Ajker Patrika

গাজীপুরের শ্রীপুর: সিলিকার লোভে শত ফুট গর্ত

রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ০৬
সংরক্ষিত বনাঞ্চলঘেঁষা কৃষিজমির মাটি রাতের আঁধারে খনন করা হচ্ছে ১০০ ফুট গভীর করে। গতকাল শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামের বাদশানগর এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
সংরক্ষিত বনাঞ্চলঘেঁষা কৃষিজমির মাটি রাতের আঁধারে খনন করা হচ্ছে ১০০ ফুট গভীর করে। গতকাল শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামের বাদশানগর এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলঘেঁষা কৃষিজমির মাটি ১০০ ফুট গভীরে খনন করে লুটপাট করা হচ্ছে। গভীর খননের ফলে নিচের স্তরে মাটির পরিবর্তে দেখা মিলেছে সিলিকন বালু। এতে করে মাটিখেকোদের দাপট বেড়েই চলেছে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ভোররাত পর্যন্ত চলে এই দাপট। তাদের দাপটে আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলোয় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও থামছে না মাটি লুট।

সরেজমিনে এবং ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাদশানগর এলাকায় কয়েক একর কৃষিজমি থেকে রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। চিহ্নিত মাটিখেকো শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়। এতে করে আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলো ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষিজমির কোনো কোনো স্থানে ১০০ ফুট গভীর খনন করা হয়েছে। মাটির কয়েক স্তরের নিচে বের হচ্ছে দামি সিলিকন বালু। সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ভোররাত পর্যন্ত চলে মাটিখেকোদের দাপট।

একরের পর একর কৃষিজমির মাটি কেটে নিচ্ছে তারা। স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে এসব মাটি ক্রয় করা হচ্ছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘেঁষে কৃষিজমির মাটি খননের ফলে হুমকিতে আশপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে চারপাশের কোনো শব্দ কানে আসে না, শুধু ডাম্প ট্রাকের শব্দ। একের পর এক মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাক যাতায়াত করে রাস্তা দিয়ে। আশপাশের সব রাস্তা ভেঙে গেছে। অনেক জায়গায় গর্ত হয়ে গেছে। সড়কের আশপাশের মানুষ রাতে ঘুমাতে পারে না ডাম্প ট্রাকের শব্দে। আমরা প্রতিবাদ করতে সাহস পাই না।’

বাদশানগর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা নামমাত্র মূল্যে কৃষকদের কাছ জমির মাটি কিনে নিয়ে গভীর খনন শুরু করে। বাদশানগর এলাকায় কৃষিজমিতে আনুমানিক ১০০ ফুট গভীর খনন করা হয়েছে। নিচের স্তরে মাটি নেই, শুধু সিলিকন বালু।

এই এলাকার মাটি বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে শহিদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আমি কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে কেটে বিক্রি করি। এত গভীর হবে না। কিছু কম হবে। এ পর্যন্ত কোনো সরকারি জমির মাটি কেটে নিইনি। আপাতত মাটিকাটা বন্ধ রয়েছে।’

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, যেখানে কৃষিজমির মাটি গভীরে খনন করে কেটে নেওয়া হচ্ছে, তার পাশে বিশাল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। মাটি লুটপাটের ফলে বনাঞ্চল হুমকিতে পড়বে। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, মাটিখেকোদের ধরতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, বিশেষ করে মাটিখেকো শহীদকে ধরতে প্রতিরাতে অভিযান চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বাদশানগর এলাকায় মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত