
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন ঘুমধুম এলাকার জনবসতিতে দুটি মর্টার শেল আছড়ে পড়েছে। অবশ্য কোনোটিই বিস্ফোরিত হয়নি।
আজ রোববার বেলা ৩টার দিকে মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপিত দুটি মর্টার শেল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু উত্তর মসজিদের কাছে ভূপতিত হয়। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মোহাম্মদ আনিস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিকেলে বিকট শব্দে গোলাটি উত্তর পাড়ার আয়াজের বাড়ির কাছে এসে পড়ে। পরে আরো একটি গোলা কাছাকাছি রাস্তায় পড়ে। আমরা আতঙ্কে আছি, জানি না কখন কী হয়!’
ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে ওপারে গোলাগুলি হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি. রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এতদিন পাহাড়ে গোলা ছুড়লেও আজকে উত্তর পাড়ায় মর্টারশেলগুলো পড়েছে, স্থানীয়রা আতঙ্কে আছে।’
ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা অবস্থান করছেন বলেও জানান চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে জানতে সীমান্তে দায়িত্বরত কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মেহেদী হোসাইন কবিরের ফোনে নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সীমান্তে কর্মরত বিজিবির জোয়ানেরা।
আজ দুপুরে বাজার-সদাইয়ের জন্য নিকটবর্তী উখিয়ার কুতুপালং বাজারে আসেন ঘুমধুম উত্তর পাড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম (৩৫)। মোবাইল ফোনে নিজের এলাকায় মর্টার শেল পড়ার খবর পেয়ে পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
আবুল কালাম বলেন, ‘ফোনে ভাই খবর দিল বোমা পড়ছে। আমি তাকে বলেছি, পরিবার নিয়ে এদিকে চলে আসতে। চিন্তা করছি এখানে (কুতুপালং) আত্নীয়ের বাসায় থাকব।’
এদিকে, রাখাইনে উত্তেজনার কারণে ঘুমধুমের দক্ষিণ কোনাপাড়া সীমান্তের শূন্য রেখায় বসবাসরত ৬২১টি পরিবারের ৪ হাজার ২০০ রোহিঙ্গাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সোহাগ রানা জানান, কয়েক দিন ধরে সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এতদিন কোনো বিস্ফোরক এপারে না পড়লেও আজকে উত্তর পাড়ায় দুটো মর্টার শেল পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
শূন্য রেখার আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা রোহিঙ্গা আবুল হাকিম (৫৩) বলেন, ‘হঠাৎ করেই রাখাইনে তুমুল সংঘর্ষ হচ্ছে, আমরা আতঙ্কে আছি— কখন জানি আমাদের হতাহত হতে হয়। মিয়ানমারের বিজিপি চৌকি বসিয়ে আমাদের নজরদারি করছে, নিজ দেশে আদৌ ফেরত যাব কি না জানি না।’
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মর্টার শেল পড়ার কথা স্বীকার করেন। তবে ঘুমধুমের সূত্র, জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকেরা তিনটি মর্টার শেলের কথা বললেও পুলিশ সুপার দুটি মর্টার শেল পড়ার কথা বলেছেন।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে বিজিপির তুমব্রু রাইট ক্যাম্প এলাকা থেকে ছোড়া দুটি মর্টার শেল সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে আনুমানিক আধা কিলোমিটার ভেতরে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু উত্তর পাড়া জামে মসজিদের পাশে এবং আরেকটি ওই এলাকার আনুমানিক ২০০ গজ পূর্বে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়ে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলা পতিত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে বিজিবি মোতায়েন আছে।’
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীতে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মিয়ানমারের উত্তর মংডুর ৩৮নং সীমান্ত পোস্ট সংলগ্ন এলাকায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইনের বিচ্ছিন্ন বাদী সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে।
এছাড়া রাখাইনের পালেতুয়া এলাকায় সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৭ জন মিয়ানমার সেনা নিহত হয় বলে উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

কবর জিয়ারত শেষে বিএনপির নেতারা নিহত মোতালেব হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ সময় তাঁরা নিহত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
২৭ মিনিট আগে
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা বেশ কিছু সময় ধরে চলতে থাকে। এতে মিরপুর সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
১ ঘণ্টা আগে
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. খায়রুল হাসান বেনুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
ফেসবুক আইডিতে আখতার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, ‘লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড তৈরি, মিছিল, উঠান বৈঠকের আয়োজনের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি ও নতুন আইডিয়া দিয়ে আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। কোনো দ্বিধা নয়, দশ টাকা দিয়ে শুরু করুন। সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ডোনেশন করুন।
২ ঘণ্টা আগে