Ajker Patrika

দিনাজপুরে লিচুর বাজার

হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা

  • জেলায় লিচুর বাগান রয়েছে ৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে।
  • চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৯৩ টন।
  • গত বছর জিআই পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের বেদানা লিচু।
আনিসুল হক জুয়েল, দিনাজপুর 
হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা
গ্রীষ্মের রসাল ফল লিচুর বেচাকেনা জমে উঠেছে দিনাজপুরের কালিতলা পৌর মার্কেটে। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা। আজকের পত্রিকা

লিচুর রাজ্য খ্যাত দিনাজপুরে জমে উঠেছে বেচাকেনা। জেলা শহরের কালীতলায় লিচুর প্রধান বাজারে ভোর থেকে মধ্যরাত অবধি চলছে বেচাকেনা। পাইকারেরা লিচু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দিনাজপুরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

উপযোগী আবহাওয়া আর লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে লিচুর আবাদ বেশ জনপ্রিয়। কয়েক দশক ধরে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে হচ্ছে লিচু চাষ। জেলাজুড়ে মাদ্রাজি, বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি এবং মোজাফফরি জাতের লিচুর বাগান রয়েছে। গত বছর জিআই পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের বেদানা লিচু।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী জেলায় লিচুর বাগান রয়েছে ৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৯৩ টন। জেলায় সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বাগান আছে বোম্বাই জাতের লিচুর। এ ছাড়া মাদ্রাজি ১ হাজার ৮৯ হেক্টর, চায়না-থ্রি ৭১১ হেক্টর, চায়না-টু ১৩২ হেক্টর, বেদানা ৩০৮ হেক্টর, কাঁঠালি ২৪ হেক্টর এবং মোজাফফরি জাতের লিচুর বাগান আছে ১ হেক্টর জমিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, দিনাজপুর লিচু চাষে বেশ সমৃদ্ধ। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৯৩ টন। সবকিছু ঠিক থাকলে এই পরিমাণ লিচুর বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। আর পরিবহনসহ অন্য সবকিছু মিলিয়ে আরও ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সদরের মাসিমপুর, আউলিয়াপুরসহ বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার লিচুবাগান ঘুরে দেখা যায়, গাছ থেকে লিচু সংগ্রহ ও বাছাই করে প্যাকেট করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। চাষিরা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টির কারণে এবার বেদানা ও মাদ্রাজি লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে।

বিরল উপজেলার পুরিয়া গ্রামের চাষি মতিউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, এবার আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে কোথাও ভালো কোথাও কিছুটা খারাপ ফলন হয়েছে। সেই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় এবার দামও কিছুটা কম।

কালীতলার খুচরা ও পাইকারি লিচু ব্যবসায়ীরা জানালেন, এবার লিচুর সরবরাহ বেশ ভালো। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজকে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কম। বাজারে বেদানা জাতের লিচু প্রতি শ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চায়না-থ্রি আকার ভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাদ্রাজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং বোম্বাই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

লিচু ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, দিনাজপুরের লিচু সারা দেশে জনপ্রিয়। আজকে লিচুর সরবরাহ প্রচুর। ঈদের পর আজকে সবচেয়ে বেশি লিচু লক্ষ করা যাচ্ছে বাজারে। দামও এবার সবার নাগালের মধ্যেই। ক্রেতা-বিক্রেতা মিলিয়ে আজকে বাজার বেশ জমজমাট।

শহরের কালীতলায় লিচু কিনতে এসেছেন সুইহারী এলাকার বাসিন্দা শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, দিনাজপুরের লিচুর স্বাদই আলাদা। লিচু দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও বেশ মজাদার। এবার দামও নাগালের মধ্যেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত