পুকুরের বালু সরিয়ে আগের অবস্থায় ফেরানোর নির্দেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের

আইন লঙ্ঘন করে সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরের একাংশ ভরাটের অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিনকে নোটিশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আজ সোমবার অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন এ নোটিশ দেন। নোটিশে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে ভরাট করা অংশের বালু অপসারণের পাশাপাশি জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
দৈনিক আজকের পত্রিকায় আজ সোমবার ‘আইন লঙ্ঘন করে কলেজের পুকুর ভরাট অধ্যক্ষের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয় কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে বলা হয়, গতকাল রোববার সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর বেআইনিভাবে ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। পুকুর ভরাটের কার্যক্রম শুরু করে অধ্যক্ষ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ঙ) ধারা লঙ্ঘন করেছেন, যা একই আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ অবস্থায় অবিলম্বে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে ভরাট করা অংশের বালু অপসারণের মাধ্যমে পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জমির মালিকানার দলিল, খতিয়ান, পর্চা ও মৌজা ম্যাপসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে লিখিতভাবে অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পুকুর ভরাটের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাছে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।
এর আগে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন জানিয়েছিলেন, ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। বাধা পাওয়ায় আর ভরাট করবেন না বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, কলেজের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি ভরাটের কাজের দায়িত্বে ছিল।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরের একাংশ বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন ছাত্রদল নেতাদের সহায়তায় এ কাজের নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে গতকাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখা পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেয়। একই দিন পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।










