Ajker Patrika

কুয়াকাটায় ২০ দোকানে তালা, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
কুয়াকাটায় ২০ দোকানে তালা, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে
কুয়াকাটায় এই মার্কেটই বন্ধ করে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। ছবি: আজকের পত্রিকা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ২০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে এবং দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা বিরোধকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল ১১টার দিকে আচার, ঝিনুক ও শুঁটকি মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি ও তাঁর ছেলে রিয়াজ মুসুল্লির নেতৃত্বে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল মার্কেট এলাকায় যায়। পরে ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে বের করে দিয়ে মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে কয়েক বছর ধরে সেখানে ব্যবসা করছেন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের দোকান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী রুবেল মৃধা বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে এখানে ব্যবসা করছি। সকালে অনেক লোক এসে দোকান ছেড়ে দিতে বলে। পরে মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।’

আরেক ব্যবসায়ী মনির হোসেন অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছে খবর দেওয়ার কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। পরে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নেন।

আচার ব্যবসায়ী মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ‘জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আইনগতভাবে সমাধান হতে পারে। কিন্তু আমাদের দোকান থেকে বের করে দিয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’

ব্যবসায়ীরা জানান, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দোকান দখল নিতে গেলে তাঁদের মধ্যে কেউ ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনি সহায়তা চান। পরে মহিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ অন্যরা দোকানিদের মারধর করেন।

মহিপুর থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। সেখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ব্যবসায়ীদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারছেন না।

জমির মালিকানা দাবি করা বেল্লাল মোল্লা বলেন, ওই জমি নিয়ে পটুয়াখালীর আদালতে মামলা চলছে। তাঁর দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দখলে রয়েছে। এর আগেও দোকানগুলোতে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে দোকান খুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এর মধ্যে আবার দোকানগুলোতে তালা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি বলেন, ‘দখল করবে, করবে না—তাইলে কী করবে। এই জমি আমার, গত ১৭ বছর বারেক মোল্লা দখল করে রেখেছে। এই জমির দলিলও আমার নামে।’

প্রশাসনের মাধ্যমে না গিয়ে প্রকাশ্যে দখল করার বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজ মুসুল্লি বলেন, ‘৫ তারিখের পরে আমি এসিল্যান্ডের কাছে গিয়েছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি, তাদেরকে ডেকেছি; কিন্তু তারা আসে না। বাধ্য হয়ে আজ করতে হয়েছে। ওখানে দোকানদারদের কাছে জিজ্ঞেস করিয়েন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উল্লেখিত দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন—এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার। তিনি বলেন, ‘জমিটি লুজ খতিয়ানের হওয়ায় বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে পুনরায় দখল ও দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।’

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ওই এলাকায় উভয় পক্ষের জমি ছিল। সাগরে জমি বিলীন হওয়ার সময় একাধিক ব্যক্তি জমির মালিকানা দাবি করায় আজকের এই ঘটনা ঘটেছে।’ সমাধানের বিষয়ে এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘যেহেতু সেখানে জমি নেই, তাই বিষয়টির সমাধান জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে দলীয় কোনো পরিচয় নয়, মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণেই ঝামেলা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত