Ajker Patrika

মহিলা বাসে যাত্রী নেই, মাসে লোকসান ৩ লাখ

  • দুটি বাস মাটিডালী-শেরপুর ও বনানী-মোকামতলা রুটে চলাচল শুরু করে।
  • বাসের সময়সূচি সুবিধজনক না হওয়ায় নারীদের কাজে আসছে না।
গনেশ দাস, বগুড়া 
মহিলা বাসে যাত্রী নেই, মাসে লোকসান ৩ লাখ

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বগুড়ায় চালু করা হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মহিলা বাস সার্ভিস। তবে চালুর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত যাত্রী পাচ্ছে না বাস দুটি। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ৪৫ আসনের বাসে অল্পসংখ্যক যাত্রী দেখা যায়। এতে প্রতি মাসে বিআরটিসিকে গুনতে হচ্ছে ৩ লাখ টাকার বেশি লোকসান।

গত ১৮ আগস্ট বগুড়া বিআরটিসি বাস ডিপোতে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। পরদিন থেকে দুটি বাস মাটিডালী–শেরপুর এবং বনানী–মোকামতলা রুটে চলাচল শুরু করে।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ৭টায় বগুড়া বাস ডিপো থেকে একটি বাস ছেড়ে মাটিডালী থেকে শেরপুর যায়। পরে বিকেল ৪টায় শেরপুর থেকে ছেড়ে বাসটি বগুড়া ডিপোতে ফিরে আসে। অন্য বাসটি দুপুর ১২টায় ডিপো থেকে ছেড়ে মোকামতলা যায় এবং বিকেল ৪টায় সেখান থেকে ফিরে আসে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের বেশির ভাগ সময়ই দুটি বাসের অধিকাংশ আসন ফাঁকা থাকছে। শেরপুর ও মোকামতলা রুটে পথিমধ্যে কিছু স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীকে বাসে উঠতে দেখা গেলেও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

শেরপুর উপজেলার একটি কলেজে চাকরি করেন শামিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘শুরুতে মহিলা চালক দেখে বাসে উঠতে ভয় লাগত। এখন মাঝেমধ্যে যাতায়াত করি। কিন্তু বাসের সময়সূচি নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।’ তাঁর মতে, অনেক নারী চাকরিজীবীর জন্য সকাল ৭টার বাসটি খুব একটা সুবিধাজনক নয়। বগুড়া শহর থেকে শেরপুরে কর্মস্থলে যাওয়া নারীদের অনেককেই সকাল ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হতে হয়। ফলে সকাল ৭টায় ডিপো থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসটি তাঁদের কাজে আসছে না।

অন্যদিকে মোকামতলা রুটের বাসটি দুপুর ১২টায় ছাড়ায় সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ফলে এই রুটেও বাসটি অধিকাংশ সময় ফাঁকা যাচ্ছে।

বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপো সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো দুটি বাস গোলাপি রং করে মহিলা বাস সার্ভিস হিসেবে চালানো হচ্ছে। দুটি বাস পরিচালনার জন্য ছয়জন নারী ও একজন পুরুষ কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের প্রতিদিন খাবার ভাতা বাবদ খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এর বাইরে রয়েছে মাসিক বেতন, জ্বালানি ও পুরোনো বাসের মেরামত খরচ। কিন্তু দুটি বাস থেকে প্রতিদিন আয় হচ্ছে দুই হাজার টাকার বেশি না।

বিআরটিসি বগুড়া বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘আমরা অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীসেবা দিচ্ছি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বিআরটিসি ভাড়া বাড়ায়নি।’ তিনি বলেন, দুটি বাসে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকার ডিজেল লাগে। এর সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন, খাবার ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে দুটি বাস পরিচালনায় প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।

বেসরকারি পরিবহনের তুলনায় মহিলা বাসে ভাড়া অনেক কম। বগুড়া থেকে শেরপুরের সাধারণ ভাড়া ৭২ টাকা হলেও মহিলা বাস সার্ভিসে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। তবে এরপরও পাওয়া যায় না যাত্রী। বিআরটিসির এই সেবায় যাত্রী কম হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে রুট ও সময়সূচির বাস্তবতা। কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ নারী যাত্রীদের যাতায়াতের সময় বিবেচনায় না নিয়ে বাস পরিচালনা করায় কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীদের ভাষ্য, বাসের সময়সূচি সুবিধাজনক না হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে অটোরিকশা, ইজিবাইক বা রিকশা ব্যবহার করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত