
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয়—নতুন সরকার গঠন ও সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে শিগগির সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ শিগগির অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম থেকে কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।
সর্বশেষ ২০০১ সালে ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকার গঠন করেছিল। ওই মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিভিন্ন পদে আটজন স্থান পেয়েছিলেন।
২০০১ সালের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাওয়া সবাই রাজনীতির অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন। ওই সময়ে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এম মোরশেদ খান, চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত আবদুল্লাহ আল নোমান, সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত এল কে সিদ্দিকী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও বাঁশখালী আসন থেকে নির্বাচিত আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।
এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। বর্তমানে এঁদের মধ্যে বেঁচে নেই আবদুল্লাহ আল নোমান, এল কে সিদ্দিকী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। এম মোরশেদ খান দেশের বাইরে ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সাবেক মন্ত্রীদের উত্তরসূরি ও নতুন প্রজন্মের নেতাদের ঘিরে এবার মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী), প্রয়াত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭, রাঙ্গুনিয়া) এবং মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার অংশ হিসেবে এবারের মন্ত্রিসভায় এই তিনজন স্থান পাবেন বলে ধারণা করছেন রাজনীতিসচেতন ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা খোরশেদ আলম এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা সিবিএর সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ বিপুল ভোটে বিএনপিকে জয়ী করেছেন। সেই জনসমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সৎ রাজনীতিবিদদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
২০০১ সালে মন্ত্রিত্ব পাওয়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত আমীর খসরু দীর্ঘদিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। আজ শনিবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদেশি গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে তাঁকেই সামনে আনেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ কারণে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর এটিই ছিল দলটির পক্ষ থেকে প্রথম সংবাদ সম্মেলন।
আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) থেকে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত সরওয়ার জামাল নিজামের নাম। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও ওয়াসিকা আয়েশা খান অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসন থেকে নির্বাচিত আবু সুফিয়ান ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহও আলোচনায় আছেন। এর মধ্যে বিগত সময়ে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসন থেকে যাঁরাই জয়লাভ করেছিলেন তাঁদের বেশির ভাগ সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন।
আর বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন বলে তাঁর অনুসারীরা আলোচনা করছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে গিয়াস কাদের চৌধুরীর পাশাপাশি দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন গোলাম আকবরও। পরে দলের হাই কমান্ডের অনুরোধে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সেই হিসেবে দল তাঁকে মূল্যায়ন করবে বলে জানান রাউজানের বিএনপি কর্মী অর্জুন নাথ।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী জানান, দুর্নীতি, বিচারহীনতা, আইনভঙ্গ ও চাঁদাবাজি রাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এটা প্রকট আকার ধারণ করে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের তা আরও বহুগুণে বেড়েছে। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের আশা নিয়ে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ নেবেন। এরপর বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। বাকি দুটি আসনে ১১ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

পরনে বাসন্তী রঙের ছাপা শাড়ি, খোঁপায় ফুলের সাজ—এমন বেশ ছিল নারীদের। পুরুষদের গায়ে ছিল হলুদ-লাল পাঞ্জাবি। বসন্তের প্রথম সকালে গতকাল এভাবেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে হাজির হলেন দর্শক। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ আহ্বান নিয়ে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্যাপন পরিষদ।
২০ মিনিট আগে
ভালোবাসা দিবসে প্রিয় শিক্ষককে জাঁকজমক আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাসে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর—যা চোখে পড়ার মতো দৃশ্য।
৩৬ মিনিট আগে
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার পর রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হয়।
১ ঘণ্টা আগে
‘আমার প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ গ্রহণ করব না।’ বলেছেন, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী এম এ হান্নান। গতকাল শনিবার ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
১ ঘণ্টা আগে