
অজয় দাশগুপ্ত
অজয় দাশগুপ্ত
সকল লেখা

আসন্ন শারদ উৎসব বনাম দুর্গাপূজা
দুর্গাপূজাকে আমরা শারদীয় উৎসব নামেও ডেকে থাকি। শরৎকাল বাংলাদেশের এক অপূর্ব ঋতু। যদিও কাগজ-কলমে ছয়-ছয়টি ঋতু, কিন্তু বাস্তবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত—এরাই টিকে আছে। তবু আরেকটি ঋতু নীরবে এসে দাঁড়ায়। মানুষ বিস্ময়ের সঙ্গে দেখে এই পোড়ার সমাজে, ভঙ্গুর রাষ্ট্রে সর্বদা ক্রন্দনরত দেশে শিউলি ফোটে।

গণতন্ত্রই কি শেষ ও একমাত্র ওষুধ
মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের তথ্য জানার পাশাপাশি তাদের নেতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারে। স্বাধীন গণমাধ্যমের অধিকারের বিষয়টি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার দলিলের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ অনেক দেশের...

যা বলার তা কি বলছে গণমাধ্যম
লর্ডসে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট চলার মাঝেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে স্কাই স্পোর্টস।

প্রেম-ভালোবাসা ছিল, আছে, থাকবে
অনেক দার্শনিকই কথাটা বলে থাকেন, চেঞ্জ ইজ লাইফ বা পরিবর্তনই জীবন। পরিবর্তন আবার দুই রকমের। ‘ভালো’ অথবা ‘মন্দ’; এই দুই ধরনের পরিবর্তন সমাজকে দুদিক থেকে প্রভাবিত করে। যেমন ধরুন, মুক্তিযুদ্ধ; সে শুভ পরিবর্তন আমাদের দেশ জাতি ও সমাজকে কতভাবে প্রভাবিত করেছে! সে সময়ে আমাদের জীবন হয়ে উঠেছিল বাঙালিময়।

শিল্প-সংস্কৃতির অচলায়তন ভাঙতে হবে
মুক্তিযুদ্ধকে পূর্ণতা দিয়েছিল সংস্কৃতি। পাকিস্তান আমলে সংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানা ধ্বংসের যে পাঁয়তারা, তার জবাব দিয়েছিল বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগে সারা দেশে স্লোগান আর দেয়াললিখন ছিল একটি বাংলা অক্ষর, একজন বাঙালির প্রাণ। শব্দ, অক্ষর বা ভাষা যে জাতির প্রাণ হতে পারে, তা আমাদের কি আগে জানা ছিল?

ভয় নয়, জয়েই বাংলাদেশের মুক্তি
বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। তার বদলে যাওয়া বা তার যেকোনো পরিবর্তন আমাদের চোখে পড়ে। আজকাল ভালো কোনো পরিবর্তন চোখেই পড়ে না। যা দেখি তার বেশির ভাগই মূলত সামাজিক অনাচার আর অন্যায়।

গুরুর মান-অপমান ও হিতোপদেশের গল্প
আমাদের দেশ ও সমাজে এখন তারুণ্য বড় উদ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। সত্যি বলতে—এটা এখন ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখের সমানে একদল কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীর এমন উচ্ছন্নে যাওয়া সত্যি কষ্টের। এরা কীভাবে এমন হয়ে গেল? সবটাই কি তাদের দোষ?

শিরদাঁড়া সোজা রাখার শিক্ষা
মেরুদণ্ড সোজা রাখা কি শুধু হাড়গোড়ের কাজ? মূলত হাড়গোড় ভেঙে গেলে বা অকেজো হলেও তা ঠিক করা যায়। চিকিৎসায় সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু যে মেরুদণ্ড নৈতিক আর জীবনের, তা ঠিক রাখার কোরামিন (অতীতে জরুরি চিকিৎসায় শ্বাসযন্ত্র বা হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা উদ্দীপিত করতে এই ওষুধ ব্যবহার করা হতো হচ্ছে) শিক্ষা।

মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বিভ্রান্তি ও একজন বিদেশি বীর প্রতীক
সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন পিতা মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ হয়েছেন। পরে দেখা গেল সংসদ সদস্যের জন্ম ১৯৮১ সালে। অতঃপর কাহিনি বদলে গেল। এবার মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেলেন তাঁর দাদার আপন ভাই!

তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে
তোফায়েল আহমেদ মারা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব মন্তব্য আর টিপ্পনী দেখলাম, তাতে আমি নিশ্চিত এই জাতির মানসিক সুস্থতা নেই। তার চিকিৎসা এখন সময়ের চাওয়া। মানুষ নশ্বর শরীর নিয়ে পৃথিবীতে আসে, তারপর সময় হলে চলে যায়। এটা নিয়তি, এটাই বিধান।

প্রবাসের দেশপ্রেম, বন্যার সিডনি জয়
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিডনিতে প্রভাতফেরি ও বিগবি আয়োজন করেছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ধুন ২০২৬’। এই আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ বরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

মমতা কি সম্ভাবনা নাকি বিপদে রেখে গেলেন
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল হেরেছে। দল হারলে দলের নামটা বললেই তো হতো, তাই না? ধরুন, যদি ট্রাম্পের দল হারে, আলাদা করে কি ট্রাম্পের নামও বলতে হবে? হবে না। কিন্তু মমতার বেলায় আমি তা বলব।

থাকা না থাকার হার মানা হার
নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণ দুর্নিবার। পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম মানুষ আদম বা অ্যাডাম। তিনি যদি ইভকে নিয়ে নিষিদ্ধ ফল না খেতেন তাহলে আমরা হয়তো মানব জাতি পেতাম না। এই আকর্ষণ এমনই প্রবল ছিল যে স্বর্গের নন্দনকাননের হাতছানি এড়িয়ে আদম নেমে এসেছিলেন মাটির দুনিয়ায়। কী আকর্ষণ! কী দুর্নিবার টান।

বৈশাখ থাকুক চির সমুজ্জ্বল, চির মঙ্গলময়
দেড় বছর বাংলাদেশ কী করবে, কী করবে না, কী বলবে, কী বলবে না—এসব নিয়ে ছিল মহাবিপদের মুখে। হঠাৎ জানা গিয়েছিল রিসেট বাটন সেট করা হয়ে গেছে, এখন আমাদের আর ইতিহাস বা মুক্তিযুদ্ধের দরকার নেই! রিসেট বাটন সবকিছু মুছে দিতে নাকি যথেষ্ট।

অটুট মনোবল অটুট স্বাধীনতা
স্বাধীনতা মূলত একটি স্পৃহা, যাকে পূর্ণ করে মানুষ আনন্দ আর স্বস্তি লাভ করে থাকে। সে কারণে আমাদের দেশে একদা মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। আজ অনেক বছর পার হওয়ার পর সেই স্পৃহার সামনে কতগুলো প্রশ্ন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, যার উত্তর না খুঁজলে আমাদের স্বাধীনতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকবে।

শ্রীলঙ্কা: ঘুরে দাঁড়ানো অপূর্ব গল্পের দেশ
সেবার দেশ থেকে ফিরছিলাম। চট্টগ্রাম বা দেশ ছেড়ে আসা মানেই কষ্ট, বুক ভারী হয়ে থাকা। ঢাকার এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দিয়ে হাসি হাসি মুখ করার চেষ্টা করে বলেছিলাম: হ্যালো। কোনো জবাব দিলেন না। একটু উঁচু কাউন্টারে বসা অফিসার ক্যাঙারু ছাপের পাসপোর্ট একবার এদিক, একবার ওদিক করতে করতে ঘন ঘন পাশের সিটে...
