Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল

সেবা বন্ধ করে দুই এমপির সভা, ফিরে গেলেন রোগীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি­
সেবা বন্ধ করে দুই এমপির সভা, ফিরে গেলেন রোগীরা
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে গতকাল মতবিনিময় করেন দুই সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল ও রুহুল আমিন। ছবি: আজকের পত্রিকা

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে দুই ঘণ্টা ধরে মতবিনিময় সভা করেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। এর পর চিকিৎসকেরা ফেরেননি চেম্বারে। ফলে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন রোগীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিয়ে থাকেন। গতকাল সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীরা টিকিট কেটে চিকিৎসকদের চেম্বারের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয় লাইন। লাইনের প্রথম দিকে থাকা সৌভাগ্যবান কয়েকজন সাক্ষাৎ পান চিকিৎসকের। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা চেম্বার ছেড়ে হাসপাতালের সভাকক্ষে যান। বন্ধ হয় সেবা দান।

এদিকে, হাসপাতালের সভাকক্ষে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সভায় সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমারসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা উপস্থিত হন। বেলা আড়াইটার দিকে সভা শেষ হলেও চিকিৎসকেরা ফেরেননি চেম্বারে। সে সময় ক্ষুব্ধ রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

এ সময় হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় বসে থাকা রোগীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে জীবননগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রোগী আবুল জলিল মিয়া বলেন, ‘রোজামুখে কাজকাম কামাই দিয়ে এসেছি। একটা দিনই নষ্ট হইল। এমডা কেউ করে? কারু হুঁশ নাই।’

আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদহ গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা দূর-দূরান্ত থেকে অনেক আশা নিয়ে ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু ডাক্তাররা মিটিংয়ে ব্যস্ত। জনসেবা করতে এসে সংসদ সদস্যদের এমন “কাণ্ডজ্ঞানহীন” আচরণ আমাদের অবাক করেছে। পিক আওয়ারে এমন সভার কোনো মানে হয় না।’

সদরের দীননাথপুর গ্রামের বৃদ্ধ আনিসুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নেতারা মানুষের কথা চিন্তা করলে এমন সময়ে মিটিং ডাকতেন না।’

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যদ্বয় হাসপাতালে মতবিনিময়ের জন্য সময় দিয়েছিলেন। ওনারা যখন সময় দিয়েছেন, আমরা তখনই সভা করেছি। পিক আওয়ারে এমন কর্মসূচির কারণে চিকিৎসাসেবায় সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। পরবর্তী সময়ে আমরা বিষয়টি দেখব। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত