Ajker Patrika

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে কলেজছাত্রকে নির্যাতন

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ৪৪
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে কলেজছাত্রকে নির্যাতন
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ওমর ফারুক। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার আমতলীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ওমর ফারুক (১৭) নামে এক কলেজছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই কলেজের চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ওমর ফারুক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আহত ওমর ফারুক আমতলী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন আবিদ, সজিব, বায়েজিদ ও তরিকুল।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে ওমর ফারুক আমতলী শহরে যান। শহরের আবদুল্লাহ সুপার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে আবিদ, সজিব, বায়েজিদ ও তরিকুল তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে নেন। পরে তাঁকে কালিবাড়ী এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে হকিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা চলে যান। এ সময় বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ওমর ফারুক।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গত তিন দিন ধরে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় পুলিশকে বিষয়টি জানানোর সাহস পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ওমর ফারুক হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন। তাঁর হাত, পা, বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ব্যথার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারছেন না।

ওমর ফারুক বলেন, আবিদ, সজিব, বায়েজিদ ও তরিকুল আমাকে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগ তুলে হকিস্টিক দিয়ে মারধর করেন। আমি তাদের পা ধরেও রক্ষা পাইনি।

ওমর ফারুক আরও বলেন, আমাকে নির্যাতনের পর কাউকে কিছু না বলতে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে ভয়ে কাউকে কিছু জানাইনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বায়েজিদ হোসেন বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে কটূক্তি করায় ওমর ফারুককে মারধর করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল ইসলাম রাহাত বলেন, ওমর ফারুককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত