মোজাহিদুল ইসলাম একটি বই লিখেছেন। এই বই লিখেছেন বা বের করেছেন– বিষয়টি এখন বেশ ক্লিশে। একুশের বইমেলার সময় এলে অনেকেই এখন বই বের করছেন। তা তিনি লেখক হোন, বা না–ই হোন। সেদিক থেকে মোজাহিদুলের নামে বই বের হওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। কথা হলো, পাঠক হিসেবে কেউ এই বই কিনতে আগ্রহী হবেন কিনা। এ বিষয়টি নিয়েই এবার আলোচনা করা যাক।
শিরোনাম দেখেই বুঝতে পারছেন যে, এই লেখায় বইটি না কেনার বিষয়টিকেই কিঞ্চিৎ উৎসাহিত করা হবে। এর কিছু কারণও আছে। লেখক মোজাহিদুল ইসলাম নিজের প্রথম গল্পের বইয়ে নির্বাকের পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কথা হারিয়ে ফেলা মানুষের পাশ দাঁড়িয়ে থাকাটা বেশ যন্ত্রণার। যিনি কথা হারান, তিনি যেমন যন্ত্রণা ভোগ করেন, একটি বোবা পৃথিবীতে প্রবেশ করা আপাত সরব ব্যক্তিটিও তার থেকে ব্যতিক্রম হতে পারেন না। তাই ‘নির্বাকের পাশে’ শেষ করতে করতে পাঠকদেরও ঘুরে আসা হবে একটি বোবা পৃথিবীর পথঘাটে, যেখানে কথারা আসলে পুরোপুরি খেই হারিয়ে ফেলেছে। নৈঃশব্দ্যের সেখানে অবাধ রাজত্ব, মৌনতাই তাই পরম আকাঙ্ক্ষিত।
এই মৌনতার আপনি কোনো তল খুঁজে পাবেন না। যাদের ঘিরে আপনার নিজস্ব দুনিয়া গড়ে ওঠে, তারা যদি হুট করে একদিন নাই হয়ে যায়–তখন কেমন হবে? কী ভাবছেন, মৃত্যুর কথা তো? নাহ্, মৃত্যু নয়। প্রাণ পরিত্যাগের চেয়েও কঠিন আসলে যাপিত জীবনকে ছেড়ে যাওয়া। এর অর্থ হচ্ছে, ওই জীবনকাঠামোর সকল উপাদানকেই আপনি ত্যাজ্য করলেন। যিনি ত্যাজ্য করেন, তার তুলনায় যারা ত্যাজ্য হয়– তাদের মনোযন্ত্রণা সত্যিই ভিন্ন। সেখানে শুধুই শূন্যতা ভর করে। যদিও বিজ্ঞান বলে, দুনিয়ায় শূন্যস্থান বলতে কিছু নেই। কিন্তু মানুষের মন কি আর সব সময় বৈজ্ঞানিক সূত্র মেনে চলে!
মোজাহিদুলের গল্পগুলোতে এমন শূন্যতা আপনি হরেদরে পাবেন। সেই শূন্যতাকে যদি অস্বীকার করতে যান, তবে অবশ্যই আপনাকে অতিসত্বর নাসা’য় যেতে হবে! কারণ আপনি যে তখন এই গ্রহের প্রাণীই নন। নইলে আর মানবজীবনের এ অমোঘ সত্যকে উপেক্ষা করলেন কীভাবে? সে ক্ষেত্রে এমন নতুন প্রকরণের মানুষ নিয়ে গবেষণা হওয়াই উচিত। বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী তা সম্ভবও বটে।
তবে আমরা অনেকেই ভেতরে-ভেতরে পলায়নপর। পালিয়ে বেড়ানো আমাদের সহজাত প্রবৃত্তি। এটি দোষেরও কিছু নয়। পালিয়ে যদি ভালো থাকা যায়, আয়নায় নিজের চেহারার বদলে অন্য আদল দেখে খুশি থাকা যায়– তবে তা একেবারে বাতিলযোগ্য কোনো কাজ নয়। এভাবেই তো দুনিয়াটা চলছে এখন। যদি তেমনটাই থাকতে চান, নিজেকে না চিনেই পুরো জীবনটা কাটিয়ে ফেলতে চান– তবে ‘নির্বাকের পাশে’ কিনে সময় ও অর্থ নষ্ট করার কোনো মানেই নেই। সে ক্ষেত্রে আপনাদের প্রতি আমার একমাত্র পরামর্শ, এই বইটি কিনবেন না মোটেই। ধারেকাছেও যাবেন না একেবারে।
কারণ, মোজাহিদুলের ‘নির্বাকের পাশে’ পড়ার অর্থই হলো, এক বিষণ্ন বিকেলে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা আনমনে। সেই নিশ্চুপ দাঁড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য নেই, বিধেয়ও নেই। কে আর জ্ঞাতসারে মন খারাপের কালো মেঘের সাগরে খাবি খেতে চায়, বলুন! তা যতই আপনি তাকে আয়নার লোভ দেখান না কেন!
সুতরাং, বইমেলার ১৯০ নম্বর স্টলে ‘নির্বাকের পাশে’ পাওয়া গেলেও ওপরের বিষয়গুলোতে অ্যালার্জি থাকলে এই বই না কেনাই ভালো হবে। ভালোবেসে পরামর্শ দিলাম, বাকিটা আপনাদের মর্জি।

কবি রাজীব কুমার দাশের ‘সুখবতী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে তিনটি কবিতা আবৃত্তি করেন নূরুননবী শান্ত। এরপরে রাজীবের কবিতা নিয়ে দুটি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। নাট্যকার ও গবেষক শরণ এহসান ‘রাজীব দাশের নিরন্ন ললাট: কাব্যতত্ত্ব, সাহিত্যতত্ত্ব ও নন্দনতাত্ত্বিক পাঠ’ শীর্ষক প্রবন্ধ এবং গবেষক হাসান দবির উদ্দিন ‘প্রেম,....
৫ দিন আগে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আর্জেন্টিনার তরুণ সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ঐতিহাসিক সাক্ষাতের শতবর্ষ স্মরণে ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মঞ্চে এনেছিল ম্যাড থিয়েটার। ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’ নামের এ নাটক তাদের দ্বিতীয় প্রযোজনা। আগামী শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে একাদশবারের...
৭ দিন আগে
‘মৃত্তিকার সন্ধানে’ শিরোনামের দলীয় চিত্র প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে পরিবেশ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় বাস্তবতা। এর উদ্বোধনী হয়ে গেল শনিবার ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে। সাতজন শিল্পীর কাজ রয়েছে এখানে।
১২ দিন আগে
এম রহমান সাগরের সভাপতিত্বে আলোচনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, জাসাস বগুড়া জেলার সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ এবং উচ্চারণ একাডেমির সভাপতি অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার।
১২ দিন আগে