আবুল কাসেম, সাতক্ষীরা

নিয়ম-নীতি না মেনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। অনেক বিদ্যালয়ের পাশে ও জনবসতি এলাকায় ইটভাটা গড়ে উঠায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষ। এই অবস্থা অনেক দিন ধরে চললেও প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
সরেজমিনে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর ও তালা উপজেলার সীমান্ত নদী বেতনার পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ইটভাটা। অনেক ভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে তুষকাঠ ও সাধারণ কাঠ। জনবসতির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা নিষিদ্ধ থাকলেও তালা উপজেলার বেড়াডাংগী শতদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটের ভাটা। পাশেই রয়েছে বেড়াডাংগী ও শাল্যে গ্রামের শতাধিক বসতি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকায় ৯৬টি ইটভাটা রয়েছে। অন্যদিকে ভাটামালিকদের তালিকা অনুযায়ী ইটভাটা রয়েছে ১১৮টি, যার মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ২৪ টির। প্রতিটি ভাটায় নিয়ম মেনে চুল্লি করার কথা থাকলেও তা রয়েছে ৮৩ টিতে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বেড়াডাংগী শতদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেতনার পশ্চিমে অবস্থিত হলেও বিদ্যালয়টি তালা উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত। বর্তমানে দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ইট নির্মাণে মাটি আনতে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে অহরহ চলে ট্রাক ও ট্রলি। অতিরিক্ত ধুলা ও ইটভাটার কালো ধোয়ায় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
শতদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলি বিশ্বাস বলেন, ‘যারা এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বা যারা শিক্ষা নিচ্ছে, তাঁদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। ভাটার কারণে মাটির রাস্তায় বেশি পরিমাণে ধুলা তৈরি হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। এ ছাড়া ভাটার জন্য পরিচালিত ট্রলি ও ট্রাকের ধুলায় জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে খুবই অসুবিধা হয়।’
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিপন মণ্ডল বলেন, ‘বর্ষাকালে খুব কাদা হয়। আর শীতকালে খুব ধুলা হয়। একদিনের বেশি জামা-কাপড় পরা যায় না।’
বেড়াডাংগী গ্রামের সুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘এই এলাকার প্রত্যেক মানুষের শ্বাসতন্ত্রের কোনো না কোনো সমস্যা আছে। কারও অ্যালার্জি, কারও কাশি আবার কেউ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘যত দিন না নদীর বেড়িবাঁধ পাকা না হবে, যত দিন না অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটা বন্ধ না হবে তত দিন দুর্ভোগ কমবে না এই অঞ্চলের মানুষের।’
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এস বি ব্রিকসের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ব্লেড দিয়ে কেটে সমান করি। আর মাটি আনলে পানি দিই। আর এ নিয়ে কেউ অভিযোগও দেয়নি। অন্য ভাটাগুলোর কারণে কালো ধোয়া, ধুলা ও কাদার সমস্যা হলে তার দায় আমি কেন নেব?’
সাতক্ষীরার জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব দত্ত বলেন, ‘সাতক্ষীরায় ১২৮টি ইটভাটা রয়েছে। এসবের অধিকাংশ অবৈধ। যত্রতত্র কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ফসলি জমিতে বা জনবসতি এলাকায় ভাটা স্থাপিত হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ভাটা স্থাপনের বিষয়ে মাধব দত্ত বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সারি সারি ইটভাটা, এটা ভাবা যায়?’ ওই এলাকা থেকে বিদ্যালয় না হলে ইটভাটা অন্যত্র স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সরদার শহীদুল ইসলাম জানান, ‘বেতনা খননের ফলে বেশি মাটি জমা রাখা হয়। ওই মাটি শর্তসাপেক্ষে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। তবে মাটির ক্রেতারা শর্ত মানছেন কিনা সেভাবে তদারকি করা যায়নি। আর যারা ঝিকঝাক কিলন পদ্ধতি (নিয়ম মেনে চুল্লি) করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামা হবে। ঝিকঝাকে অন্তত কালো ধোয়া বের হয় না।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটার বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই অঞ্চলের অধিকাংশ ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটা চলমান থাকবে।

নিয়ম-নীতি না মেনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। অনেক বিদ্যালয়ের পাশে ও জনবসতি এলাকায় ইটভাটা গড়ে উঠায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষ। এই অবস্থা অনেক দিন ধরে চললেও প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
সরেজমিনে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর ও তালা উপজেলার সীমান্ত নদী বেতনার পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ইটভাটা। অনেক ভাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে তুষকাঠ ও সাধারণ কাঠ। জনবসতির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা নিষিদ্ধ থাকলেও তালা উপজেলার বেড়াডাংগী শতদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটের ভাটা। পাশেই রয়েছে বেড়াডাংগী ও শাল্যে গ্রামের শতাধিক বসতি।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকায় ৯৬টি ইটভাটা রয়েছে। অন্যদিকে ভাটামালিকদের তালিকা অনুযায়ী ইটভাটা রয়েছে ১১৮টি, যার মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ২৪ টির। প্রতিটি ভাটায় নিয়ম মেনে চুল্লি করার কথা থাকলেও তা রয়েছে ৮৩ টিতে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বেড়াডাংগী শতদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বেতনার পশ্চিমে অবস্থিত হলেও বিদ্যালয়টি তালা উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত। বর্তমানে দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়টিতে পড়ালেখা করে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ইট নির্মাণে মাটি আনতে বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে অহরহ চলে ট্রাক ও ট্রলি। অতিরিক্ত ধুলা ও ইটভাটার কালো ধোয়ায় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
শতদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলি বিশ্বাস বলেন, ‘যারা এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন বা যারা শিক্ষা নিচ্ছে, তাঁদের খুব অসুবিধা হচ্ছে। ভাটার কারণে মাটির রাস্তায় বেশি পরিমাণে ধুলা তৈরি হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। এ ছাড়া ভাটার জন্য পরিচালিত ট্রলি ও ট্রাকের ধুলায় জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে খুবই অসুবিধা হয়।’
ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিপন মণ্ডল বলেন, ‘বর্ষাকালে খুব কাদা হয়। আর শীতকালে খুব ধুলা হয়। একদিনের বেশি জামা-কাপড় পরা যায় না।’
বেড়াডাংগী গ্রামের সুকুমার মণ্ডল বলেন, ‘এই এলাকার প্রত্যেক মানুষের শ্বাসতন্ত্রের কোনো না কোনো সমস্যা আছে। কারও অ্যালার্জি, কারও কাশি আবার কেউ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘যত দিন না নদীর বেড়িবাঁধ পাকা না হবে, যত দিন না অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাটা বন্ধ না হবে তত দিন দুর্ভোগ কমবে না এই অঞ্চলের মানুষের।’
অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় এস বি ব্রিকসের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ব্লেড দিয়ে কেটে সমান করি। আর মাটি আনলে পানি দিই। আর এ নিয়ে কেউ অভিযোগও দেয়নি। অন্য ভাটাগুলোর কারণে কালো ধোয়া, ধুলা ও কাদার সমস্যা হলে তার দায় আমি কেন নেব?’
সাতক্ষীরার জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধব দত্ত বলেন, ‘সাতক্ষীরায় ১২৮টি ইটভাটা রয়েছে। এসবের অধিকাংশ অবৈধ। যত্রতত্র কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। ফসলি জমিতে বা জনবসতি এলাকায় ভাটা স্থাপিত হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ভাটা স্থাপনের বিষয়ে মাধব দত্ত বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সারি সারি ইটভাটা, এটা ভাবা যায়?’ ওই এলাকা থেকে বিদ্যালয় না হলে ইটভাটা অন্যত্র স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সরদার শহীদুল ইসলাম জানান, ‘বেতনা খননের ফলে বেশি মাটি জমা রাখা হয়। ওই মাটি শর্তসাপেক্ষে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। তবে মাটির ক্রেতারা শর্ত মানছেন কিনা সেভাবে তদারকি করা যায়নি। আর যারা ঝিকঝাক কিলন পদ্ধতি (নিয়ম মেনে চুল্লি) করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামা হবে। ঝিকঝাকে অন্তত কালো ধোয়া বের হয় না।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটার বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই অঞ্চলের অধিকাংশ ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটা চলমান থাকবে।

নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রী রুবিনা আক্তারকে (৩৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ সোমবার নেত্রকোনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি এ রায় ঘোষণা করেন।
৪ মিনিট আগে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকের টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের...
১০ মিনিট আগে
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় নেই। রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন থেকে ৩২ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আইসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর হয়েছে।
২১ মিনিট আগে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটের পক্ষে কাজ করতে পারবেন। তাতে দেশের বিদ্যমান আইনে কোনো বাধা নেই। কারণ, আপনারা ভোটার, আপনাদের নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক পক্ষপাত, পছন্দ থাকবেই, থাকারই কথা। আপনারা নাগরিকদের উৎসাহিত করেন। সাদা ব্যালটে যেন তাঁরা
২৭ মিনিট আগে