Ajker Patrika

বগুড়ার শেরপুর: আবাদি জমিতে পুকুর খনন

  • খনন করা মাটি বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে
  • মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকের চাপে নষ্ট হচ্ছে সড়ক
  • ১০ থেকে ১২ বিঘা আবাদি জমিতে খনন চলছে
  • ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে দরকার পৌনে ২ কোটি টাকা
  • বর্ষা মৌসুমে পানিনিষ্কাশনে সমস্যার আশঙ্কা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  
বগুড়ার শেরপুর: আবাদি জমিতে পুকুর খনন
বগুড়ার শেরপুর খোট্টাপাড়া গ্রামে আবাদি জমি খনন করে পুকুর করা হচ্ছে। মাটি ডাম্প ট্রাকে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার তোলা ছবি। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খোট্টাপাড়া গ্রামে আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে। খনন করা মাটি ডাম্প ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। ভারী ডাম্প ট্রাকের চাপে গ্রামীণ পাকা ও ইট বিছানো সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই মাস ধরে দিনে-রাতে অন্তত ১০ থেকে ১২ বিঘা আবাদি জমিতে পুকুর খনন চলছে। প্রায় এক মাস আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে খননযন্ত্রের দুটি ব্যাটারি জব্দ করেন। তবে এরপরও নতুন ব্যাটারি সংযুক্ত করে খনন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর পৌর শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণে অবস্থিত খোট্টাপাড়া গ্রামে খননকাজ চলমান রয়েছে। খনন করা মাটি ডাম্প ট্রাকে করে বহনের কারণে সাধুবাড়ি পাকার মাথা থেকে ঘোলাগাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়কের পিচ-পাথর উঠে গেছে। এ ছাড়া খোট্টাপাড়া গ্রামের অভ্যন্তরে প্রায় ১ কিলোমিটার ইট বিছানো সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে আশপাশের অন্তত তিন গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার চলাচল করে।

স্থানীয় ফজলুল হক বলেন, ভারী ট্রাক চলাচলের ফলে একটি কালভার্টও ভেঙে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানিনিষ্কাশনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। গ্রামের তিনজন নারী বলেন, দিনরাত ট্রাক চলাচলের শব্দ ও ধুলাবালুর কারণে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুতগতির ট্রাক চলাচলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, তিনি অবৈধ খননের অভিযোগ জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেছিলেন। তবে থানা-পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেন।

পুকুর খননের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মাসুদ বলেন, তিনি একজন মৎস্যচাষি এবং খনন করা জমির মালিক। মাছ চাষের উপযোগী করতে জমিকে পুকুরে রূপান্তর করছেন। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসন তাঁর কাজে কোনো বাধা দেয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জমির শ্রেণি পরিবর্তন-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে এক মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে খননযন্ত্রের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মির্জাপুর ইউনিয়নের সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তা মোছা. স্বপ্না পারভীন বলেন, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করেছেন।

শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল মজিদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতে অন্তত পৌনে ২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমানে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় দ্রুত সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ বলেন, আবাদি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য সরকারি অনুমোদন আবশ্যক। খোট্টাপাড়া গ্রামে যে খননকাজ চলছে, তার কোনো অনুমোদন নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত