এ এইচ এম শামীমুজ্জামান

খুলনা: ‘আমরা কী করে চলমু। কাজ না করলে খামু কী? করোনায় মরলে মরব। কাজ না করলে তো বউ, ছুয়াল, মাইয়ে (বউ, ছেলে মেয়ে) নিয়ে না খাইয়ে মরব।’ কথাটা খুলনা নগরের বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আবদুর সবুরের। করোনা মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা না মেনে রাস্তায় নামার কারণ জানতে চাইলে এভাবেই জবাব দেন তিনি।
কবি সুক্রান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় আছে—‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।’ সেই গদ্যময় পৃথিবীই এখন দেখছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। একদিকে করোনার চোখ রাঙানি, অন্যদিকে চিরাচরিত ক্ষুধা। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার—কোনো কিছুর দিকেই নজর নেই দিন এনে দিন খাওয়া অসহায় মানুষদের। পেটের দায়ে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছেন কাজের খোঁজে। কিন্তু কাজের দেখা নেই। উল্টো আছে প্রশাসনের তাড়া।
নগরের সাতরাস্তার মোড়ে দেখা হলো শিবপদ বিশ্বাসের সঙ্গে। পেশা জুতো সেলাই–পালিশ। সকাল সাড়ে সাতটায় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থেকে নগরের সাতরাস্তার মোড়ে এসেছেন তিনি। এ জন্য কসরতও করতে হয়েছে তাঁকে। পেটের দায়ে লকডাউনের মধ্যেই সংবাদপত্রের গাড়িতে করে খুলনায় এসেছেন। এমন না করে উপায়ও নেই। কারণ, কাজ না করলে বাড়ির লোকজন যে না খেয়ে থাকবে। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পাশ থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন নগরের পূর্ব বানিয়া খামারের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওহিদুল। বললেন, ‘কাজ–কাম নাই। তারপর লকডাউন। সিমেন্ট–রডের দাম বাড়তি। কেউ কাজ করাতে চায় না। আমরা কী করে খামু?’

ওহিদুলের এই প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না। ছেলে–মেয়ে, বউসহ চারজনের সংসার তাঁর। পেশায় রাজমিস্ত্রী। কিন্তু করোনায় সবার পেকেটেই টান পড়েছে। আবার নির্মাণ সামগ্রীর দাম তুলনামূলক বেশি বলে এ অবস্থায় তেমন কাজও হচ্ছে না। ফলে কাজের অভাব। কিন্তু ঘরের অভাব তো এত কিছু মানে না। তাই কাজের খোঁজে এখন তিনি পথে পথে ঘোরেন।
একই অবস্থা বাগমারা চেয়ারম্যান মোড়ের বাসিন্দা শাহিনার। স্বামী নেই। বৃদ্ধ মা ও মেয়েসহ তিনজনের সংসার তাঁর। বললেন, গত লকডাউনে সহযোগিতা পেয়েছিলেন। এই লকডাউনে তাও নেই। পেটের দায়ে তাই ভোরে রাস্তায় এসে বসেছেন। যদি কেউ কোনো কাজ দেয়। যে কাজ পাবেন, তাই করবেন।
সাতরাস্তার মোড়েই দেখা মিলল নগরীর তালতলা হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা সামসুল হকের। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। কাজ না করলে খাওয়ার উপায় নেই। কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, ‘এত করোনা হলো বাংলাদেশে, কেউ আমাগো একটা গোপালবিড়ি দিয়ে বলল না আপনারা খান।’
লকডাউন উপেক্ষা করে খুলনা নগরের সাতরাস্তা মোড়ে প্রতি সকালেই জড়ো হন এমন দেড়–দু শ নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ না করলে যাদের সত্যিই খাবার জোগাড়ের কোনো উপায় নেই। শুধু ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে, পরিবারকে বাঁচাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাবতীয় কড়াকড়ি উপেক্ষা করে তাঁরা জড়ো হন। নগরের ময়লাপোতা মোড়েও দেখা মেলে কাজের প্রত্যাশায় অপেক্ষারত খেটে খাওয়া মানুষদের। তাঁরা করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বোঝেন। কিন্তু ক্ষুধার কাছে নিরুপায়। এই লোকেদের খুব কমই শেষ পর্যন্ত পান সোনার হরিণ কাজের খোঁজ।
খুলনার সড়কগুলোতে রিকশা বা ইজিবাইক চালকদের অবস্থা এর চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও বাস্তবতা একই। তাবৎ কড়াকড়ি উপেক্ষা করে পেটের দায়েই তাঁরা নামেন সড়কে। কিন্তু লকডাউনের কারণে যাত্রী নেই। উপরন্তু আছে পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান। এমনই এক রিকশাচালক আবদুল সালাম। বললেন, ‘তেমন ইনকাম নাই। গতকাল ১০০ টাকা আয় হইল। মাহাজনের ভাড়া দিয়া সংসার চলব কেমনে?’
অসহায় এই মানুষদের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসন মানবিক সহায়তা কর্যক্রম শুরু করলেও তা যথেষ্ট নয়। গতকাল শনিবার এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এদিন ৩০০ মানুষের মধ্যে খাবারসহ নানা নিত্যপণ্য তুলে দেন তিনি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। কিন্তু এই উদ্যোগ দেরিতে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, করোনা সংক্রমণ রোধের এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সমন্বিত ত্রাণ কর্যক্রম চালু করতে হবে। সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করছে। এখানে দলীয়করণের নানা অভিযোগ উঠছে। আবার জেলা প্রশাসন তাদের মতো করে ত্রাণ বিতরণ করছে। একইভাবে ত্রাণ বিতরণ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। ফলে কিছু মানুষ বারবার ত্রাণ পেলেও, কিছু মানুষ একেবারেই পাচ্ছে না। এই সবগুলো উদ্যোগকে সমন্বয় করলে সবার মধ্যে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

খুলনা: ‘আমরা কী করে চলমু। কাজ না করলে খামু কী? করোনায় মরলে মরব। কাজ না করলে তো বউ, ছুয়াল, মাইয়ে (বউ, ছেলে মেয়ে) নিয়ে না খাইয়ে মরব।’ কথাটা খুলনা নগরের বাগমারা এলাকার বাসিন্দা আবদুর সবুরের। করোনা মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা না মেনে রাস্তায় নামার কারণ জানতে চাইলে এভাবেই জবাব দেন তিনি।
কবি সুক্রান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় আছে—‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।’ সেই গদ্যময় পৃথিবীই এখন দেখছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। একদিকে করোনার চোখ রাঙানি, অন্যদিকে চিরাচরিত ক্ষুধা। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার—কোনো কিছুর দিকেই নজর নেই দিন এনে দিন খাওয়া অসহায় মানুষদের। পেটের দায়ে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছেন কাজের খোঁজে। কিন্তু কাজের দেখা নেই। উল্টো আছে প্রশাসনের তাড়া।
নগরের সাতরাস্তার মোড়ে দেখা হলো শিবপদ বিশ্বাসের সঙ্গে। পেশা জুতো সেলাই–পালিশ। সকাল সাড়ে সাতটায় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থেকে নগরের সাতরাস্তার মোড়ে এসেছেন তিনি। এ জন্য কসরতও করতে হয়েছে তাঁকে। পেটের দায়ে লকডাউনের মধ্যেই সংবাদপত্রের গাড়িতে করে খুলনায় এসেছেন। এমন না করে উপায়ও নেই। কারণ, কাজ না করলে বাড়ির লোকজন যে না খেয়ে থাকবে। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পাশ থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন নগরের পূর্ব বানিয়া খামারের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওহিদুল। বললেন, ‘কাজ–কাম নাই। তারপর লকডাউন। সিমেন্ট–রডের দাম বাড়তি। কেউ কাজ করাতে চায় না। আমরা কী করে খামু?’

ওহিদুলের এই প্রশ্নের কোনো উত্তর হয় না। ছেলে–মেয়ে, বউসহ চারজনের সংসার তাঁর। পেশায় রাজমিস্ত্রী। কিন্তু করোনায় সবার পেকেটেই টান পড়েছে। আবার নির্মাণ সামগ্রীর দাম তুলনামূলক বেশি বলে এ অবস্থায় তেমন কাজও হচ্ছে না। ফলে কাজের অভাব। কিন্তু ঘরের অভাব তো এত কিছু মানে না। তাই কাজের খোঁজে এখন তিনি পথে পথে ঘোরেন।
একই অবস্থা বাগমারা চেয়ারম্যান মোড়ের বাসিন্দা শাহিনার। স্বামী নেই। বৃদ্ধ মা ও মেয়েসহ তিনজনের সংসার তাঁর। বললেন, গত লকডাউনে সহযোগিতা পেয়েছিলেন। এই লকডাউনে তাও নেই। পেটের দায়ে তাই ভোরে রাস্তায় এসে বসেছেন। যদি কেউ কোনো কাজ দেয়। যে কাজ পাবেন, তাই করবেন।
সাতরাস্তার মোড়েই দেখা মিলল নগরীর তালতলা হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা সামসুল হকের। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। কাজ না করলে খাওয়ার উপায় নেই। কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, ‘এত করোনা হলো বাংলাদেশে, কেউ আমাগো একটা গোপালবিড়ি দিয়ে বলল না আপনারা খান।’
লকডাউন উপেক্ষা করে খুলনা নগরের সাতরাস্তা মোড়ে প্রতি সকালেই জড়ো হন এমন দেড়–দু শ নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ না করলে যাদের সত্যিই খাবার জোগাড়ের কোনো উপায় নেই। শুধু ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে, পরিবারকে বাঁচাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাবতীয় কড়াকড়ি উপেক্ষা করে তাঁরা জড়ো হন। নগরের ময়লাপোতা মোড়েও দেখা মেলে কাজের প্রত্যাশায় অপেক্ষারত খেটে খাওয়া মানুষদের। তাঁরা করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বোঝেন। কিন্তু ক্ষুধার কাছে নিরুপায়। এই লোকেদের খুব কমই শেষ পর্যন্ত পান সোনার হরিণ কাজের খোঁজ।
খুলনার সড়কগুলোতে রিকশা বা ইজিবাইক চালকদের অবস্থা এর চেয়ে কিছুটা ভালো হলেও বাস্তবতা একই। তাবৎ কড়াকড়ি উপেক্ষা করে পেটের দায়েই তাঁরা নামেন সড়কে। কিন্তু লকডাউনের কারণে যাত্রী নেই। উপরন্তু আছে পুলিশ ও প্রশাসনের অভিযান। এমনই এক রিকশাচালক আবদুল সালাম। বললেন, ‘তেমন ইনকাম নাই। গতকাল ১০০ টাকা আয় হইল। মাহাজনের ভাড়া দিয়া সংসার চলব কেমনে?’
অসহায় এই মানুষদের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসন মানবিক সহায়তা কর্যক্রম শুরু করলেও তা যথেষ্ট নয়। গতকাল শনিবার এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক। এদিন ৩০০ মানুষের মধ্যে খাবারসহ নানা নিত্যপণ্য তুলে দেন তিনি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। কিন্তু এই উদ্যোগ দেরিতে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, করোনা সংক্রমণ রোধের এই সময়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সমন্বিত ত্রাণ কর্যক্রম চালু করতে হবে। সিটি করপোরেশন প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করছে। এখানে দলীয়করণের নানা অভিযোগ উঠছে। আবার জেলা প্রশাসন তাদের মতো করে ত্রাণ বিতরণ করছে। একইভাবে ত্রাণ বিতরণ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। ফলে কিছু মানুষ বারবার ত্রাণ পেলেও, কিছু মানুষ একেবারেই পাচ্ছে না। এই সবগুলো উদ্যোগকে সমন্বয় করলে সবার মধ্যে সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

আওয়ামী লীগের লোকজনকে জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য লতিফুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে যোগ দিলে তাঁদের দায়দায়িত্ব তাঁরা নেবেন। আইন-আদালত, থানা-পুলিশ সবকিছুই তাঁরা দেখবেন।
১৬ মিনিট আগে
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের নারানখালী ব্রিজের নিচে ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুল ইসলাম জানান, গতকাল রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে নাঈমের প্রাইভেট কারটির। এতে মোটরসাইকেলের আরোহীরা নঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
২ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় আহমেদ জুবায়ের (২৩) নামের এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় বিপ্লব হোসেন (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে