দ্বিতীয় দফায় আরও ৭৩৯ শ্রমিক ছাঁটাই

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার সময় কারখানার প্রধান ফটকে এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার এমন নোটিশ পেয়ে কারখানার ফটকের সামনে অনেক শ্রমিক কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ছাড়া বকেয়া পরিশোধের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
ছাঁটাই করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কেয়া গ্রুপের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে গত সেপ্টেম্বরে ৬২৭ শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাগুলো লে-অফে আছে। এরপর কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ‘শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী কারখানার অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের আজ (মঙ্গলবার) থেকে ছাঁটাই করা হবে। তাঁদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাঁদের চাকরি বহাল আছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের নামের তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকেরা। কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর মিনারা বেগম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করে আসছি। এখন চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেটাই চিন্তার বিষয়।’
প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন আবেদা বেগম। জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ সময় শেষ করেছেন কেয়া গ্রুপে। হঠাৎ চাকরি হারিয়ে কারখানার গেটের সামনে এসে হাউমাউ করে কান্না করতে থাকেন। তিনি বলেন, এত বছর চাকরি করে শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে বিদায় নিতে হচ্ছে।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘৭৩৯ শ্রমিক এক নোটিশে ছাঁটাইয়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে বকেয়া ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।’
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।









