
হুসাইন আহমদ, শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক
হুসাইন আহমদ, শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক
সকল লেখা

বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ—ইসলামের অনুপম আদর্শ
আমাদের এই আধুনিক সমাজ থেকে সভ্যতা, নৈতিকতা ও আদর্শ দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে, বিলুপ্ত হচ্ছে। এই প্রজন্মের কাছে—ছোট ও বড়র মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। নেই বড়দের সম্মান আর ছোটদের স্নেহ। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহের বিষয়ে অনেক গুরুত্ব করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে...

মহররম ও আশুরা: করণীয়, বর্জনীয়
হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। এই মাসের সম্মান ও ফজিলত অনেক বেশি। এই মাসের ১০ তারিখ আশুরা। এই আশুরার সঙ্গে জড়িত রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। তাই মহররম ও আশুরার দিনের করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি লক্ষ্য করা যায়। তাই এ সংক্রান্ত করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

রবের সন্তুষ্টি অর্জনে হোক কোরবানি
ঈদুল আজহা আমাদের সামনে ফজিলতপূর্ণ অনেকগুলো ইবাদতের সুযোগ নিয়ে আসছে। এর মধ্যে বরকতময় ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হচ্ছে কোরবানি করা। ইসলামে এই কোরবানি করার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।

নামাজ অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে
নামাজের রয়েছে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে অন্যতম—নামাজ নামাজ অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।’

ইসলামে কোনো বৈধ পেশাই ছোট নয়
আল্লাহ তাআলা কর্তৃক জীবনবিধানে যা হালাল, তা সুন্দর ও গ্রহণীয়। আর যা হারাম, তা অসুন্দর ও পরিত্যাজ্য। মানুষকে হালাল উপার্জনের জন্য যেকোনো বৈধ পেশা গ্রহণ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইমানদার পেশাজীবী বান্দাকে পছন্দ করেন।’ (আল-মুজামুল আওসাত: ৮৯৩৪) অন্য হাদিসে তিনি এরশাদ...

মেহমানকে সম্মানিত করার গুরুত্ব ও সওয়াব
ইসলাম আগমনের আগেই নবী (সা.) যেসব গুণের জন্য সবার প্রিয় ছিলেন, তার মধ্যে একটি মেহমানদারি বা অতিথিপরায়ণতা। মেহমানদারি ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত মানবিক দিক। নবী (সা.) নিজেই মেহমানদারি করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামগণকেও উৎসাহিত করতেন।

জালিমকে সহযোগিতা করাও জুলুম
ইসলামে জুলুমের স্থান নেই। কেননা ন্যায়প্রতিষ্ঠা ইসলামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ন্যায়প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, হকদারদের হক তাদের কাছে পৌঁছে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে। আল

সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারীদের শাস্তি
আরবি ফাসাদ শব্দের অর্থ কল্যাণের পরিপন্থী কাজ করা। মানুষের জন্য কল্যাণকর নয় জেনেও কোনো কাজ করলে, তা ইসলামের দৃষ্টিতে ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি। সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ইসলামে বিশ্বাসীদের কাজ নয়।

তওবায় প্রশান্তি মেলে
খাঁটি তওবা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। ইসলামে তওবা হলো, অতীতের সব গুনাহের জন্য অনুশোচনা করে ভবিষ্যতে কখনো তা না করার দৃঢ়প্রত্যয় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো।

উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার ৫ পুরস্কার
উত্তম চরিত্র অমূল্য নেয়ামত। এটি মুমিনের ইমানকে পূর্ণতা দেয়। মহানবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তাঁর অনুসারীরা কখনো মন্দ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে পারে না। তাই মুসলমান মাত্রেরই উচিত, সব ধরনের উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি ধারণ করা এবং মন্দ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এড়িয়ে চলা।

যে ৫ আমলে জান্নাতের পথ সুগম হয়
প্রত্যেক মুসলমানের চূড়ান্ত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও একান্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে জান্নাতের মেহমান হওয়া। কেননা জান্নাত অনন্ত সুখ, শান্তি ও অসংখ্য নিয়ামতের জায়গা। আল্লাহ তাআলা নিজেই জান্নাতের দিকে বান্দাদের ডেকেছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ শান্তির ঘরের দিকে ডাকছেন।’ (সুরা ইউনুস: ২৫)

যাচাই না করে সংবাদ প্রচার অনুচিত
সমাজে মিথ্যা সংবাদ ও গুজবের কারণে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়, ঐক্য বিনষ্ট হয়, ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, হানাহানি ও রক্তপাত ঘটানোর মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ জন্য ইসলাম সংবাদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। যেমন পবিত্র কোরআনে সংবাদ যাচাই প্রসঙ্গে ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের কাছে য

পানি পানের ইসলামি শিষ্টাচার
আল্লাহ তাআলা কতশত নিয়ামত ও রহমত দিয়ে আমাদের জীবনধারণকে সহজ করেছেন, তার অন্ত নেই। আমাদের জীবনের পুরোটা দিয়েও যদি তাঁর শুকরিয়া আদায় করি, তবু কৃতজ্ঞতা আদায় করে শেষ করা যাবে না। পানি আল্লাহর অন্যতম বড় নিয়ামত

মৃত্যু যাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে
মৃত্যু এক অমোঘ সত্য। ইসলামের বিশ্বাসমতে, মৃত্যুর পরে রয়েছে এক অনন্ত জীবন। এই জীবন রাঙাতে হলে প্রয়োজন পরকালে বিশ্বাস এবং সেই জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ। মহান আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালিত করতে পারলেই পরকাল সাফল্যমণ্ডিত হবে। তাই মৃত্যুর আগেই মানুষের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা উচিত। মৃত্যু যাদের জন্য

আল্লাহ মজলুমের পক্ষেই থাকেন
আল্লাহ তাআলার কাছে জুলুম এক অমার্জনীয় অপরাধ। আর এই অপরাধের শাস্তি ও পরিণতি সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে কয়েকটি সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। যেমন হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জুলুম কিয়ামতের দিন অন্ধকার হবে।’ (বুখারি: ২৪৪৭)

কেমন হবে কোরবানি দাতার নিয়ত
নিয়ত শব্দের অর্থ ইচ্ছা, স্পৃহা, মনের দৃঢ়সংকল্প। আরেক অর্থে নিয়ত আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের লক্ষ্যে কোনো কাজের দিকে মনোনিবেশ করা। আবার মনে কোনো জিনিসের প্রতি লক্ষ্য আরোপ ও তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়াকেও নিয়ত বলা হয়। এই নিয়তের গুরুত্ব সবক্ষেত্রেই অসামান্য।
