
সুমন্ত গুপ্ত
সুমন্ত গুপ্ত
সকল লেখা

টেরাকোটার রূপকথা কান্তজিউ মন্দির
ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শৈল্পিক নির্মাণশৈলীর দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও নান্দনিক নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির। ইন্দো-পারস্য ভাস্কর্যশৈলীতে ইটের তৈরি অষ্টাদশ শতাব্দীর এই মন্দির ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে নিবেদিত।

ঘুরে আসুন সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান
ঘুম থেকে জেগেছি সূর্য ওঠার আগেই। কিন্তু চোখে নিদ্রাদেবী এখনো ভর করে আছেন। অনেক কষ্টে জেগে থাকার চেষ্টা করছি। কারণ, আজ সকাল সকাল বের হতে হবে নতুন গন্তব্যের দিকে। আমি ছাড়া অন্য সবাই ঘুমে। চোখ থেকে ঘুম তাড়াতে কী করা যায়, ভাবতে ভাবতে শেষ পর্যন্ত আবারও ঘুমিয়ে গেলাম।

ডে ট্রিপে গোলাপ গ্রামে
সহকর্মীকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলতেই তিনি জানালেন ঢাকার সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামের কথা। শুনেছি কিন্তু যাওয়া হয়নি সেখানে। জানা গেল, সহকর্মীর বাড়ি থেকে সেখানে যাওয়া যায় আধা ঘণ্টার কম সময়ে! ঠিক হলো দিন-তারিখ গোলাপ গ্রামে যাওয়ার। ঢাকায় থাকার এই সুবিধা যে এখান থেকে দেশের যেকোনো...

ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে
জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্য্যি মামার মিষ্টি ছোঁয়ায় আমার ঘুম ভাঙল। আমরা এখন আছি মেঘালয় রাজ্যে। মেঘালয় হচ্ছে মেঘেদের বাড়ি। কবিদের অনুপ্রেরণার আর চিত্রকরদের ক্যানভাস। ঘুরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক জায়গা। মেঘালয় ২১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

শীতে অতিথি পাখির সন্ধানে
পাখিদের কলরবে মুখরিত চারপাশ। মূল সড়ক থেকেই দেখা যাচ্ছিল পাখিদের। আমরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম পাখিদের কর্ম তৎপরতা। বেশ ভালোই লাগছিল। পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে ছবি তোলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনমতো ছবি তোলা হলো না। ড্রাইভার বললেন, আরেকটু সামনে গেলে হয়তো আরও পাখির দেখা পাওয়া যাবে...

গ্রামের নাম মহিষখোলা
জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা। স্নিগ্ধ সকাল। মহাসড়কে সূর্যের আভা পড়েছে তির্যকভাবে। আমরা যাচ্ছি সুনামগঞ্জ জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ভারত সীমান্ত গোয়া ধর্মপাশা উপজেলায় মহিষখোলা গ্রামে। সেখানে ঘুমিয়ে আছেন একাত্তরের বীর শহীদেরা।

রহস্যময় আগুন পাহাড়
বন-পাহাড়ে ঘেরা জলের মঞ্চে আগুনের উৎসব! পোড়া পাহাড়ের বুকে অসংখ্য আগুনের চুল্লি থেকে সাপের মতো জিহ্বা নাড়ছে লেলিহান আগুন। সিলেটের পথে পথে সৌন্দর্যের ভিড়ে নিজেকে আলাদা করে যেন রহস্যপুরী হয়ে উঠেছে উৎলার পাড়।

ভানুগাছার রাসমেলায় এক দিন
সকাল ৭টা। ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মিষ্টি হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আর এদিকে আমি কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি। হঠাৎ মায়ের ডাকাডাকি আর মোবাইল ফোনের রিঙের অত্যাচার শুরু হয়ে গেল। মোদ্দা বিষয় হলো, ট্রেন ছাড়ার বাকি আছে মাত্র ২০ মিনিট। দ্রুত প্রস্তুত হয়ে নিচে নেমে দেখি, রাস্তা একেবারে নীরব।

মন ভরে যাক লোভাছড়ার নান্দনিক শোভায়
অনেক দিন ধরে ইচ্ছা ছিল, সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চল মেঘালয়ের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পূর্ব অংশে যাব। সেখানে কানাইঘাট উপজেলার স্বচ্ছ পানির নদী লোভাছড়ায় নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াব। কিন্তু সময়ের অভাবে তা আর হয়ে উঠছিল না। শেষ পর্যন্ত ঠিক করে ফেললাম, বেরিয়ে পড়ব আসছে শুক্রবারেই।

সুবর্ণ গ্রামে এক দিন
প্রাচীনকালের সমৃদ্ধ নগর সুবর্ণ গ্রাম। এখন যেটি সোনারগাঁ নামে বেশি পরিচিত। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর—প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ঈসা খাঁ সেখানেই করেছিলেন বাংলার রাজধানী। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে, যেগুলো বাংলার বারোভূঁইয়াদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত

পতিসরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি
কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের বাংলাদেশে শিলাইদহ, শাহজাদপুর, কালিগ্রাম ও পতিসর পরগনায় জমিদারি ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির দায়িত্ব নিয়ে পতিসর আসেন ১৮৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে। পতিসরের রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি এবং আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিল, নদী সারা বছর পর্যটকদের জন্য তাদের স্বীয় সৌন্দর্য...

শান্ত জলে লাল শাপলা
সিলেট মানেই যেন নিসর্গের হাতছানি! কোথাও টিলার গায়ে চা-গাছের সবুজ চাদর, কোথাও পাথরের মাঝে পানির শীতল পরশ, কোথাওবা জল-বৃক্ষের মিতালি। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বের এই জনপদে নানা রূপে, নানা রঙে ধরা দিয়েছে প্রকৃতি। এমনই এক রূপের ডালি বিছানো রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুরের ডিবির হাওরে।

ভয়ংকর সুন্দর চন্দ্রগিরি
নেপালের পর্যটন গন্তব্য চন্দ্রগিরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ফুটের বেশি উঁচুতে অবস্থিত এই জায়গা। যেতে হয় কেবল কারে। রোমাঞ্চ আর প্রাকৃতিক পরিবেশের দারুণ মেলবন্ধন এখানে। চন্দ্রগিরির অভিজ্ঞতা লিখেছেন সুমন্ত গুপ্ত। যাঁরা সেখানে যেতে চান, তাঁদের জন্য প্রচুর তথ্য আছে এই লেখায়।

বিদ্রোহী কবির গ্রাম চুরুলিয়ায়
কাঁটাতারের বেড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে দুই রাষ্ট্রের সীমানা। কিন্তু ভাষাকে ভাগ করতে পারেনি। তাই রবীন্দ্র-নজরুল—দুজনই আমাদের। কলকাতা থেকে আসানসোলগামী বাসে চড়ে বসলাম আমরা। ঘণ্টাপাঁচেকের পথ।

এই হোক শেষ পরিচয়
ঢাকা থেকে বন্ধুরা বলে দিয়েছিল, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি বললেই যেকোনো ট্যাক্সিওয়ালা চোখ বুজে নিয়ে যাবেন রবীন্দ্রনাথের বাড়ি। কলকাতায় এসে বুঝলাম, চোখ বুজে ঠাকুরবাড়ি যাওয়ার দিন শেষ। দু-তিনজন ক্যাবচালক ‘ঠিকানা জানি না’ বলে জানালেন। কলকাতার ট্যাক্সিচালকেরা জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি খুব একটা চেনেন না।

গন্তব্য হারং হুরং
পড়ন্ত দুপুরে আমরা তিনজন। বাগানের আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করতে হবে, এই ভেবে বাইক সঙ্গে নিলাম। চৌহাট্টা, আম্বরখানা, লাক্কাতুরা চা-বাগানকে পাশ কাটিয়ে মিনিট দশেকের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম দেশের প্রথম চা-বাগান মালনীছড়ার মূল কার্যালয়সংলগ্ন রাস্তার মাথায়। বাগানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৫৪ সালে।
