ঢাকা শহর আর বুড়িগঙ্গা নদী যেন একে অপরের পরিপূরক। নদীটির বুকে ভেসেই একদিন গড়ে উঠেছিল বাংলার রাজধানী। কিন্তু সেই প্রাণবন্ত নদী আজ বিষাক্ত, দখলদারদের কবলে জর্জরিত ও মৃতপ্রায়। ‘বুড়িগঙ্গা কি তার আগের অবস্থা ফিরে পাবে’—এই প্রশ্ন শুধু একটি নদীকে ঘিরে নয়, বরং তা আমাদের পরিবেশ সচেতনতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের এক গভীর আত্মজিজ্ঞাসা।
বুড়িগঙ্গা নদীর ইতিহাস বহু পুরোনো। মোগল আমলে এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছিল ঢাকা শহর। নৌপথে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, মানুষের যাতায়াত—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল বুড়িগঙ্গা। ব্রিটিশ আমলেও নদীটির গুরুত্ব ছিল। সদরঘাট ছিল দক্ষিণবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। ১৭০০ শতকের শেষ ভাগ থেকে ২০০ শতকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার তীর ছিল রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
বর্তমানে বুড়িগঙ্গা একটি দূষণের প্রতীক। প্রতিদিন এই নদীতে পড়ে প্রায় ১৫ লাখ লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য।
২০২৩ সালের এক গবেষণামতে, বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম/লিটারের নিচে, যেখানে ৫ মিলিগ্রাম/লিটারের নিচে হলেই সেটি পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। ট্যানারি শিল্প, ডাইং ফ্যাক্টরি, গৃহস্থালি বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিন মিশে একে পরিণত করেছে ‘বিষাক্ত ড্রেন’-এ।
বুড়িগঙ্গার সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে দখলদার চক্র। নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, বাজার, গোডাউন, ঘাট ও বহুতল ভবন। সরকারি সংস্থার নাকের ডগায় এগুলো গড়ে উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বহু বছর ধরে। বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যমতে, শুধু বুড়িগঙ্গারই দুই তীরজুড়ে প্রায় ৮ হাজার অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২১ সালে পরিচালিত বিআইডব্লিউটিএর এক জরিপে দেখা যায়, ঢাকার অংশে নদীর প্রকৃত প্রস্থ ৩৬০ ফুট থেকে কমে দাঁড়িয়েছে কোথাও কোথাও ৭০ ফুটে।
সরকার বুড়িগঙ্গা রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০০৯ সালে ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এখনো কিছু ট্যানারি থাকায় সেসবের বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে।
নদী কমিশন, বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর ইত্যাদি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০১৯ সালে হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গাকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর তেমন প্রতিফলন দেখা যায়নি। পরিবেশ আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব নদী রক্ষায় এক বড় বাধা।
বিশ্বে অনেক নদীই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চেওনগে চেয়ন’ খাল ছিল অত্যন্ত দূষিত; সরকারের বিশাল পরিকল্পনা ও বিনিয়োগে তা আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। লন্ডনের টেমস নদী একসময় জীববৈচিত্র্যহীন ছিল, কিন্তু আজ তা ইউরোপের পরিচ্ছন্নতম নদীগুলোর একটি। জনগণ, সরকার ও বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিউইয়র্কের ‘হাডসন’ নদী পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। এ উদাহরণগুলো প্রমাণ করে, চাইলে আমরাও পারি।
বুড়িগঙ্গাকে এখনো রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য দরকার সঠিক পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা। পাশাপাশি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংযুক্ত খালগুলো পুনঃখনন করতে হবে এবং অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। ৩৫টি খাল এবং ৪টি নদীকে যুক্ত করে ঢাকার জলপথ পুনরুদ্ধারের একটি পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এখন দরকার তার যথাযথ বাস্তবায়ন। এ নদীকে রক্ষা করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। নদী রক্ষা করতে নাগরিকেরও ভূমিকা আছে।
বুড়িগঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি একটি ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন। বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করার জন্য প্রত্যেকের ভূমিকা আছে। এখনই যদি আমরা জেগে উঠি, সঠিক পথে এগোই, তবেই বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা সম্ভব।

মাকু আর শানার খটখট শব্দ তুলে আপন মনে শাড়ি বুনছেন হরিপদ। মাটির গর্তে বসে ছন্দে ছন্দে তৈরি করছেন বর্ণিল শাড়ি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাহিদা বেড়েছে, তাই দম ফেলবার ফুরসত নেই এই কারিগরের। হরিপদ কাজ করেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল গ্রামের ‘শুদ্ধ তাঁত’ নামক কারখানায়।
৪ ঘণ্টা আগে
যশোর শহরের আরবপুর পাওয়ার হাউস পাড়ার বাসিন্দা শহিদুল আলম। বাসা থেকে শহরের চার খাম্বা মোড়ে তাঁর কর্মস্থলের দূরত্ব চার কিলোমিটার। সাধারণত রিকশায় করে কার্যালয়ে যেতে সময় লাগে ২০ মিনিটের মতো। কিন্তু তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় হাতে রেখে রওনা দিতে হয়। তবু সড়কের তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো অফিসে...
৪ ঘণ্টা আগে
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা ইছামতী, হুরাসাগর ও ফুলজোড় নদীতে একসময় ছিল স্রোত, চলত নৌযান। সময়ের ব্যবধানে সে চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ফুলজোড় নদীর কিছু অংশে খননকাজ হলেও ইছামতী ও হুরাসাগরের বেশির ভাগ অংশ এখন পানিশূন্য। শুষ্ক মৌসুম তো বটেই, বর্ষাকালেও অনেক জায়গায় পানির দেখা মেলে না।
৪ ঘণ্টা আগে
তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সোহেল রানা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি শেষ বর্ষ ২০২৩ সালের পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি কলেজের ৬০৮ নম্বর কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন...
৪ ঘণ্টা আগে