
মুফতি মুহাম্মদ জাকারিয়া আল আজহারি
মুফতি মুহাম্মদ জাকারিয়া আল-আজহারি
সকল লেখা

যে শর্তে মসজিদের নিচতলায় মার্কেট নির্মাণ জায়েজ
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মসজিদের সঙ্গে লাগোয়া বা নিচতলায় মার্কেট বা দোকান নির্মাণ জায়েজ। তবে দোকানপাটের অংশটিকে মসজিদের অংশ গণ্য করা হবে না। বরং একে এমন স্থাপনার অন্তর্ভুক্ত বিবেচনা করা হবে, যা মসজিদের কল্যাণে ওয়াক্ফ করা হয়েছে।

নামাজে রাকাত ছুটে গেলে
জামাতে নামাজ আদায় করতে গিয়ে যে ব্যক্তির এক বা একাধিক রাকাত ছুটে যায়, ইসলামের পরিভাষায় তাঁকে মাসবুক বলা হয়। মাসবুকের করণীয় হলো—ইমামকে নামাজের যে অংশে পাবে, সেই অংশেই তাঁর সঙ্গে যোগ দেবে এবং ইমামের অনুসরণ করে নামাজ পড়বে। প্রথম রাকাতের রুকু না পেলে পুরো রাকাতটি পায়নি ধরা হবে। এমনভাবে এক বা একাধিক রাকাত

নামাজরত অবস্থায় ফোন বের করলে
প্রশ্ন: আমরা নামাজ আদায়ের সময় বেখেয়ালে, ভুলে বা ইচ্ছা করে মাঝেমধ্যে অন্য কাজে জড়াই। যেমন ফোনকল এলে পকেট থেকে বের করে রিংটোন বন্ধ করি। এমন কাজে কি নামাজ ভেঙে যাবে?

মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান
মোজার ওপর মাসেহ করা অজুতে পা ধোয়ার বিকল্প। এটি ইসলামে অনুমোদিত। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যেমন—চামড়ার তৈরি মোজা হতে হবে। পবিত্র হয়ে মোজা পরতে হবে। মোজা দিয়ে টাখনু ঢাকা থাকতে হবে। ছেঁড়া থাকলে তা পায়ের কনিষ্ঠাঙুলের তিন আঙুল পরিমাণের কম হতে হবে। ফিতা দিয়ে বাঁধা ছাড়াই পায়ে আটকে থাকতে হবে।

ঋণ শোধের আগে মারা গেলে
ইসলামের দৃষ্টিতে ঋণ শোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ঋণ শোধ না করে মারা গেলে পরকালে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘ঋণ পরিশোধ করা ছাড়া মারা গেলে হাশরের ময়দানে নিজের নেকি থেকে ঋণের দাবি পূরণ করতে হবে।’ (বুখারি: ২৪৪৯)

ডায়মন্ডের গয়নার জাকাত দিতে হবে?
সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো খনিজসম্পদে জাকাত ফরজ নয়। এই নীতির আলোকে ডায়মন্ডসহ অন্যান্য মণি-মুক্তার গয়নার জন্য জাকাত ফরজ হবে না। তবে এসব গয়না ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা হলে, জাকাত দিতে হবে। ইমাম নববি (রহ.) বলেন,

ইস্তিখারা কী কেন কীভাবে
ইস্তিখারা শব্দের অর্থ কল্যাণ চাওয়া। কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার বিশেষ পদ্ধতিকে ইসলামের পরিভাষায় ইস্তিখারা বলে। কোনো বৈধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ইস্তিখারা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সুন্নত। (আল বাহরুর রায়েক: ২/৫৫)

নামাজে মোবাইল ফোনের রিংটোন বাজলে
মসজিদে গেলে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখি। তবে মাঝেমধ্যে তা করতে ভুলে যাই। জামাতে নামাজ পড়ার সময় মোবাইলের রিং বাজলে কী করা উচিত? পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে বন্ধ করে দেওয়া যাবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

এতিমদের সঙ্গে সদাচার
মানুষের কাছে এতিমেরা অবহেলিত হলেও আল্লাহর কাছে বড়ই মূল্যবান। পবিত্র কোরআনের বেশ কিছু আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের মর্যাদার কথা বলেছেন। তাদের প্রতি সহানুভূতির আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের লালনপালনের দায়িত্ব নিতে বলেছেন। তাদের প্রতি কোনো ধরনের অন্যায়-অবিচার হলে সমাজের সদস্যদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি কর

কোরবানির পশু যেমন হওয়া চাই
কোরবানি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। মহানবী (সা.) বলেন, ‘কোরবানির দিনে কোরবানি করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত।’ (তিরমিজি) সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি করা আবশ্যক।

বিপদের মুহূর্তে করণীয়
বিপদ-আপদ মহান আল্লাহর পরীক্ষা। তাই ইসলাম পতিত হলে কিংবা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলে কোনোভাবেই ভেঙে পড়া যাবে না। আল্লাহর প্রতি অগাধ আস্থা-বিশ্বাস ও পরম ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

হজ আদায়ে অবহেলার পরিণতি
সামর্থ্যবান সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের জন্য হজ আদায় করা ফরজ। এ ক্ষেত্রে অবহেলা, বিলম্ব কিংবা গড়িমসি করা ইসলাম অনুমোদন করে না। মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘ফরজ হজ আদায়ে তোমরা বিলম্ব কোরো না।

হজ কাদের জন্য ফরজ
হজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ফরজ। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের মধ্যে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য হজ ফরজ করেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে-ইমরান: ৯৭)

রোজার কাজা ও কাফফারার বিধান
কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মুসলমান শরিয়ত অনুমোদিত ওজরের কারণে রমজানের রোজা না রাখলে বা ভেঙে ফেললে পরে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। যেমন মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির রোজা রাখতে কষ্ট হলে, অনুরূপ গর্ভবতী বা দুগ্ধ দানকারী নারী যদি নিজের বা বাচ্চার ক্ষতির আশঙ্কা করে, তাহলে রমজানে রোজা না রেখে পরে তা কাজা করে ন

জুমাতুল বিদার করণীয়
পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমার দিনটি জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এই দিনের বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্যের কথা প্রচলিত থাকলেও আদতে কোরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি জুমাতুল বিদা পরিভাষাটিও কোনো নির্ভরযোগ্য উৎসগ্রন্থ থেকে প্রমাণিত নয়।

যেসব সম্পদে জাকাত ফরজ
জাকাত হলো ইসলামের প্রধান আর্থিক ইবাদত। নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ থাকলে জাকাত দিতে হয়। তবে সব ধরনের সম্পদে জাকাত ফরজ হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকাপয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে জাকাত ফরজ হয়—যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়।
