Ajker Patrika

ভালোবেসে বিয়ে, তবু ছয় মাসের মধ্যে ‘স্বামীর হাতে’ মরতে হলো শাম্মীকে

­যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ২৩: ৪২
ভালোবেসে বিয়ে, তবু ছয় মাসের মধ্যে ‘স্বামীর হাতে’ মরতে হলো শাম্মীকে
শাম্মী ও সুজন। ছবি: সংগৃহীত

যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকায় আজ সোমবার সকালে সামিনা আক্তার শাম্মীকে (২০) গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী সুজনের বিরুদ্ধে। মাদক সেবনের টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। আহত সুজন বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

নিহত সামিনা আক্তার শাম্মী নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তরফ নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত সুজন টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করে তাঁরা যশোর শহরের শেখহাটি তামালতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বাসায় অবস্থানকালে মাদক সেবনের টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী শাম্মীকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে শাম্মী গুরুতর জখম হন।

ঘটনার পর সুজন নিজের শরীরেও ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত করেন। আশপাশের লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শাম্মীকে মৃত ঘোষণা করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাকিরুল ইসলাম বলেন, শাম্মীকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া সুজনের শরীরেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত শাম্মীর মামা পিয়াস জানান, সুজন আগে বিদেশে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ছয় মাস আগে ভালোবেসে তাঁরা বিয়ে করেন এবং পরে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে সুজন বেকার ছিলেন এবং পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

শাম্মী ও সুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। আত্মীয়তার সম্পর্কের মধ্যে বিয়ের পর তাঁরা আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন শাম্মীর কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সুজনের বাবা ও মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত