Ajker Patrika

হাতিরঝিল থানার মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ১১
হাতিরঝিল থানার মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার
মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জিডির সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে আটক করে। পরে একই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় গতকাল বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গতকাল রাত ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স আইডি হ্যাকের ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সাইবারসংক্রান্ত হওয়ায় জিডিটির তদন্তভার দেওয়া হয় ডিবির সাইবার ইউনিটকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। পরে এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হলে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস কর্মস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে। স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে এসব ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ডিবি পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা করছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়াতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচিবালয় থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

একই ঘটনার জিডি তদন্তে ছরওয়ারে আলমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে কি না—জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। মামলার পরপরই গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটকের আগে ছরওয়ারে আলম পুলিশকে জানান—কয়েক দিন আগে বঙ্গভবনের এক সিনিয়র কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছে একটি ই-মেইল আসে। ই-মেইলটি খুলে তিনি কোনো তথ্য পাননি। পরে সহকর্মীদের পরামর্শে সেটি ডিলিট করেন। তবে এর আগে ই-মেইলটির একটি স্ক্রিনশট তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠান। এর বাইরে তিনি আর কিছু জানাতে পারেননি।

ডিবির ধারণা, এটি একটি ফিশিং ই-মেইল হতে পারে, যার মাধ্যমে তাঁর ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নারী নেতৃত্ব ও কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তাঁরা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’

এ পোস্টের প্রতিবাদে বিএনপি তীব্র নিন্দা জানায়। ছাত্রদল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবং নারীদের একটি দল ঝাড়ুমিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। পরে পোস্টটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতেই হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক সিরাজুল ইসলাম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত