Ajker Patrika

মিতু হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মিতু হত্যা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় তাঁর (বাবুল) শ্বশুরের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বাবুল আক্তারকে মিতু হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে এই প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআই’র পক্ষ থেকে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবু আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলার নথিতে থাকা আসামি, সাক্ষীর জবানবন্দিসহ যাবতীয় তথ্য বাবুলের মামলার সঙ্গে একীভূত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। 

ওমর ফারুক বলেন, একই ঘটনায় দুটি মামলা চলতে পারে না। কিন্তু একই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি মামলা তদন্ত করছেন পিবিআই। তাই মামলা দুটিকে একীভূত করে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। 

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে এই বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। 

তদন্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেছেন, তদন্তে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে তাঁর স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও অপরাধ প্রমাণিত। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ বিভিন্ন সাক্ষ্য, তথ্য উপাত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ ঘটনায় জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে বাবুল আক্তার ৬ জুন বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে বাবুল আক্তারকে আসামি করা হয়। একই দিন বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পিবিআই। এছাড়া বাবুল আক্তারের বাদী হয়ে করা মামলাটিতে আদালত গত ৯ জানুয়ারি বাবুল আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখান। 

ওই মামলায় জামিন চাইলে মঙ্গলবার বাবুল আক্তারের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি ফখরুদ্দিন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্ত্রী খুনের মামলায় বাবুল আক্তারের জামিন আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করেন। 

এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর আদালত বাবুলের করা মামলার পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পর্যবেক্ষণে আদালত দুটি মামলা একসঙ্গে চলতে পারে না বলে আদেশ দেন। আদালত এটিকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করেন। তবে বাবুলের করা মামলাটিতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ, আসামি–সাক্ষীর জবানবন্দিসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাবুলের করা মামলাটির তদন্ত চলবে। 

আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, এ মামলায় (বাবুলের করা মামলা) একটি সফল তদন্ত হয়েছে, যার মাধ্যমে খুনের মোটিভ ও আসামি শনাক্ত হয়েছে। তদন্তে দুজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, দুই সাক্ষীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, কার্তুজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ হয়েছে। একটি সফল তদন্তের পরিসমাপ্তি কেবল টেকনিক্যাল একটি তুচ্ছ কারণে ব্যর্থ করে দেওয়া উচিত হবে না, বরং এ মামলায় অধিকতর তদন্ত করে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং পরবর্তী আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। এজাহারকারী বা বাদী তদন্তে আসামি হিসেবে শনাক্ত হলেও তাতে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর ২১ ধারার বিধান অনুযায়ী ওই এজাহার এজাহারকারীর বিরুদ্ধে বিচারের সময় প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত