Ajker Patrika

ঢাকা-বরিশাল-ভোলা: দুঃখ ঘুচবে যাতায়াতে, চাকা ঘুরবে অর্থনীতির

  • ভোলার পাশাপাশি সড়কপথে যুক্ত হবে বিচ্ছিন্ন হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ।
  • লঞ্চের সময়সূচির ওপর নির্ভরশীলতা দূর হবে দ্বীপ জেলা-উপজেলার মানুষের।
খান রফিক, বরিশাল 
ঢাকা-বরিশাল-ভোলা: দুঃখ ঘুচবে যাতায়াতে, চাকা ঘুরবে অর্থনীতির
ছবি: আজকের পত্রিকা

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে বরিশালের রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিতে গত শনিবার সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রস্তাবিত এই সড়কপথ বাস্তবায়ন হলে ভোলার বাসিন্দাদের লঞ্চের সময়সূচির ওপর নির্ভরশীলতা দূর হবে। তাঁরা সার্বক্ষণিক সড়কপথে বরিশাল হয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

অপর দিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বরিশালের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলাও সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে। এর ফলে উপজেলা দুটির অর্থনৈতিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতারা। তাঁরা ­ নির্মাণ হলে উপজেলা দুটির মানুষেরও জীবনমানের উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর তাঁদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত সড়কপথ বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাবুগঞ্জের রহমতপুর থেকে আড়িয়াল খাঁ নদে মীরগঞ্জ-মুলাদী সেতু, গজারিয়া নদীর ওপর হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ সংযোগ সেতু এবং তেঁতুলিয়া নদীর ওপর মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা আরেকটি সংযোগ সেতু নির্মাণ হতে পারে।

রহমতপুর থেকে মীরগঞ্জ-মুলাদী সেতু হয়ে হিজলা পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার। আবার হিজলা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলাসংলগ্ন এলাকার দূরত্ব প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়া নদীতে সেতু হলে ভোলা পর্যন্ত আরও ৫ কিলোমিটার পথ যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে এ মহাসড়কের রুট প্রায় ৮০ কিলোমিটার হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে সওজ।

জানতে চাইলে হিজলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাবেদ হোসেন রানা বলেন, ‘রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-ভোলা মহাসড়ক করার উদ্যোগ সরকারের মেগা প্রকল্প। হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জের মানুষও ভোলার মতো নদীর কারণে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। আমরা সরাসরি সড়কপথে বরিশালে যেতে পারি না, আবার ঢাকায়ও যেতে পারি না। হিজলা থেকে ঢাকায় যেতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। মহাসড়ক হলে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় কমে যাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্য, মাছ সরাসরি ঢাকায় পাঠানো যাবে।’

মুলাদী সদরের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান বলেন, ‘সরকারের এটা ভালো উদ্যোগ। এর ফলে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন উপজেলা সড়কে যুক্ত হবে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত মালামাল ঢাকায় পৌঁছে দিতে পারবেন।’

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, ‘পথ দীর্ঘ হলেও উদ্যোগ খারাপ হয় না। ভোলা যেমন বিচ্ছিন্ন, তেমনি বরিশাল জেলার দুটি উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ মহাসড়কে যুক্ত হবে।’

ভোলার গ্যাস রক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘ভোলা-বরিশাল সংযোগ যেভাবেই হোক, আমাদের তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু একটি সেতু কিংবা সড়ক হলেই কোনো এলাকা সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে না। এ জন্য সরকারের উচিত ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহের দিকে গুরুত্ব দেওয়া।’

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিভাগীয় শহর বরিশালের দুটি উপজেলা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। মেহেন্দীগঞ্জের মানুষ বরিশালে এসে বাড়ি ফিরতে না পেরে হোটেলে থেকে যান। এই কষ্টটা দূর হবে। এ ছাড়া ভোলার সঙ্গে নদীবেষ্টিত হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে এলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত