নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

জাপানি শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে তাদের মা নাকানো এরিকোর জিম্মায় দেওয়ার বিরুদ্ধে বাবা ইমরান শরীফের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া আপিল গ্রহণ করেন।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পারিবারিক আদালত-১২-এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়। আদালত আজ শুনানির দিন ধার্য করেন।
ইমরান শরীফের পক্ষে আপিলের গ্রহণযোগ্যতা শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার ও নুরুল ইসলাম মিলন। তাঁরা আদালতকে বলেন, সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে এবং বাস্তবতা অনুধাবন না করেই পারিবারিক আদালত দুই শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার রায় ও ডিক্রি দিয়েছেন। আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং স্বল্পতম সময়ে শুনানির তারিখ ধার্য করবেন বলে জানান।
শুনানির সময় মা এরিকো বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেও আদালত উভয় পক্ষকে বিষয়টি আপস করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করেন। আদালত বলেন, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় এলে শিশুদের জন্য মঙ্গল হবে। এরপর আদালত পারিবারিক আদালতের নথি তলবের নির্দেশ দেন।
এ সময় ইমরান শরীফের আইনজীবী তাঁদের দাখিল করা আরেকটি আবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিক আদালতের রায় ও ডিক্রি স্থগিত করা হোক। পারিবারিক আদালত রায়ে বলেছেন, মা ইচ্ছে করলে দুই শিশুকে নিয়ে জাপানে যেতে পারবেন। যেহেতু মা শিশুদের নিয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সে কারণে পারিবারিক আদালতের রায়, আদেশ ও ডিক্রি স্থগিত করার প্রয়োজন রয়েছে। আদালত বলেন, নথি যেহেতু তলব করা হয়েছে, সেহেতু সেই সুযোগ নেই।
গত ২৯ জানুয়ারি পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান মায়ের জিম্মায় দুই শিশু থাকবে বলে রায় দেন। পরদিন শিশুদের মায়ের জিম্মায় দেওয়ার জন্য ডিক্রি দেন।
ইমরান শরীফের আপিলে উল্লেখ করা হয়, পারিবারিক আদালত আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এবং বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করে রায় দিয়েছেন। শিশুরা যেখানে বাবার কাছে থাকতে চায়, সেখানে আদালত বাস্তবতা বিবেচনা না করে রায় দিয়েছেন।
আপিলে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের বাবা ইমরান শরীফের কাছ থেকে মা নাকানো এরিকোর হেফাজত মানসিক ও শারীরিকভাবে নিরাপদ। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ শিশুরা তাদের বাবার কাছে থাকতে পছন্দ করে। সুতরাং বাবাই দুই সন্তানের জিম্মাদার হবেন।
পারিবারিক আদালত রায়ে বলেছেন, দুই শিশু জাপানে বড় হচ্ছিল। তারা জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সেখানেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলে আদালত মনে করেন। তাই তাদের নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করবেন তার বাবা—এই দাবি বাদীর প্রতিকূলে নিষ্পত্তি করা হলো।
দুই, দুই শিশুর মা একজন চিকিৎসক। সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব তাঁর। তিনি আর্থিক অসচ্ছলতায় ভুগছেন—বাদীর এই অভিযোগ তার বিপক্ষে নিষ্পত্তি করা হলো।
তিন, বাদী ইমরান শরীফ একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে তাঁকে প্রায়ই দেশের বাইরে যাতায়াত করতে হয়। বাংলাদেশে দুই সন্তান রেখে বাদী দেশ-বিদেশে যান। আদালত মনে করেন, দুই শিশুর জন্য এটা নিরাপদ নয়। শিশুদের দাদি ৭৫ বছর বয়স্ক। তিনি নিজেই নিজের দেখাশোনা করতে অপারগ। এ ক্ষেত্রে শিশুরাও তাঁর কাছে নিরাপদ নয়।
চার, আদালত মনে করেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার জন্য মা অধিক নিরাপদ।
কাজেই বাবার দুই শিশুর হেফাজত দাবি করা আদালত তার প্রতিকূলে নিষ্পত্তি করলেন। এসব বিবেচনায় আদালত বাদীর মামলা খারিজ করেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এরিকো নাকানোর স্বামী ইমরান জাপান থেকে দেশে আসেন। এরপর মেয়েদের অভিভাবক দাবি করে ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। একই বছরের ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন এরিকো। তাদের ফিরে পেতে ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে শিশু দুটিকে তেজগাঁওয়ে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয় কিছুদিন। সব পক্ষের শুনানি নিয়ে ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট গুলশানের ফ্ল্যাটে মায়ের হেফাজতে শিশুদের রাখার আদেশ দেন। কিন্তু এই দেশেই সন্তানদের নিয়ে থাকতে হবে বলে হাইকোর্ট বলেন।
ইমরান শরীফ আদালতকে জানান, স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় তিনি মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশেই বসবাস করবেন। তাঁর শিশুসন্তানদের অভিভাবক হিসেবে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন। যেহেতু মা ভিনদেশি, তাই তিনি একমাত্র অভিভাবক।
এই আদালতে মামলা চলাকালীন তাঁর সাবেক স্ত্রী বাংলাদেশে এসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্টও মেয়েদের বাংলাদেশে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দুই সন্তান নিয়ে জাপানে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে জাপানি নারী নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয় গত ২৯ ডিসেম্বর।

জাপানি শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে তাদের মা নাকানো এরিকোর জিম্মায় দেওয়ার বিরুদ্ধে বাবা ইমরান শরীফের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া আপিল গ্রহণ করেন।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পারিবারিক আদালত-১২-এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়। আদালত আজ শুনানির দিন ধার্য করেন।
ইমরান শরীফের পক্ষে আপিলের গ্রহণযোগ্যতা শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার ও নুরুল ইসলাম মিলন। তাঁরা আদালতকে বলেন, সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে এবং বাস্তবতা অনুধাবন না করেই পারিবারিক আদালত দুই শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার রায় ও ডিক্রি দিয়েছেন। আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং স্বল্পতম সময়ে শুনানির তারিখ ধার্য করবেন বলে জানান।
শুনানির সময় মা এরিকো বড় মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেও আদালত উভয় পক্ষকে বিষয়টি আপস করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করেন। আদালত বলেন, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় এলে শিশুদের জন্য মঙ্গল হবে। এরপর আদালত পারিবারিক আদালতের নথি তলবের নির্দেশ দেন।
এ সময় ইমরান শরীফের আইনজীবী তাঁদের দাখিল করা আরেকটি আবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিক আদালতের রায় ও ডিক্রি স্থগিত করা হোক। পারিবারিক আদালত রায়ে বলেছেন, মা ইচ্ছে করলে দুই শিশুকে নিয়ে জাপানে যেতে পারবেন। যেহেতু মা শিশুদের নিয়ে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সে কারণে পারিবারিক আদালতের রায়, আদেশ ও ডিক্রি স্থগিত করার প্রয়োজন রয়েছে। আদালত বলেন, নথি যেহেতু তলব করা হয়েছে, সেহেতু সেই সুযোগ নেই।
গত ২৯ জানুয়ারি পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান মায়ের জিম্মায় দুই শিশু থাকবে বলে রায় দেন। পরদিন শিশুদের মায়ের জিম্মায় দেওয়ার জন্য ডিক্রি দেন।
ইমরান শরীফের আপিলে উল্লেখ করা হয়, পারিবারিক আদালত আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এবং বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করে রায় দিয়েছেন। শিশুরা যেখানে বাবার কাছে থাকতে চায়, সেখানে আদালত বাস্তবতা বিবেচনা না করে রায় দিয়েছেন।
আপিলে আরও বলা হয়েছে, শিশুদের বাবা ইমরান শরীফের কাছ থেকে মা নাকানো এরিকোর হেফাজত মানসিক ও শারীরিকভাবে নিরাপদ। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। কারণ শিশুরা তাদের বাবার কাছে থাকতে পছন্দ করে। সুতরাং বাবাই দুই সন্তানের জিম্মাদার হবেন।
পারিবারিক আদালত রায়ে বলেছেন, দুই শিশু জাপানে বড় হচ্ছিল। তারা জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। সেখানেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বলে আদালত মনে করেন। তাই তাদের নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করবেন তার বাবা—এই দাবি বাদীর প্রতিকূলে নিষ্পত্তি করা হলো।
দুই, দুই শিশুর মা একজন চিকিৎসক। সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব তাঁর। তিনি আর্থিক অসচ্ছলতায় ভুগছেন—বাদীর এই অভিযোগ তার বিপক্ষে নিষ্পত্তি করা হলো।
তিন, বাদী ইমরান শরীফ একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে তাঁকে প্রায়ই দেশের বাইরে যাতায়াত করতে হয়। বাংলাদেশে দুই সন্তান রেখে বাদী দেশ-বিদেশে যান। আদালত মনে করেন, দুই শিশুর জন্য এটা নিরাপদ নয়। শিশুদের দাদি ৭৫ বছর বয়স্ক। তিনি নিজেই নিজের দেখাশোনা করতে অপারগ। এ ক্ষেত্রে শিশুরাও তাঁর কাছে নিরাপদ নয়।
চার, আদালত মনে করেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার জন্য মা অধিক নিরাপদ।
কাজেই বাবার দুই শিশুর হেফাজত দাবি করা আদালত তার প্রতিকূলে নিষ্পত্তি করলেন। এসব বিবেচনায় আদালত বাদীর মামলা খারিজ করেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এরিকো নাকানোর স্বামী ইমরান জাপান থেকে দেশে আসেন। এরপর মেয়েদের অভিভাবক দাবি করে ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। একই বছরের ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন এরিকো। তাদের ফিরে পেতে ১৯ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। পরে আদালতের নির্দেশে শিশু দুটিকে তেজগাঁওয়ে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয় কিছুদিন। সব পক্ষের শুনানি নিয়ে ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট গুলশানের ফ্ল্যাটে মায়ের হেফাজতে শিশুদের রাখার আদেশ দেন। কিন্তু এই দেশেই সন্তানদের নিয়ে থাকতে হবে বলে হাইকোর্ট বলেন।
ইমরান শরীফ আদালতকে জানান, স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় তিনি মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশেই বসবাস করবেন। তাঁর শিশুসন্তানদের অভিভাবক হিসেবে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন। যেহেতু মা ভিনদেশি, তাই তিনি একমাত্র অভিভাবক।
এই আদালতে মামলা চলাকালীন তাঁর সাবেক স্ত্রী বাংলাদেশে এসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্টও মেয়েদের বাংলাদেশে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দুই সন্তান নিয়ে জাপানে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে জাপানি নারী নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয় গত ২৯ ডিসেম্বর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সোনারামপুর সেতুর ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সামাউন (২০) এবং একই উপজেলার লক্ষ্মীপুর...
৪ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় দলবল নিয়ে গ্যাসের একটি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে মহল্লাবাসীর আগ্রাসী বাধার মুখে কাজ ফেলে ফিরে এসেছে তিতাসের একটি দল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র্যাবের উপস্থিতিতে অভিযানকারীরা হামলার মুখে পিছু হটেন।
৪ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীর পাংশায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে সুগন্ধা ফিলিং স্টেশন এলাকার রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছে পৌরসভার কুড়াপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম শেখের ছেলে মিরাজ শেখ (১৬) ও সাইদুল প্রামাণিকের ছেলে সজীব প্রামাণিক (১৭)।
৪ ঘণ্টা আগে
স্বতন্ত্র কাঠামোর অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করেছেন বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল বের করেন।
৪ ঘণ্টা আগে