Ajker Patrika

খুলনার ৪ উপজেলা: ২০ ফুট নেমে গেছে পানির স্তর সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে

  • গভীর নলকূপ স্থাপনেও সংকটের সমাধান হচ্ছে না
  • কোথাও কোথাও নষ্ট হয়েছে প্রাকৃতিক জলাধার
  • বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৭: ৪০
খুলনার ৪ উপজেলা: ২০ ফুট নেমে গেছে পানির স্তর সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে
ফিল্টার করা পুকুরের পানি সংগ্রহে ব্যস্ত গ্রামাঞ্চলের নারীরা। নিরাপদ পানির জন্য প্রতিদিন এভাবেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। সম্প্রতি খুলনার দাকোপ উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের বুড়ির ডাবুর এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাধার নষ্ট হওয়া এবং পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সুপেয় পানির সংকট বাড়ছে খুলনায়। জেলার কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলায় পানির স্তর ২০ ফুট নিচে নেমে গেছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অপর দিকে খাবার পানির অভাবের কারণে সেখানকার মানুষদের নিদারুণ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

এই চিত্র জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবনসংলগ্ন শিবসা, ভৈরব, হাড়িয়া, কাজিবাছা, কপোতাক্ষ, শৈলমারী, হরিভদ্রা ও আত্রাই ভরাট হওয়ায় বিশুদ্ধ পানির উৎস নষ্ট হয়েছে। এর পাশাপাশি কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়ায় বাগদা চিংড়ি আবাদের ফলে নোনা পানির আধিক্য দেখা দেওয়ায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী, সোলাদানা, দেলুটি, লস্কর, হরিঢালী, লতা, চাঁদখালী; বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী, জলমা, বটিয়াঘাটা; কয়রা উপজেলার আমাদী, বাগালি ইউনিয়নে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তাতে পানির স্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনার উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন কুমার রায় আমাদী বাগালি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের গভীর নলকূপ সফল না হওয়ার চিত্র তুলে ধরে বলেন, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে ২০ শতাংশ গভীর নলকূপ স্থাপন সফল হয়েছে। কিন্তু নলকূপে পানি উঠছে না। তবে কিছু এলাকায় সামান্য পানি পাওয়া গেলেও তা লবণাক্ত। এসব এলাকার মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। সংকট নিরসনে নতুন কোনো উদ্যোগ নেই বলে তিনি জানান।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা, পানখালী, সুতারখালী, কামারখোলা, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বানিশান্তা ইউনিয়নে বছরের আট মাস পানির সংকটের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সংকট নিরসনে ১০ বছর আগে ৪০ হাজার জল সংরক্ষণের ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এখানকার বাজুয়া ও দাকোপ ইউনিয়নে গভীর নলকূপ সফল হয়েছে।

বটিয়াঘাটার চিত্র তুলে ধরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী রুনা আক্তার সুমি বলেন, তিনটি ইউনিয়নে পানির স্তর ২৫ ফুট নিচে নেমেছে। তিনটি ইউনিয়নে লবণাক্ততার মাত্রা অনেক বেশি।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, এলাকার দেড় লাখ জনগোষ্ঠী শুষ্ক মৌসুমে খাবার পানির সংকটে ভোগে। শিবসা নদীর তীরবর্তী এলাকাবাসী কয়েক বছর বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। উপজেলার দেলুটি ও শামুকপোতায় ১২ মাসই খাবার পানির সংকট থাকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী চলতি মৌসুমে বড় মাপের বৃষ্টিপাত হয়নি। এপ্রিলে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার এবং মে মাসে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে বলে মনে করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত