Ajker Patrika

গ্রাহকের শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, আইসিএল শফিক কারাগারে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় পলাতক আইসিএলের এমডি শফিক গ্রেপ্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা
কুমিল্লায় পলাতক আইসিএলের এমডি শফিক গ্রেপ্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা

গ্রাহকের শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (আইসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমান ওরফে আইসিএল শফিককে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ শুক্রবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে কুমিল্লা মহানগরীর একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, চৌদ্দগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় করা একাধিক মামলায় শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা প্রাপ্তির আদেশ ছিল। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিএলে আমানত রাখা গ্রাহকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমা করা টাকা ফেরত না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েন। প্রতিষ্ঠানটি উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। পরে নির্ধারিত সময় পার হলেও আমানত ও মুনাফা ফেরত না দেওয়ায় গ্রাহকেরা বিভিন্ন থানায় মামলা করতে শুরু করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ায় অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়। কেউ কেউ হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও জানান তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রাহকদের করা বহু মামলায় আদালত শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কয়েকটি মামলায় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায়ও রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের করা মামলার সংখ্যা দুই শতাধিক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও সমবায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সময় সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম। সমবায় অধিদপ্তরের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে আইডিয়াল কো-অপারেটিভ সোসাইটির বড় অঙ্কের অর্থ তছরুপ ও আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে।

২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধকের দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাধ্যমে ১৮০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে শফিকুর রহমানকে অর্থ আত্মসাতের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তের পর গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ ও দায়দেনা সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ এবং দেনার একটি তালিকা সমবায় অধিদপ্তরে দাখিল করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

তবে গ্রাহকেরা জানান, তালিকাভুক্ত বহু সম্পত্তি পরে গোপনে বিক্রি করে ফেলা হয় এবং সেই অর্থ গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি। ভূমি অফিসের নথি যাচাই করে এসব সম্পত্তি হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আইসিএলের এমডি শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক মামলার সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। চৌদ্দগ্রাম থানা-পুলিশের চাহিদার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত