সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলা: মূল পরিকল্পনাকারীরা খালাস পাওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা

তিন যুগ আগে পারিবারিক দ্বন্দ্বে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় করা মামলায় নিহতের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন ও মন্টু মোড়লকে খালাস দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মো. আলী হোসাইন এই রায় দেন। রায়ে ডা. হাসানের শ্যালক আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্র ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী—নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান ও তাঁর স্ত্রী ফায়দাতুল মাহমুদা শাহীন ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। এই দুজন খালাস পাওয়ায় সগিরার স্বজনেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন সগিরা মোর্শেদের স্বামী ও মামলার বাদী আব্দুস সালাম চৌধুরী ও মেয়ে সামিয়া সাবা চৌধুরী। রায় ঘোষণার পর সামিয়া সাবা চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার সময় আমার বয়স ছিল ছয় বছর। আমার বড় বোনকে স্কুল থেকে আনার জন্য মা গিয়েছিলেন। আমি বাসায় ছিলাম। আমার মাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে হত্যা করা হয়।’
সামিয়া আরও বলেন, ‘মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন ডা. হাসান আলী চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীন। তাঁরা রায়ে খালাস পেয়ে গেছেন।’ পরিকল্পনাকারী কীভাবে খালাস পায়—এই প্রশ্ন রেখে সামিয়া বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট না। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
মামলার বাদী ও সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ‘রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। দুজনের রায়ে সন্তুষ্ট, আর দুজনের রায়ে অসন্তুষ্ট। আমরা আপিল করব।’
পারিবারিক বিরোধে হত্যার বিষয়টি বাদীপক্ষ প্রমাণ করতে না পারায় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়েছে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন বিচারক। এ প্রসঙ্গে সগিরার মেয়ে সামিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চারজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে পারিবারিক বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন, গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি সাক্ষীরা আদালতকে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বর্ণনা করেছেন। পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি প্রমাণ হয় না কেমন করে?’
এর আগে, রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধে হত্যার বিষয়টি মামলার বাদী প্রমাণ করতে না পারায় নিহতের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীনকে খালাস দেওয়া হয়েছে বলে বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন। এ ছাড়া আনাস মাহমুদ ওরফে রেজওয়ান ও মারুফ রেজার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।’ আইনজীবী বলেন, ‘দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরাও আপিল করব।’
উল্লেখ্য, ৩৫ বছর আগে ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মিন্টু ওরফে মন্টু নামে একজনকে আসামি করে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে জানতে পারে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে সগিরা মোর্শেদের ভাশুর, ভাশুরের স্ত্রী, ভাশুরের শ্যালক ও মারুফ রেজা সগিরা মোরশেদকে হত্যা করেছিলেন। পরে পিবিআই সগিরার ভাশুরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্র থেকে দেখা যায়, সগিরার ভাশুরসহ চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন।








