ্রী উৎপাদন করে জীবন নির্বাহের মতো একটা কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এ প্রতিষ্ঠান ক্রিকেট খেলার সরঞ্জামাদি সহজপ্রাপ্যতায় যেমন উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল, তেমনি খ্যাতিও পেয়েছিল অনেক। ১৮৯৫ সালে ‘এস রায় অ্যান্ড কোম্পানি’ বাংলার প্রথম ক্রিকেট সামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। সারদারঞ্জন পেশায় ছিলেন শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক, অধ্যক্ষ। ক্রিকেট ছিল তাঁর নেশা।
কলকাতায় যখন পূর্ববাংলার খেলোয়াড়দের প্রতি অবহেলা বৃদ্ধি পায় তখন কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত পূর্ব বাংলার মানুষজন মিলে তাঁদের প্রতি অবহেলার প্রতিবাদে ১৯২০ সালে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। এই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি।
ব্রিটিশরা ক্রিকেটকে সীমাবদ্ধ রেখেছিল অভিজাতদের মধ্যে। সেখান থেকে বের করে ক্রিকেটকে সাধারণ মানুষের খেলা করে তোলেন সারদারঞ্জন রায় চৌধুরী। ক্রিকেট কোচ হিসেবেও সারদারঞ্জন ছিলেন অনন্য। তৎকালীন সময়ে সারদারঞ্জনকে ইংল্যান্ডের ড. ডব্লু ডি গ্রেসের সঙ্গে তুলনা করা হতো। এই তুলনা আরেক কারণে যুক্তিযুক্ত ছিল। ড. গ্রেসকে যেমন বলা হতো ইংল্যান্ডের ‘জনক’ তেমনি অধ্যক্ষ সারদারঞ্জনের এক পরিচয় ছিল বাংলার ক্রিকেটের ’জনক’ রূপে।
সারদারঞ্জন রায়ের নানা পদ্ধতি সেই সময় তরুণদের ক্রিকেটে অনুরাগ ও উৎসাহকে বাড়িয়ে তুলেছিল। এই মহান ক্রিকেটার নিজের সীমাবদ্ধতার মাঝেও ক্রিকেট খেলার বিকাশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।
ইএসপিএন, টেন স্পোর্টসের ক্রিকেট গবেষক ড. বড়িয়া মজুমদারের মতে, ভারতে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করে পার্সিরা, মুম্বাইয়ে। কিন্তু ক্রিকেটকে তাঁরা সীমাবদ্ধ করে রেখেছিল অভিজাত মানুষদের মধ্যে। সারদারঞ্জন রায়ই প্রথম মানুষ, যিনি ক্রিকেটকে গণমানুষের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। ক্রিকেটের জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই করেছেন দুই হাত খুলে। তাই তাঁকে উপমহাদেশের ক্রিকেটের অগ্রদূত তো বটেই উপমহাদেশের ক্রিকেটের জনক বললেও ভুল কিছু হবে না।
উপমহাদেশে ক্রিকেটের জনক সারদারঞ্জন রায় চৌধুরী ১ নভেম্বর ১৯২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে নতুন ফসল হয়ে উঠেছে মুক্তির পথ। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার হাজেরা বেগম (৪৫) ব্রকলি চাষ করে প্রমাণ করেছেন—সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা পেলে গ্রামীণ নারীরাও লাভজনক কৃষিতে সফল হতে পারেন।
৪ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরে ফিরছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
৪ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঝিনাই নদের ওপর ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দে নবনির্মিত পিসি গার্ডার সেতুটি যানবাহন পারাপারে কাজে আসছে না। সেতুর উভয় পাড়ে সংযোগ সড়ক পাকা না করে কাজ ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সেতুর উভয় অংশে ১২০ মিটার নালা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ব্লক স্থাপন করা হয়নি। এতে সড়কটি দিয়ে প্রতি
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে। গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ কোম্পানি রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধ হওয়ার পথে। নীতিসহায়তা ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত না এলে দেশের ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে
৪ ঘণ্টা আগে