
কোথাও চলছে মাথার আদলে ক্যাপ ঠিকঠাক করার কাজ। কেউ সেটিতে লাগাচ্ছেন কৃত্রিম চুল। তাঁদের হাতে মাথার আদলে তৈরি হচ্ছে পরচুলা। দুই, চার কিংবা দশজন নন। এই কাজ করছেন প্রায় আড়াই শ নারী। আর এই কারখানা তদারকি করছেন বিলকিস বেগম। কারখানাটির মালিক তিনি। অন্যের প্রতিষ্ঠানে পরচুলা তৈরির কাজ শিখে এখন নিজেই গড়েছেন কারখানা।
এই দৃশ্য শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের। ২৯ বছর বয়সী বিলকিস বেগমের সঙ্গে এই কারখানা দেখভাল করেন তাঁর স্বামী মো. মিজানুর রহমানও (৩৬)। জানালেন, তাঁদের তৈরি পরচুলার টুপি ঢাকা হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে।
বিলকিস বেগমের এই যাত্রা খুব সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। স্বামীর অল্প আয়ে যখন সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা, তখন তিনি বেছে নেন কাঁথা সেলাইয়ের কাজ। পরে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে শেখেন পরচুলা তৈরির কাজ। ওই উদ্যোক্তার অধীনে তিনি ও তাঁর স্বামী মিজানুর রহমানও কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে তাঁরা গড়ে তোলেন পরচুলা তৈরির কারখানা। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান তাঁদের জমি-ভবন নির্মাণসহ সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা করে। এই প্রতিষ্ঠানের দেখভালের দায়িত্বেও রয়েছেন বিলকিস বেগম।
বিলকিস বেগম জানান, ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সহযোগিতায় নিজেই কারখানা চালু করেন। তখন মাত্র ১০-১২ জন নারী থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক নারীকে সেই কাজ শেখান। বাড়ির কাছে কারখানায় এসব নারী কাজ করে মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। ভবিষ্যতে কারখানা আরও বড় আকারে করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহায়তা পেলে কাজটি আরও বড় আকারে করা সম্ভব হবে বলে আশা তাঁর।
বিলকিসের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেছি। পরবর্তীকালে পরচুলার কাজ শেখা শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সেটি শুরু করি।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে মালিকপক্ষ পরচুলা তৈরির ক্যাপ, চুল, সুই, চক, পিনসহ সব কাঁচামাল পাঠিয়ে দেয়। আমাদের কারখানার একটি দোতলা ভবন ও একটি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। কারখানায় স্থাপিত টুপি তৈরির টেবিলে বসে নারী শ্রমিকেরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করেন। একজন নারী শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫টা ক্যাপ তৈরি করতে পারেন। আকারভেদে একেকটি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে পান নারী শ্রমিকেরা’। এ ছাড়া হাজিরা বোনাস রয়েছে ১ হাজার টাকা।
গত বুধবার দুপুরে নলী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁদের কারখানায় কাজ করছেন নলী মধ্যপাড়া, পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া, রাজনগর, বটতলী, যাত্রাকোনা, বন্ধধরা, আমলাতলী, টিলাপাড়া, কালীবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার দুই শতাধিক নারী। পাশাপাশি অনেক নারীর কিশোরী কন্যারাও বিদ্যালয় ছুটি শেষে কারখানায় কাজ করছে।
রাজনগর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘বিলকিস আপার কাছ থেকে এই পরচুলা তৈরির কাজ শিখে আমি এবং আমার মেয়েরা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। মেয়েদের পড়াশোনাও ভালো চলছে।’
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, শেরপুর জেলা শাখার উপব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান ফকির বলেন, ‘শেরপুর সদরের পাকুড়িয়া, ঝগড়ারচর, নালিতাবাড়ীর নলী গ্রামসহ বেশ কয়েক জায়গায় পরচুলা তৈরির কারখানা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া কারও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’

বাঙালি হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ বছর প্রতিটি পূজামণ্ডপে চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করেছে সরকার। তবে বরাদ্দের সেই চাল বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে প্রভাবশালী চক্রের কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাভার-আশুলিয়ার দুর্গামণ্ডপের পূজারিরা।
২ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় যুবদলের কর্মী পরিচয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে হারুনার রশিদ হারুন (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত ২৮ সেপ্টেম্বর টাকা না দেওয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে পুলিশে ধরিয়ে দেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
বগুড়ার শাজাহানপুর ও শেরপুর উপজেলার এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের ফেস ভেরিফিকেশন, ছবি, পাসপোর্টের ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর ধরে এই কাজ করেছে একটি চক্র।
২ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ৬ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করেছিল সরকার।
৩ ঘণ্টা আগে