Ajker Patrika

ফরিদপুরে বিলের পাশ থেকে দুই চোখ ওপড়ানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে বিলের পাশ থেকে দুই চোখ ওপড়ানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাইটকুমারী বিলের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও দুই চোখ ওপড়ানো অবস্থায় দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দেলোয়ার ওই ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

দেলোয়ারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের পর তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয় এবং হাত-পা বেঁধে রাতের আঁধারে বিলের পাশে ফেলে রাখা হয়। এ ছাড়া তাঁর ডান পা ও বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ঘটনার বর্ণনা দেন দেলোয়ার। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর বসতঘরের ওপর দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় আলমগীর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে কিছুদিন আগে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ফরিদপুর আদালতে মামলা করেন।

দেলোয়ারের ভাষ্য, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এরপর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাকৃতিক কাজ সারতে বাইরে বের হলে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি অতর্কিতে তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তাঁকে বাটিকামারী বিলের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়।

দেলোয়ারের অভিযোগ, সেখানে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও মাজেদ ফকির তাঁকে নির্যাতন করেন। পরে মাজেদ ফকির, আলমগীর, জাহাঙ্গীর ও শাহিন নামে চারজন তাঁর দুই চোখ উপড়ে ফেলে। একপর্যায়ে তাঁকে মৃত ভেবে বিলের পাড়ে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।

তবে দেলোয়ারের অভিযোগ প্রতিপক্ষের শিখিয়ে দেওয়া বলে দাবি করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘দেলোয়ার একজন পেশাদার চোর। ওর কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, আমার জানা নেই।’

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সামনে আমি নির্বাচন করব। আমার জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষ আমাকে হেয় করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। আজ এ ঘটনার পর তাঁরাই কথাগুলো শিখিয়ে দিয়ে আমার নাম বলিয়েছেন। তবে আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া জানান, দেলোয়ার এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘কী কারণে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত