Ajker Patrika

স্বামীকে যৌতুক, চাকরি আর বাড়ি করে দিয়েও নির্যাতনে ঘরছাড়া গৃহবধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ০৪
স্বামীকে যৌতুক, চাকরি আর বাড়ি করে দিয়েও নির্যাতনে ঘরছাড়া গৃহবধূ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ভুক্তভোগী গৃহবধূ ফাতেমা তুজ জোহরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘আমি একজন কন্যাসন্তানের মা, কারও বোন এবং কোনো বাবার সন্তান। নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না, আমি বাঁচতে চাই।’—ব্যাংকার স্বামী, ননদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কথাগুলো একনাগাড়ে বলছিলেন ফাতেমা তুজ জোহরা নামের এক ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বামী, ননদ ও ভাসুরের বিরুদ্ধে অমানুষিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নিজের প্রতিবন্ধী শিশুসন্তানকে পাশে রেখে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এই নারী।

অশ্রুসিক্ত চোখে ফাতেমা বলেন, প্রবাসী দুই বোনের সহায়তায় ব্যাংকার স্বামীর পেছনে টাকা ঢেলেছি, বাড়ি করে দিয়েছি—তবুও রেহাই পেলাম না। আজ এই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি কোথায় দাঁড়াব?

লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা জানান, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা এলাকার মোতালেবের ছেলে মো. আলমগীরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বেকার থাকায় প্রবাসী দুই বোনের আর্থিক সহযোগিতায় জনতা ব্যাংকে তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। শুধু তা-ই নয়, ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা খরচ করে স্বামীর জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ এবং নিজের জমানো ৫ লাখ টাকার এফডিআর করে দেন স্বামীর নামে।

ফাতেমা অভিযোগ করেন, সংসার ভালোই চলছিল। তবে এর মধ্যে ভাসুর জাহাঙ্গীর আলমের কুদৃষ্টি পড়ে তাঁর ওপর। কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ননদ হাসনা হেনাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নির্যাতন শুরু করেন ভাসুর। এমনকি তাঁর সন্তান নিয়েও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্ররোচনায় স্বামী আলমগীর যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর চরম নির্যাতন শুরু করেন।

ফাতেমা বলেন, বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে আলমগীরসহ অন্যরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে ফাতেমার অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবেশীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর পর থেকে তাঁকে ঘরে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান ফাতেমা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাতেমার স্বামী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর কাজি অফিসে সশরীরে গিয়ে তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বলেন, ওই গৃহবধূর করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁরা জামিনে বেরিয়েছেন। সম্প্রতি আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত