Ajker Patrika

ইঞ্জিন সংকটে ৫ ট্রেন বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা

  • সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম সিলেট-আখাউড়ায় লোকাল ট্রেন বন্ধ
  • সিলেট-আখাউড়া রুটে এক জোড়া ডেমু ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে
  • বিদেশ থেকে ইঞ্জিন সংগ্রহে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ
মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
ইঞ্জিন সংকটে ৫ ট্রেন বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা
ফাইল ছবি

ইঞ্জিন সংকটে সিলেট রুটে পাঁচটি লোকাল ও ডেমু ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।

জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা, সিলেট- চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পর্যন্ত সুরমা, জালালাবাদ ও কুশিয়ারা নামের তিনটি লোকাল ট্রেন চলত। ইঞ্জিন সংকটের কারণে ছয় মাস আগে সিলেট-ঢাকা রুটে সুরমা ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২০ সালের দিকে ইঞ্জিন ও কোচ সংকটে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে জালালাবাদ এক্সপ্রেস বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঠিক একই কারণে সিলেট-আখাউড়া রুটে কুশিয়ারা নামের লোকাল ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথে এক জোড়া ডেমু ট্রেন চালু করা হয়েছিল। ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সেগুলোও ২০১৯ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ধীরগতিতে লোকাল ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রীরা স্বল্পখরচে ভ্রমণ করতে পারতেন। এখন বিকল্প ব্যবস্থায় ভ্রমণ করতে গিয়ে তাদের ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ বেড়েছে।

সাধারণ যাত্রীরা জানান, সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ছোট-বড় সব স্টেশনে লোকাল ট্রেনগুলো থামত। এমনকি আগে থেকে বন্ধ থাকা কয়েকটি স্টেশনেও কোলাহল ফিরিয়ে এনেছিল এসব ট্রেন। তবে লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি রেলস্টেশনের কার্যক্রম এখন পুরোপুরি থমকে গেছে। কর্মচঞ্চলতা না থাকায় এসব স্টেশন এখন ভুতুড়ে বাড়ির মতো হয়ে গেছে।

কুলাউড়া উপজেলার মনু রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা রমিজ মিয়া ও মাসুক আহমেদ বলেন, আমাদের বয়স প্রায় ৬০ বছর হয়ে গেছে। এই স্টেশনে আগে নিয়মিত লোকাল ট্রেন থামত। এখান থেকে শত শত মানুষ বিভিন্ন পণ্য ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল নিয়ে বিক্রি করতেন। আবার খরচ বাঁচাতে অনেক যাত্রী নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াত করতেন। স্টেশন সব সময় মানুষের পদচারণে মুখর থাকত। অতীতের কথা মনে হলে এখন সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগে। একটি একটি করে লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে। আমাদের দাবি, অন্তত দুটি লোকাল ট্রেন আবার চালু করা হোক।

কুলাউড়ার স্টেশনমাস্টার রোমান আহমেদ এবং শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, ইঞ্জিন সংকটের কারণে লোকাল ট্রেনগুলো চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। লোকাল ট্রেনগুলো যদি চালু করা যেত, তাহলে সিলেট অঞ্চলের মানুষের জন্য অনেক ভালো হতো। এতে ট্রেনের টিকিট সংকট অনেকটা কমে আসত। এখন যেসব ট্রেন ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রামে চলাচল করছে; এসব ট্রেনের যাত্রীদের ভ্রমণ আরও নির্বিঘ্ন হতো।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, এই ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর জন্য ইঞ্জিন প্রয়োজন। আমাদের ইঞ্জিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান আছে। তবে এসব ইঞ্জিন পেতে একটু বিলম্ব হবে, কারণ এগুলো বিদেশ থেকে আনতে হয়। আমরা নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহ করে সমস্যাটা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত