Ajker Patrika

ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক জাতীয় নারী ক্রিকেটারের বসতভিটা ও মন্দির দখলের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে সাবেক জাতীয় নারী ক্রিকেটারের বসতভিটা ও মন্দির দখলের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক জাতীয় নারী ক্রিকেটার একা মল্লিক। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর উঁরাওপাড়া এলাকায় সাবেক জাতীয় নারী ক্রিকেটার একা মল্লিকের বসতভিটা ও ব্যক্তিগত কালীমন্দির জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় একা মল্লিক।

লিখিত বক্তব্যে একা মল্লিক জানান, ২০১৮ সালে তাঁর ভাই অনিক মল্লিক গোবিন্দনগর মৌজায় ২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি ও একটি ব্যক্তিগত কালীমন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সেখানে তাঁর বাবা শংকর মল্লিক পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিবারটি বর্তমানে শহরের আশ্রমপাড়া এলাকায় বসবাস করলেও নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত ও পূজা-অর্চনা চালিয়ে আসছিল।

একা মল্লিক অভিযোগ করেন, গত ২৫ নভেম্বর তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিবেশী দিপালী খালকো দিপা, গোপাল খালকোসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তাঁরা বাড়িতে থাকা শংকর মল্লিক ও প্রীতি মল্লিককে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সাবেক এই ক্রিকেটার আরও জানান, ঘটনার পরদিন হাসপাতাল থেকে ফিরে তাঁরা দেখেন, প্রতিপক্ষরা মন্দিরের তালা ভেঙে আসবাবপত্র লুট করেছেন এবং নিজেদের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করা হলেও বিবাদীরা বীরদর্পে এলাকায় অবস্থান করছেন এবং উল্টো তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পর ২৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের এসএ শাখা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে জমির মালিকানা ও নথিপত্র একা মল্লিকদের পক্ষেই সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবুও প্রভাবশালী মহলের মদদে বিবাদীরা জমিটি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

একা মল্লিক বলেন, ‘আমি দেশের হয়ে মাঠে লড়েছি। আজ আমাকে নিজের ঘর ও মন্দির রক্ষার জন্য লড়তে হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, দ্রুত এই জবরদখলকারীদের হাত থেকে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও উপাসনালয়টি মুক্ত করা হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত