মোকামতলায় খাদ্যবান্ধব নতুন কার্ড দিয়েও মিলল না চাল

বগুড়ার মোকামতলা উপজেলায় নতুন কার্ড পেয়েও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাননি অনেক উপকারভোগী। সম্প্রতি চাল নিতে গিয়ে কেউ কেউ একাধিকবার ঘুরেও চাল পাননি, আবার কাউকে ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে ৪৫০ টাকা।
ডিলারের দাবি, সব কার্ডধারীর চাল গুদামে পৌঁছেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোনো বিধান নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
মোকামতলার গণেশপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রওশন আরা নতুন কার্ড পেয়েছেন। কিন্তু সেই কার্ড নিয়ে চাল সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক ডিলারের কাছে ঘুরেও চাল পাননি তিনি। প্রথমে মুরাদপুর এলাকার এক ডিলারের কাছে যান। সেখানে চাল না পেয়ে গোডাউন রোডের আরেক ডিলারের কাছে যান। সেখানেও চাল না পেয়ে পুরোনো পুলিশ ফাঁড়ির কাছে আরেক ডিলারের কাছে যান। শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে।
একই গ্রামের কার্ডধারী জরিনা বেগম বলেন, ‘কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছে দুই দিন ঘুরেছি। চাল পাইনি। তাঁরা বলছেন, পরের মাসে আসেন।’ একই অভিযোগ শাহিদা বেগমেরও। তিনি বলেন, ‘কার্ড নিয়ে গেছি, কিন্তু চাল পাইনি। ২০ তারিখের পরে আসতে বলছে।’
চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন উপকারভোগী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কার্ডধারী জানান, মুরাদপুর এলাকার ডিলারের কাছে চাল নিতে গেলে তাঁকে বলা হয়, সেখানে চাল নেই। চালের পরিবর্তে টাকা নিতে হবে। তিনি টাকা নিতে রাজি না হয়ে চাল দাবি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে ৪৫০ টাকা দেওয়া হয়।
মোকামতলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মিজানুর রহমানের ডিলারশিপে মোট কার্ডধারী রয়েছেন ৭৬৩ জন। তাঁদের মধ্যে নতুন কার্ডধারী ২৬২ জন। মিজানুর রহমানের দাবি, সব কার্ডধারীর বরাদ্দের চাল তাঁর ডিলারশিপে পৌঁছেছিল।
নতুন কার্ডধারীদের অনেকে চাল না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চাল বিতরণ করেছেন তাঁরা। এরপর যাঁরা দেরিতে এসেছেন, তাঁদের কার্ডপ্রতি ৪৫০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার সিদ্ধান্তেই টাকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের ওপর যেন দোষ না আসে, সে জন্য টাকা দিয়েছি।’
তবে যাঁরা চাল কিংবা টাকা কোনোটিই পাননি, তাঁদের বরাদ্দের চাল কোথায় গেল—এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি বলতে পারব না।’ সব কার্ডধারীর বরাদ্দের চাল পাওয়ার দাবি করলেও বঞ্চিত ব্যক্তিদের চাল না দেওয়ার বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম বলেন, ডিলারদের কিছু সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বসেছিলেন। পরে কিছু মানুষ চাল কিংবা টাকা পেয়েছেন। কার্ড নিয়ে কারও কোনো সমস্যা থাকলে তাঁকে জানালে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে একটু সমস্যা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ভালো বলতে পারবেন।’ চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চালের পরিবর্তে টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। আর আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









