Ajker Patrika

গাছ লাগানোই নেশা কোমলের

মাসুদুর রহমান মাসুদ, ঝিকরগাছা (যশোর)
গাছ লাগানোই নেশা কোমলের
গাছ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বস্তা পেঁচিয়ে দেন সেলিম শাহ্ কোমল। সম্প্রতি যশোর সদরের তেঘরিয়ায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘আমাদের বাড়িতে আগে অনেক আমগাছ ছিল। নিজেরা তো আম খেতামই, প্রতিবেশীরাও খেত। ধীরে ধীরে সেই গাছ কমে গেছে। হঠাৎ একদিন মনে হলো, আমরা তো তবুও আম খেতে পারি, কিন্তু যাদের জায়গাজমি নেই, গাছ নেই, তারা তো খেতে পারছে না। এরপরই শুরু।’

এভাবেই বলছিলেন যশোর সদরের তেঘরিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সেলিম শাহ্ কোমল। যিনি বৃক্ষপ্রেমিক কোমল নামেও পরিচিত। ২০০২ সাল থেকে তিনি গাছ লাগিয়ে চলেছেন যশোর সদরসহ আশপাশের উপজেলার সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়েছেন। আর ছেলেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে তৃতীয় বর্ষে পড়েন। বাবার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছেলে শিহাব শাহ্ সুমন জানান, দুই বছর ধরে তিনি নিজেও গাছ লাগাচ্ছেন। বাবার ভালো লাগার কাজ তিনিও করে যেতে চান।

২০০২ সালে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কোমল ৯০টি আমগাছের চারা রোপণ করেন সদরের নতুনহাট বাজার এলাকার রাস্তায়। সেখানে অন্তত ১৩ এলাকায় গাছ লাগিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ঝিকরগাছা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গাছ লাগিয়েছেন। এবার তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে ফলদ বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।

এবার জেলা প্রশাসকের কাছে করা আবেদনে কোমল উল্লেখ করেন, ঝিকরগাছা হাসপাতাল রোড হতে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত ৩০০ ফলদ গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করতে চান। তিনি আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার বয়স ৬০ হয়েছে, এ বছর আমি বৃক্ষরোপণ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে চাই। তবে রোপণ করা বৃক্ষ আগামী পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত দেখাশোনা করব।’ তিনি প্রতি বছর ২০ হাজার টাকার বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেন।

সেলিম শাহ্ কোমল রোপণ করা গাছের মধ্যে আম, কাঁঠাল, বেল ও বিদেশি গাব আছে। এমনকি একাধিক স্থানে ৬-৭ বার করেও গাছ লাগিয়েছেন। আর রোপণ করেই ক্ষান্ত হননি। খাঁচা, বেড়া, গোবর লেপনসহ গাছের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি শুধু পরিবার-পরিজন নয়, এলাকাবাসীরও তিরস্কার ও ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন।

ফলদ গাছ লাগানোর কারণ হিসেবে কোমল বলেন, চৈত্র মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ায় একমাত্র ফলদ গাছেই পাতা থাকে। তখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে একমাত্র ফলদ গাছ।

কোমলের রোপণ করা গাছ দেখতে গিয়ে কথা হয় সদরের নতুনহাট এলাকার রাব্বি হোসেনের সঙ্গে। ৮-৯ বছর আগে বাজেদুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যখন আমগাছ রোপণ করেন, তখন থেকে তাঁকে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে চেনেন বলেও উল্লেখ করেন রাব্বি।

কমল বলেন, ‘গাছ থেকে শুধু অক্সিজেন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি না, এই গাছ আমাদের হিমশীতল ছায়া দেয়, ফল দেয়। আবার প্রয়োজনে এই গাছ বিক্রি করে আমরা অনেক টাকাও পাই। তাই গাছই আমার স্বজন, গাছই আমার প্রাণ। গাছ আমাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত