Ajker Patrika

অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো সিলেটের সেই নৌকাবাইচ, নদীতীরে মানুষের ঢল

সিলেট প্রতিনিধি
অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো সিলেটের সেই নৌকাবাইচ, নদীতীরে মানুষের ঢল
নৌকাবাইচ দেখতে সুনাই নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাউতা ইউনিয়নের সুনাই নদীতে অবশেষে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হলো। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমে অসংখ্য মানুষের। দীর্ঘ অপেক্ষা ও নানা জটিলতার পর উৎসাহ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।

এর আগে ‘তৌহিদি জনতার’ বাধার কারণে এবারের নৌকাবাইচের আয়োজন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। গত সোমবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যস্থতায় সৃষ্ট জটিলতার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ জুমার নামাজের পর থেকেই নৌকাবাইচ দেখতে সিনাই নদীর দুই পাড়ে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এবারের প্রতিযোগিতায় কালিজুরির ‘পাগলা নৌকা’, শরীফগঞ্জের ‘হাকালুকি বাঘ নৌকা’ ও সুজানগরের ‘স্বাধীন বাংলা নৌকা’ অংশ নেয়। গানের সুর ও ছন্দের তালে বিকেল ৪টায় শুরু হয় প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন ধাপ শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় ‘হাকালুকি বাঘ’ ও ‘পাগলা’ নৌকা। কিন্তু দুই নৌকা একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় না নেমে পৃথকভাবে দৌড় শেষ করায় প্রত্যাশিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে পারেননি দর্শকেরা। এতে ফাইনালের ফলাফল নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ ঘটনায় আয়োজকেরাও অসন্তোষ প্রকাশ করে। তবে দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উচ্ছ্বাসে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

দর্শকেরা জানান, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয় বরং গ্রামীণ জনপদের মানুষের আনন্দ-বিনোদনের অন্যতম খোরাক। এ প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে। সারি সারি নৌকা, মাঝিদের বৈঠার ছন্দ, বাদ্যযন্ত্রের সুর ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে নদীর পাড় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আজকের প্রতিযোগিতার ফাইনাল অমীমাংসিত হওয়ায় কিছুটা হতাশা থাকলেও দীর্ঘ জটিলতার পর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হওয়াটাই বড় বিষয়। যে আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে তারা এসেছিলেন, তা অনেকাংশেই পূরণ হয়েছে।

নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন সিলেট-৬ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নৌকাবাইচ আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। নৌকাবাইচ কোনো ধর্মবিরোধী কাজ নয় এবং ধর্মের সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই। আমাদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সুনাই নদীতে প্রতিবছর এ আয়োজন হবে।

আয়োজক সংগঠনের সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, সুনাই নদীর আজকের নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢলই প্রমাণ করেছে, নৌকাবাইচ বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। এটিকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার, থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিম, লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমদ রেজা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত