আবদুল মান্নান, মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি)

খাগড়াছড়ির দক্ষিণাঞ্চলের গহীন অরণ্যে দিন দিন বাড়ছে মুখী কচুর চাষ। টিলা পাহাড়ের অনাবাদি জমিতে এই ফসল চাষ করে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন বছরজুড়ে। লাভজনক হওয়ায় এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে গিয়ে কচু চাষ করছেন চাষিরা। তবে একই জমিতে পরপর মুখী কচু চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় চাষের জন্য নতুন টিলা খুঁজতে হচ্ছে তাঁদের।
চাষিরা জানাচ্ছেন, এই চাষে একদিকে যেমন প্রচুর শ্রম প্রয়োজন, তেমনি আর্থিক ঝুঁকিও আছে। একাধিক সশস্ত্র সংগঠনের চাঁদার ভয় ও বাজারে সারের সংকট থাকায় অনেকে মুখ খুলতে চান না।
চাষিরা বলেন, মুখী কচু চাষে একদিকে আয় বাড়ছে, অন্যদিকে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন টিলা প্রস্তুত করতে হচ্ছে। কচু লাগানোর উপযুক্ত সময় চৈত্র মাস। এরপর বৃষ্টিপাত হলেই বীজ গজায়, তখন শুরু হয় খেত পরিচর্যার কাজ। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।
মানিকছড়ি উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উপজেলায় ৭৮ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়। এবারে চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, পুরো দক্ষিণাঞ্চলে (মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মহালছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি) গতবার প্রায় ৫০০ হেক্টর টিলায় কচু চাষ হয়।

চাষি রাজু বলেন, মুখী কচু পরিশ্রমসাধ্য ও প্রকৃতিনির্ভর ফসল। অনাবাদি জমিতে এটি ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুখী কচু চাষে ভাগ্য বদলায় অনেকের। তবে বর্তমানে সারের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১,৩৫০ টাকা হলেও অনেককে কিনতে হয়েছে ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়।
শ্রমিক আবদুল করিম বলেন, ‘কচু খেতে সারাবছর কাজ থাকে। ভালো মজুরি মেলে। নারী-পুরুষ মিলেই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা যায়।’
শ্রমিক মংশে মারমা বলেন, ‘এই কাজ না থাকলে আমাদের পাহাড়ি জনপদে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাষি জানান, কচু চাষে সবাই সফল হন না। একই জমিতে পরপর কচু চাষে ফলন কমে যায়। তাই তাঁরা এক-দুই বছর জমি অনাবাদি রেখে পরবর্তী চাষ করেন। কেউ কেউ বনজঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন টিলা তৈরি করেন।
তাঁরা আরও বলেন, কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনকে বাধ্যতামূলক বার্ষিক চাঁদা দিতে হয়। এ কারণে লাভ-লোকসান, আবাদি জমির পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য অনেক সময় গোপন রাখতে হয়।

চাষিরা জানান, মুখী কচুর গাছের গোড়ায় এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে টিএসপি সার দিতে হয়। প্রতি ৪০ শতকে ১৫০–২০০ কেজি টিএসপি ব্যবহার করতে হয়। ফলে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দেয়।
মানিকছড়ি ফার্টিলাইজার সমিতির সভাপতি এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে সাগর থেকে জাহাজে করে সার আনলোডে সমস্যা হয়েছিল। এখন সংকট কেটে গেছে।’ তিনি বলেন, মানিকছড়িতে চাহিদা বেশি হলেও অন্য উপজেলা থেকে এসে এখান থেকেই সার কেনে চাষিরা, তাই সরবরাহে চাপ পড়ে।
মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, ‘গতবার ৭৮ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছিল, এবার সেটি আরও বাড়বে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব না পড়লে কচু লাভজনক ফসল। সার সংকট এখন নেই।’

খাগড়াছড়ির দক্ষিণাঞ্চলের গহীন অরণ্যে দিন দিন বাড়ছে মুখী কচুর চাষ। টিলা পাহাড়ের অনাবাদি জমিতে এই ফসল চাষ করে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন বছরজুড়ে। লাভজনক হওয়ায় এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে গিয়ে কচু চাষ করছেন চাষিরা। তবে একই জমিতে পরপর মুখী কচু চাষে ফলন ভালো না হওয়ায় চাষের জন্য নতুন টিলা খুঁজতে হচ্ছে তাঁদের।
চাষিরা জানাচ্ছেন, এই চাষে একদিকে যেমন প্রচুর শ্রম প্রয়োজন, তেমনি আর্থিক ঝুঁকিও আছে। একাধিক সশস্ত্র সংগঠনের চাঁদার ভয় ও বাজারে সারের সংকট থাকায় অনেকে মুখ খুলতে চান না।
চাষিরা বলেন, মুখী কচু চাষে একদিকে আয় বাড়ছে, অন্যদিকে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন টিলা প্রস্তুত করতে হচ্ছে। কচু লাগানোর উপযুক্ত সময় চৈত্র মাস। এরপর বৃষ্টিপাত হলেই বীজ গজায়, তখন শুরু হয় খেত পরিচর্যার কাজ। আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।
মানিকছড়ি উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উপজেলায় ৭৮ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়। এবারে চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, পুরো দক্ষিণাঞ্চলে (মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মহালছড়ি, রামগড়, মানিকছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি) গতবার প্রায় ৫০০ হেক্টর টিলায় কচু চাষ হয়।

চাষি রাজু বলেন, মুখী কচু পরিশ্রমসাধ্য ও প্রকৃতিনির্ভর ফসল। অনাবাদি জমিতে এটি ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুখী কচু চাষে ভাগ্য বদলায় অনেকের। তবে বর্তমানে সারের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১,৩৫০ টাকা হলেও অনেককে কিনতে হয়েছে ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়।
শ্রমিক আবদুল করিম বলেন, ‘কচু খেতে সারাবছর কাজ থাকে। ভালো মজুরি মেলে। নারী-পুরুষ মিলেই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা যায়।’
শ্রমিক মংশে মারমা বলেন, ‘এই কাজ না থাকলে আমাদের পাহাড়ি জনপদে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চাষি জানান, কচু চাষে সবাই সফল হন না। একই জমিতে পরপর কচু চাষে ফলন কমে যায়। তাই তাঁরা এক-দুই বছর জমি অনাবাদি রেখে পরবর্তী চাষ করেন। কেউ কেউ বনজঙ্গল পরিষ্কার করে নতুন টিলা তৈরি করেন।
তাঁরা আরও বলেন, কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনকে বাধ্যতামূলক বার্ষিক চাঁদা দিতে হয়। এ কারণে লাভ-লোকসান, আবাদি জমির পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য অনেক সময় গোপন রাখতে হয়।

চাষিরা জানান, মুখী কচুর গাছের গোড়ায় এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে টিএসপি সার দিতে হয়। প্রতি ৪০ শতকে ১৫০–২০০ কেজি টিএসপি ব্যবহার করতে হয়। ফলে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দেয়।
মানিকছড়ি ফার্টিলাইজার সমিতির সভাপতি এস.এম. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে সাগর থেকে জাহাজে করে সার আনলোডে সমস্যা হয়েছিল। এখন সংকট কেটে গেছে।’ তিনি বলেন, মানিকছড়িতে চাহিদা বেশি হলেও অন্য উপজেলা থেকে এসে এখান থেকেই সার কেনে চাষিরা, তাই সরবরাহে চাপ পড়ে।
মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, ‘গতবার ৭৮ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়েছিল, এবার সেটি আরও বাড়বে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব না পড়লে কচু লাভজনক ফসল। সার সংকট এখন নেই।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের অধিকাংশই কোটিপতি। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন লাখপতি। নির্বাচনে কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ছয়জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে নামলেও বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার সোনার গয়না আছে ৩০ তোলার; যার দাম ৫০ হাজার টাকা। জামায়াতের...
৬ ঘণ্টা আগে
বিরোধপূর্ণ একটি জমি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) হস্তান্তর করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত ৮ ডিসেম্বর চসিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ছয় একর জমি হস্তান্তর করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে ওই জমি একসনা (এক বছরের জন্য) ইজারা নিয়ে ২০ বছরের জন্য লিজ দেওয়ার উদ্যোগ...
৬ ঘণ্টা আগে
চলতি আমন মৌসুমে সরকারি মূল্যে চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে জয়পুরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় হাস্কিং মিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য বিভাগের নথিতে সচল দেখানো বহু হাস্কিং মিল বাস্তবে বিদ্যুৎ সংযোগহীন, উৎপাদন বন্ধ কিংবা দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকলেও এসব মিলের নামেই সরকারি খাদ্যগুদামে...
৬ ঘণ্টা আগে