
মামুনুর রশীদ, নাট্যব্যক্তিত্ব
মামুনুর রশীদ, নাট্যব্যক্তিত্ব
সকল লেখা

পেশাদারত্ব ও গণতান্ত্রিক শাসন
কথায় কথায় আমরা যেকোনো কল্যাণমূলক কাজের জন্য পশ্চিমা বিশ্বকে ডেকে নিয়ে আসি। কিন্তু প্রাচ্য যে অনেক ভালো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সেসব আমরা স্মরণ করি না। আমরা জাপানের উদাহরণ দিতে পারি। একেবারে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে মাত্র উনিশ-কুড়ি বছরের মাথায় একটা দেশকে তারা দাঁড় করিয়ে ফেলল এবং তার পরের কুড়ি বছ

গণতন্ত্র ও সংস্কৃতির নিরাপত্তা
সাধারণত দেখা যায় যে কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন কোনো একটি পরিণতি পেয়ে গেলে উত্তাল জনগোষ্ঠী পরবর্তী দায়িত্ব নেয় না। কারণ ক্ষমতার রদবদল হয় এবং আরেকটি ক্ষমতাবান গোষ্ঠী দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তখন ওই আন্দোলনকারীদের আর কোনো ভূমিকা থাকে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাঁরা ক্ষমতায় আসেন, তাঁরাও আন্দোলনের যে দফাগুল

আন্দোলনের দ্বারা কি শুধু জনগণই আক্রান্ত হবে
সম্প্রতি কোটাভিত্তিক আন্দোলনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে জনজীবন দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে পড়ে। এমনিতেই রাজধানী শহর ঢাকা প্রবল যানজটে আক্রান্ত থাকে। সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ নেই। গত রোববার আমি মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট দেখেছি। সমস্ত পথঘাট বন্ধ, জরুরি প্রয়োজনে কোথাও যাওয়ার জো নেই। নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার সব প্রচ

নিরাপদ গন্তব্য: কত দূরে
বছরের পর বছর ধরে গণমাধ্যমে শুধু নয়, মানুষের আলাপচারিতায় দুর্নীতির প্রসঙ্গে আলোচনা এক জনপ্রিয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে এবং পতনও হয়েছে। পতন সর্বত্র হয়েছে, এ কথাও বলা যাবে না। সাম্প্রদায়িক শক্তিও যে মুখ থুবড়ে পড়েছে, তা-ও দৃশ্যমান হচ্ছে না। পশ্চিমা দেশগুলো বা প্রাচ্যের কিছু দেশ

প্রবীণের অধিকার এবং চাটার দল
প্রাচীন কোনো যুদ্ধের ছবি, তা কোনো শিল্পীর হাতে আঁকা অথবা চলচ্চিত্র হোক না কেন, আমরা দেখতে পাই শিশু, নারী ও প্রবীণদের অসহায় আর্তি। আজও দেশে দেশে যখন শত্রুর আক্রমণ হয়, তখনো একই চিত্র। ইরাক যুদ্ধে, ইউক্রেন যুদ্ধেও অসহায় শিশু, নারী, বৃদ্ধদের ছবি বারবার সভ্য মানুষ ও মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এবার গাজার য

বাজেট, সংস্কৃতি ও আন্দোলন
একটি নাটক দিয়েই লেখা শুরু করি। জাপানি নাটক। নাটকের নাম ‘এক শ বস্তা চাল’। এত সাধারণ নাম যে নাটকটি দেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয় না। কিন্তু নাটকের পরিচালক-অভিনেতাদের নাম দেখে একটু দেখতে ইচ্ছা হলো। নাটক দেখে রীতিমতো বোকা বনে গেলাম। এত চমৎকার কাহিনিবিন্যাস, অভিনয়, আঙ্গিক—সবটা মিলিয়ে অবাক হয়ে গেলাম।

পরিবর্তনের আশায় নাগরিক
বেশ কয়েক দিন ধরেই শহরের কিছু কিছু এলাকায় ফুটপাতগুলো পরিষ্কার হয়েছে। দোকানপাট নেই, ভ্যানগাড়িতে সবজির দোকানও নেই। স্বাচ্ছন্দ্যে পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে হাঁটার একটা অধিকার পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফুচকা-চটপটির দোকান উঠে যাওয়ায় ওখানকার যে আড্ডা বা জটলা হতো, তা-ও এখন নেই। কয়েক যুগ ধরে যত্রতত্র বাজার বসে যাওয়া

ইলিশ ও বিদ্যুতের কাহিনি
১৯৬০ সালের কথা। বাজার থেকে একটি ইলিশ মাছ কিনে মধ্যবিত্ত চাকুরে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়িতে খাওয়ার লোক ৮-১০ জন। মাছটির দাম পড়েছে ৬ আনা থেকে ৮ আনা। ভদ্রলোক বেতন পান ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। যে সাইজের ইলিশ তাতে দুই বেলার খাওয়া চলবে। ২০২৪ সালের ইলিশের বাজার। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ইলিশের কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক কেজি

সংযমের মাস: অতঃপর
সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় রমজান মাসের জন্য অপেক্ষা করে। এ মাস ইবাদতের, সংযমের এবং ঈদের আনন্দের মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ সময় সাধারণ মানুষের জন্য জিনিসপত্রের দাম কমে যায়। অনেকে কয়েক মাসের বাজার এ সময় করে থাকে। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও যেমন ক্রিসমাসে বা পূজোর সময় এ সুযোগটা পেয়ে

বছরজুড়েই হোক বই বিপণন
আসছে অমর একুশে বইমেলা। অসংখ্য স্টল, প্যাভিলিয়ন ভরে উঠবে নানা ধরনের বই-পুস্তকে। জ্ঞানচর্চার একটা জায়গা তৈরি হবে। হাজার হাজার মানুষের পদভারে, কলকাকলিতে মুখর হবে বাংলা একাডেমির মেলা প্রাঙ্গণ। নতুন লেখক, প্রকাশকদেরও আগমন ঘটবে। বই বিক্রিও হবে প্রচুর। মেলা শেষ হবে। প্রকাশক ও লেখকদের মধ্যে একটা দীর্ঘশ্বাস।

আশায় আশায় নববর্ষ
অনেক আশা নিয়ে মানুষ পরবর্তী বছর, পরের মাস, এমনকি পরের দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। ভাবে, হয়তো আগামী দিনটি সুখের দিন হবে, আগামী মাসটি সুখের হবে, আরও সুখের হবে আগামী বছর। এমনি করে দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। কারও জন্য হয়তো সুদিন আসে। অধিকাংশের জীবনে আবার জমতে থাকে হতাশার স্তূপ।

রাঢ়াঙ অভিযাত্রা: প্রেরণার ঝিলিক
কলকাতায় এসেছি। রাঢ়াঙ নাটকের এক অভিযাত্রায়। প্রদর্শনী শুরু হয়েছে কল্যাণী থেকে। উত্তরপাড়া, মধ্যমগ্রাম, বেলঘরিয়া হয়ে কলকাতায়। প্রতিটি প্রদর্শনী বিশাল বিশাল রঙ্গমঞ্চে। সেই সব জায়গায় একসঙ্গে ৮৫০ জন দর্শক নাটক দেখতে পায়। প্রতিটি জনপদেই একটি করে রঙ্গমঞ্চ। উপচে পড়া দর্শক। নাটক শেষে ছবি তোলার এবং অটোগ্রাফ নে

পরেশের খোঁজে
অনেক দিন পর দিনাজপুর যাচ্ছি। উদ্দেশ্য পরেশ মেলা। দিনাজপুরের গোলাপগঞ্জে তার বাড়ি। যুবক পরেশ দুর্ঘটনায় নিহত হয় বেশ আগে। সে ছিল ওই অঞ্চলের এক অসাধারণ পালাটিয়া শিল্পী। পালাটিয়া ওই অঞ্চলের এক লোকনাট্য আঙ্গিক। সংগীত, অভিনয়, নৃত্য সবটা মিলিয়ে গণমানুষের একটা প্রিয় শিল্প। পরেশ বাজাতে পারত, গাইতে পারত এবং নার

সময়ের সংকট, সুদূরের ভাবনা
রাজপথ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অতীতের সব আন্দোলনের মতোই হরতাল, অবরোধে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে আছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং অনিশ্চয়তা। গ্রেপ্তার, মৃত্যু, সহিংসতা এসবই তার অন্তর্গত। এ অবস্থায় আমরা যারা শীতকালে সংস্কৃতি উৎসবের আয়োজন করে থাকি, তারা একটা অনিশ্চয়তায় ভুগছি। নানান ধরনের অনুষ্ঠান এখনই

যাত্রাপথের চিন্তা
শুভ-অশুভ মিলিয়ে যাত্রা ক্লান্তিকর। সেই ওয়াশিংটন থেকে দোহা ১৩ ঘণ্টা। এরপর বিরতির পর সবটা মিলিয়ে ৭ ঘণ্টা। এর মধ্যে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে পরিচয়। যাওয়ার সময় একদলের সঙ্গে পরিচয়, যাঁরা যাচ্ছেন লাতিন আমেরিকা। তাঁদের লক্ষ্য, যাবেন কলম্বিয়া। ভাষা শিখেছেন, শিক্ষিত। কিন্তু সেখানকার লেখকদের, বিশেষ করে মারকেজ

বঙ্গবন্ধু এক গভীর স্মৃতিময় মানুষ
আজ ১৭ মার্চ। আজ থেকে ১০২ বছর আগে টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক লেখা, অনেক স্মৃতিচারণা দীর্ঘ সময় ধরেই প্রকাশিত হয়েছে। সে সবই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যে বিষয়গুলো...
