Ajker Patrika

জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে দিনাজপুরের রসাল লিচু

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে দিনাজপুরের রসাল লিচু
গাছে ঝুলছে থোকা থোকা বেদানা লিচু। টুকটুকে লাল রঙ আর রসালো স্বাদের জন্য দিনাজপুরের লিচুর কদর সর্বত্র। ছবি: আজকের পত্রিকা

দিনাজপুর চাল ও লিচুর জন্য দেশজুড়ে সুপরিচিত। বিশেষ করে স্বাদ ও রসাল গুণের কারণে এখানকার লিচুর রয়েছে আলাদা সুনাম। লিচুর মধ্যে বেদানা জাতের লিচুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এখন লিচু পাকার অপেক্ষায় কৃষক ও ভোক্তারা।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে দিনাজপুরের লিচু বাজারে আসতে শুরু করবে। বর্তমানে গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে লালচে-গোলাপি লিচু ঝুলছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় কমবেশি লিচুর আবাদ হলেও সদর, বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলায় উৎপাদন বেশি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলায় মাদ্রাজি, বেদানা, হাড়িয়া বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি ও মোজাফফরি জাতের লিচু চাষ হয়। এ বছর উপজেলায় প্রায় ৫৬৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬৮০ টন।

চিরিরবন্দর উপজেলার গলাহার গ্রামের কৃষক দিপক রায় বলেন, ‘আমার লিছুর বাগানে বিভিন্ন জাতের প্রায় ১৫০টি লিচুর গাছ রয়েছে। গত বছরের তুলনায় লিচুর ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাগানে এখন পর্যন্ত লিচু উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। আশা করছি, প্রতিটি লিচু তিন থেকে চার টাকা দরে বিক্রি করতে পারব।’

একই এলাকার চাষি একরামুল হক জানান, তিনি ২০০টি লিচুগাছ পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে চাষ করছেন। গত বছর ফলন কম হলেও এবার প্রচুর ফল এসেছে। তিনি আশা করছেন, উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হবে।

আরেক চাষি হবিবর রহমান বলেন, চিরিরবন্দরের লিচুবাগানগুলোতে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাঁর ধারণা, বোম্বাই লিচু ৩-৪ টাকা, বেদানা ৮-১০ টাকা এবং মাদ্রাজি ২-৩ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফনি বাবু বলেন, দিনাজপুর লিচুর জন্য বিখ্যাত। আমাদের চিরিরবন্দর উপজেলায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং তারা সে অনুযায়ী কাজ করছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহারা সুলতানা বলেন, ‘দিনাজপুরের বেদানা লিচু ইতিমধ্যে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর চিরিরবন্দরে ৫৬৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে। তারপরও কৃষকেরা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।’ তিনি জানান, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে দিনাজপুরের লিচু আসতে শুরু করবে এবং নিরাপদ কৃষিচর্চার মাধ্যমে ভোক্তাদের হাতে মানসম্মত লিচু পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত