যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তিতাস শেখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস সাহসী সৈনিক ছিলেন, মানব পাচারকারীদের গুলিতে আমরা তাঁকে হারিয়েছি। এই মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। যেকোনো মূল্যে মানব পাচারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। কারণ তাঁরা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু।’
আজ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের নিহত তিতাসের বাড়িতে যান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সমবেদনা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এসব কথা বলেন। পরে নিহতের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া পালন করা হয়।
সারা দেশে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করা মানব পাচারকারীদের কঠোরভাবে প্রতিহত করার জন্য সামাজিক যুদ্ধ, আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। টেকনাফে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের যে অবস্থান তা অত্যন্ত দৃঢ়। মানব পাচারকারীদের শনাক্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরা সর্বদা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ, মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট শুধু এক জায়গা নয়, দেশে-বিদেশে সব জায়গায় কাজ করে থাকে। যেসব রুটে তাঁরা বাংলাদেশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে-সেসব দেশের সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে যাচ্ছি যে-কীভাবে এই মানব পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা যায় এবং কঠোরতম সাজা দেওয়া যায়।’
এ ছাড়া সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর মাদারীপুর শরীয়তপুরসহ ১৪টি জেলার ডিসিদের সঙ্গে মানব পাচার সংক্রান্ত সভা করা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেখানে দালালচক্রের বিরুদ্ধে ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যায়ে সচেতন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিসি-ইউএনওদের দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যেন লোকাল প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে দালালচক্রকে গ্রেপ্তার করে।
বিদেশে যারা নিখোঁজ ও জিম্মি বা আটক রয়েছে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আযাদ, নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড়ে অভিযানকালে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ (২৮)। তিনি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফজাল শেখের ছেলে। পরিবারের তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। ২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।









