Ajker Patrika

মেগা প্রকল্পের যন্ত্রণা: খানাখন্দ ব্যারিকেডে মহাদুর্ভোগ

নুরুল আমিন হাসান, ঢাকা
মেগা প্রকল্পের যন্ত্রণা: খানাখন্দ ব্যারিকেডে মহাদুর্ভোগ

দ্রুতগতিতে যানজটহীন চলাচলের জন্য নেওয়া হয়েছিল বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামের দুই মেগা প্রকল্প। কিন্তু পরিকল্পনার ত্রুটিসহ নানা কারণে বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতার জেরে সংশ্লিষ্ট মহাসড়কটিতে যানচালকদের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। মহাসড়ক দখল করে সিএনজি পাম্প, অবৈধ পার্কিং, আন্তজেলা বাসের দখল ইত্যাদি কারণে তা বরং মহাদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।

বিআরটি (লাইন-৩) মহাসড়ক (উত্তরা-টঙ্গী)
সরেজমিনে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি লাইন-৩) এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার পথে বিমানবন্দর উড়ালসড়কে ওঠার প্রবেশপথে একসঙ্গে দুটি বড় বাস উঠতে পারছে না। একটি বাস থামিয়ে আরেকটিকে জায়গা দিতে হয়। মহাসড়কের আবদুল্লাহপুরের মালেকাবানু স্কুল থেকে টঙ্গী বাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরপুর। আবদুল্লাহপুর মোড়ে মহাসড়কের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে চলছে উড়ালসড়কের পাইলিংয়ের কাজ। আবার আবদুল্লাহপুর-গাজীপুর মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর এলাকার দুই পাশের নির্মাণাধীন দুটি র‍্যাম্পের (সেতু থেকে ওঠানামার সড়ক) কারণে সড়কটি চারটির বদলে সরু হয়ে দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এ কারণে যানবাহনের গতি ধীর হয়ে হচ্ছে যানজট। তুরাগ নদের সেতুর দুই পাশের পথই খানাখন্দে ভরপুর। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, বিকল হচ্ছে যানবাহন।

গাজীপুর থেকে বিআরটি উড়ালসড়কের নিচ থেকে উত্তরায় আসা বাস ও প্রাইভেট কার চালকেরা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরু রাস্তা আর ভাঙাচোরার জন্য গাজীপুর থেকে টঙ্গী আসতে যত সময় লাগে, অনেক সময় তার চেয়ে বেশি সময় লাগে টঙ্গী থেকে বিমানবন্দর পার হতে।’

সড়কে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বলেন, ‘বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে। পানির নিচে গর্ত থাকতে পারে মনে করে তা এড়াতে গিয়ে চালকেরা সরু রাস্তা আরও সরু করে ফেলেন। তাই যানজট বেড়ে যায়।’

মহাসড়কটির আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘বিআরটি উড়ালসড়ক দিয়ে উত্তরা টু গাজীপুর মহাসড়কের আবদুল্লাহপুরে এসে ওঠানামার র‍্যাম্পের কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আবদুল্লাহপুর মোড়ের রাস্তা গর্তে ভরা। যখন তখন রাস্তার মাঝের কাদায় বড় বড় ট্রাক ও লরি আটকে গিয়ে যানজট বেঁধে যায়।’

বেহাল মহাসড়ক প্রসঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক (টিআই)  বলেন, আবদুল্লাহপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আশুলিয়ার চারটি প্রধান সড়ক। খানাখন্দ ছাড়াও চলছে র‍্যাম্প ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। আবদুল্লাহপুর মাছবাজারের পশ্চিম পাশেও পথ সংকুচিত।’ তাঁর মতে, তেল ও গ্যাসের পাম্প, বাসের কাউন্টারও সমস্যাকে জটিল করেছে।

উন্নয়নকাজের জন্য তৈরি হওয়া খানাখন্দ ও দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটি প্রকল্প (লাইন-৩) পরিচালক ইলিয়াস শাহ বলেন, ‘আবদুল্লাহপুরের অংশটি আমাদের মধ্যে পড়েনি। এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগে পড়েছে।’

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল)
আবদুল্লাহপুর-সাভারের বাইপাইল হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত সড়কে চলছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার প্রবেশপথের শুরুতেই র‍্যাম্প ও র‍্যাম্পের পিলার নির্মাণকাজ চলছে। মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর থেকে ৯ নম্বর সেক্টরের মাছবাজারের শেষ সীমানা পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গা ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা সরু করে কাজ চলমান। কোথাও কোথাও এক পাশে ব্যারিকেড দিয়ে আরেক পাশের এক লেনে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সড়কও খানাখন্দে ভরা।

আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে চলাচল করা মিনিবাস, আন্তজেলা বাস ও প্রাইভেট কার চালকেরা বলেন, আগে আমরা যেখানে ৩০ মিনিটে আবদুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল যেতাম, এখন সেখানে দুই ঘণ্টাতেও পারছি না।

সড়কটিতে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বলেন, ‘পুরো সড়কটিই খানাখন্দে ভরা। এর মাঝে একটু পরপর বেড়া দিয়ে এক লেন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁরা অভিযোগ করেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কর্মকর্তারা সমন্বয় না করেই কাজ করছেন। পিক আওয়ারে গার্ডার আনা-নেওয়ার কাজ করেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান এ বিষয়ে বলেন, ‘কনস্ট্রাকশনের মধ্যে বৃষ্টির কারণে এত দিন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। শিগগির বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। ফলে মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু হয়ে যাবে। এত দিন ট্রাফিক পুলিশ ছিল না, বক্সও ছিল না। আমরা পুলিশ বক্স মেরামত করে দিয়েছি। আমি বলে দেব, যেন পুলিশের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হয়।’

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত