Ajker Patrika

মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ

এস বাসু দাশ, বান্দরবান
মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ
প্রবারণা পূর্ণিমার প্রাণোচ্ছল আয়োজনে রয়েছে মাহারথযাত্রা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাতের আকাশ জুড়ে শত শত রং বেরংয়ের ফানুস। বর্ণিল রূপে সজ্জিত আজ আকাশ। এরই মধ্যে ড্রাগনের আদলে সাজানো রথ টেনে চলেছেন আনন্দোচ্ছল একদল মানুষ। বৌদ্ধ মন্দিরে মন্দিরে (ক্যায়াং) জ্বালানো হয়েছে হাজারো প্রদীপ। পাহাড়ের নিস্তরঙ্গ জীবনে প্রবারণা পূর্ণিমায় এভাবেই আনন্দ আর প্রাণপ্রাচুর্যের বন্যা বয়ে যায়।

গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা, আলিকদম, রুমাসহ ৭টি উপজেলায় আদিবাসীরা এই উৎসবে মেতে উঠেছে। মারমা ভাষায় তাঁরা বলেন -- মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ। যার অর্থ ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’।

ধর্মীয় ও সামাজিক এই উৎসবকে ঘিরে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। আজ সোমবার সকাল থেকে বান্দরবানের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে বিহারে চলছে ফানুস উত্তোলন, ধর্মীয় দেশনা, ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে অর্থ ও অন্নদান, ফুল পূজা আর উপাসক-উপাসিকারা গ্রহণ করছেন শীল।

বিহারে বিহারে চলছে ধর্মীয় দেশনা ও জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষেরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সুখ, শান্তি লাভ ও জগতের কল্যাণ কামনার প্রার্থনায় জড়ো হচ্ছেন। দায়ক-দায়িকারা মোমবাতি, ধুপকাঠি প্রজ্জলন আর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছোয়াইং (বিভিন্ন ধরনের খাবার) প্রদান করে দিনটি উদযাপন করছেন।

সন্ধ্যায় শহরের পুরাতন রাজবাড়ির মাঠ থেকে ‘ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়েঃ লাগাইমে. . ’ (সবাই মিলে মিশে রথযাত্রায় যায়. .) আদিবাসী মারমা’রা এই বিশেষ গানটি পরিবেশন করে মাহারথ যাত্রা শুরু করেন। এ সময় পাংখো (এক ধরণের পুতুল) নৃত্য পরিবেশন আর রথ টানতে শত শত আদিবাসীরা রাস্তায় নেমে আসেন। রথে জ্বালানো হয় হাজার হাজার মোমবাতি এবং দান করা হয় নগদ অর্থ। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাতে বান্দরবানের উজানীপাড়াস্থ সাংগু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের।

বান্দরবান রাজ গুরু বৌদ্ধ বিহার এর নন্দশ্রী ভিক্ষু বলেন, ‘প্রবারণায় ভগবান বুদ্ধের কাছে দেশবাসীর শান্তি কামনা করছি, যাতে সবাই সুখে থাকে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত